গত ২১ শে অক্টোবর সন্ধ্যয় আমি কিডন্যাপড হইছিলাম শাহাবাগের সামনে থেকে(কপাল আমার)। এসব নিয়ে অনলাইনে বলাবলির কিছু নাই। কিন্তু আজ ঐ মহিলার মৃত্যু আর এই একই কাহিনী গত ১ মাসের মধ্যে পরিচিত ৪-৫ জনের হওয়ায় ভাবলাম কিছু জিনিস শেয়ার করি।
।
এরা চেহারা দেখিয়েই যা করার করে, লুকাছুপার কিছু নাই। যা মনে হল, এদের নামে কোথাও অভিযোগ করেও কোন লাভ নাই। ধরার পর আমার চোখ, হাত-পা বেধে উত্তরা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়, ঐখানে যেয়ে চোখ খোলা হয়। আমাকে দিয়েই আমার বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনকে ফোন করানো হয়।
।
এরা প্রথমেই এটিএম কার্ড আর তার পিন নিয়ে নেয়। এরপর ফোন করায় বন্ধু-বান্ধব বা অফিসের কলিগদের। ফোন করার সময় লাউড স্পিকারে থাকে। বাসায় সবার শেষে ফোন করায় কারন জানে বাসা থেকে টাকা আসবেই। তো প্রথমেই যদি এমন কাউকে ফোন করা হয় যার কাছ থেকে ১০-১৫ হাজার পাওয়া যায়(কিডন্যাপের কথা বলা যাবেনা) তাহলে এরা বিশ্বাস করা শুরু করে যে আপনি ঝামেলা করবেন না। তাই এরপরে এমন কয়েকজনকে ফোন দিবেন যাদের কাছে চাইলেও টাকা পাওয়া যাবেনা।
।
সব শেষে ফোন করায় ফ্যামিলিতে। আমার অন্যান্য কথা বিশ্বাস করায় আমার বাবা গ্রামে থাকে, রিটায়ার্ড এই মিথ্যা কথাও তারা বিশ্বাস করে। তাই বাপের কাছে ফোন করা লাগেনাই। ৯৯% সত্যের সাথে ১% মিথ্যা বলে পার পেয়ে যাই। সব মিলিয়ে ৫০ দিয়ে ছাড়া পাই রাত ১১ টার দিকে। যদি কোনভাবে এরা বোঝে যে আপনার পরিবার একটু স্বচ্ছল টাইপের তাহলে এরা এদের গোডাউনে রেখে টাকা নেয়।
।
ঐ একই রুটে এরপরে জানতে পারলাম পরিচিত ৪ জনকে এই ভাবে নেয়া হইছে। ৫০ হাজার-৫ লাখ পর্যন্ত মুক্তিপন।
।
লোকগুলারে চেষ্টা করলেই ধরা যায়। যে নাম্বারে বিকাশ করা হইছিল সেই ৩ টা নাম্বার আছে। যে এটিএম এ ওরা আমার কার্ড পাঞ্ছ করছিল সেটাও চিনি-ভিডিও দেখা যাবে, আর চেহারা তো সবগুলার দেখাই আছে। কিন্তু কোন লাভ কি হবে? দেশে ১২ লাখ ভা্রতীয়, তাদের মাসে গড় বেতন হবে ২ লাখ, আর নিজের দেশের ছেলেরা বেকার হবে, রাজনীতি করবে, অপহরন করবে এইটাইতো নিয়ম। জয় বাংলা।
।
ঐ ৩ টা বিকাশ নাম্বারঃ
০১৯৮৬-৫৬৭-০৯৫, ০১৭৯৩-৪৬৮-১১২, ০১৯১০-১৩৭-৭৫৯
--Shahan Reza

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




