"সময়টা ৩ নভেম্বর-১৯৭৫ ...
"রাতে দাদু একা একা প্রচন্ড টেনশনে বারান্দায় পায়চারি করতে করতেছিল !! আর বিড়বিড় করে
কি জানি বলতেছিল !!! দাদুর কাছে যেতেই দাদু বলল,
দাদুঃ "এই জন্যেই ৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম পাকিস্থানী দানাদারদের বিরুদ্ধে !! দেশটা এখন
খালেদ মোশারফ ভারতের গোলামী শৃঙ্খলে আবদ্ধ করবে বলে !!??!!!
এই চিন্তা সে দিন সারা দেশের মানুষের ছিল !! সারা দেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব
নিয়ে চিন্তিত ছিল !! দেশের পতাকা খামছে ধরেছিল ভারতের উন্মত্ত শকুনের দল !!
ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ৩ নভেম্বর-১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর একটি উচ্চাভিলাষী দল সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে বন্দি করে এক সামরিক অভ্যুত্থান ঘটালে এ অবস্থার সৃষ্টি হয় !! আর এতে প্রতাক্ষ্য মদদ দেয় ভারত সরকার !!
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা "র" সে দিন খালেদ মোশারফ নামের এক ডেভিল তৈরি করেছিল !!
ভারতের পত্র পত্রিকায় এই সামরিক অভ্যুত্থানকে "ঐতিহাসিক ঘটনা" বলে রিপোর্ট ছেপেছিল !!
১৯৭১ সালে মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা শুনে এই জাতি মুক্তিযুদ্ধ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছিল!
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সকালে রেডিও থেকে ইথারের মাধ্যমে ভেসে আসা
"...আমি জেনারেল জিয়াউর রহমান বলতেছি/ জাতির আকাশ থেকে সংকটের অঘোম মেঘ কেটে গেছে ! . " এই কথা শুনে বাঙ্গালী মুক্তির আনন্দে রাস্তায় নেমে এসেছিল
৭ নভেম্বর সম্পর্কে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার
‘বাংলাদেশ এ লিগ্যাসি অব বাড’ বইয়ে লেখেন, ‘১৯৭৫ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বর
ক্যান্টনমেন্টসহ সারা শহরে ছড়ানো হলো হাজার হাজার প্রচারপত্র/ একটি ব্যাপারে ডান ও বাম
উভয় রাজনৈতিক দলই একমত ছিল, আর তা হচ্ছে খালেদ মোশাররফ একজন বিশ্বাসঘাতক,
ভারতের দালাল এবং সে ঘৃণিত বাকশাল ও মুজিববাদ ফিরিয়ে আনতে চাইছে/’৭ নভেম্বরের
ভোরের দিকে জওয়ানরা ব্যারাক থেকে বেরিয়ে পড়লে সারা ঢাকা শহরে এই ‘সিপাহী বিপ্লব
দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে/ রাত ১টার মধ্যেই সিপাহীরা পুরো ক্যান্টনমেন্ট দখল করে নিলো/ একদল
জওয়ান গেল জেনারেল জিয়ার বাসভবনে/ চারদিন বন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেন জেনারেল
জিয়া/ নৈশ পোশাক পরা অবস্থাতেই জিয়াকে উল্লসিত জওয়ানরা কাঁধে করে নিয়ে গেল ২ ফিল্ড
আর্টিলারির হেডকোয়ার্টারে/ ঘটনার আকস্মিকতায় তখন বিহ্বল হয়ে পড়েন জিয়া/ নাম না জানা
অনেক জওয়ানের সঙ্গে আলিঙ্গন, করমর্দন করেন তিনি/’
গ্রন্থটিতে আরো বলা হয়েছে,
‘রেডিওতে ক্রমাগত সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঘোষণা এবং জেনারেল জিয়ার ক্ষমতা দখলের
খবর শুনে হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে আসে/
তিন দিন ধরে তারা বিশ্বাস করছিল যে,ভারত খালেদ মোশাররফের মাধ্যমে তাদের কষ্টে অর্জিত
স্বাধীনতাকে বিপন্ন করছে/ এখন সেই দুঃস্বপ্ন কেটে গেছে/ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, ১৯৭১
সালের মার্চ মাসের মতো এদেশের মানুষ আবার জেগে উঠেছে/’৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা
অভ্যুত্থানে দেশবাসীর মনে সার্বভৌমত্বের গর্ববোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়/ রাষ্ট্রঘাতী চক্রান্তের মোকাবিলায় রাজপথে নেমে আসে জনতা/ এভাবে দেশবাসীর মধ্যে ঐ দিন যে স্বকীয়তা, স্বনির্ভরতা ও আত্মোন্নতির উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল, আজও তা জাতিকে প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে/ চলমান বিশ্বব্যবস্থার সংঘাতসঙ্কুল পরিস্থিতিতে ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের হুমকিতে তা পথ হারায়নি
৭ নভেম্বর ভোর রাতে রেডিও-তে "আমি জেনারেল জিয়া বলতেছি ...... " এই ঘোষণা শুনে
দাদু আনন্দে চিৎকার করে ওঠে / আমরা সবাই ঘুমে ছিলাম/ তার আনন্দ-উল্লাস দেখে আমরাও
দাদুর সাথে যোগ দেই !! একটা সময় লক্ষ্য করি দাদু চোখে পানি!!! এই অশ্রু মুক্তির ,
এই অশ্রু গোলামীর শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার
শুধু আমার দাদু না, এই অশ্রু ছিল সেদিনের আট কোটি বাংলাদেশী জনগণের ছিল /
সবার চোখেই আমি সেদিন আনন্দ অশ্রু দেখেছিলাম মুক্তির অশ্রু !!!
কার্টেসিঃ Hutum Akand

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




