
ছবি - আমি।
এই পৃথিবীতে যা কিছু কিউট সব কিছুই হারাম ও নিষিদ্ধ বলে দেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলিম দের মনে যুগের পর যুগ ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে মৌলবাদীরা। ঈদের সবচেয়ে কিউট দৃশ্য গুলোর মধ্যে একটি হলো মেয়েদের হাতে মেহেদি লাগানো। চাঁদরাতে বাসার সব মেয়েরা মেহেদি লাগায়। শেষ মুহুর্তের কেনা কেটা শেষ করে ঈদের স্পেশাল খাবারের ম্যানু প্রস্তুত করা তো আছেই। যে যার সামর্থ্য মতো রান্না করে।
এখন ডিজিটাল যুগ। সন্ধ্যা থেকে ফেসবুকের মাই ডে/স্টোরিতে সব মেয়েরা মেহেদি রাঙানো হাতের ছবি দিচ্ছে। দেখতে সত্যি সুন্দর দেখাচ্ছে। যেহেতু মেয়েগুলোর হাত পুরুষ দেখছে তাই মোল্লাদের দৃষ্টি কোন থেকে বিষয়টি খুবই খারাপ। অথচ এটা এক অভিনব দৃশ্য। একটা ছবি দেখলাম একটা পরিবারের মা তার দুই মেয়েকে মেহেদি লাগিয়ে দিচ্ছে।এই পোস্টটি যখন লিখছি আমার 'পুতুল' টাকেও তার মা মেহেদী লাগিয়ে দিচ্ছে।
গ্রামের বাড়িতে এসেছি। শহর থেকে বেশ কিছু মেহেদী আনা হয়েছে। গ্রামের ছোট ছোট মেয়েরা আসে বাড়িতে অনেক শখ করে। তাদেরকেও মেহেদি লাগিয়ে দেয়া হয়। মেহেদি লাগানো শেষ হলে শিশু গুলোর আনন্দ দেখার মতো।
দু:খ কষ্টে অভাবে অনটনে জর্জরিত আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ হাসতে ভুলে গেছে সেই কবে। হোক না এই ছোট ছোট সেলিব্রেশন গুলো। একটু হাসুক সবাই। মোল্লাদের কি ক্ষতি তাতে! দূরের একটি বাড়িতে উচ্চস্বরে গান বাজছে। মোল্লারা আমাদের সাধারণ ধর্মভীরু মানুষ গুলোর মনে অনেক আগে থেকে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে যে গান শোনা হারাম। গান শোনলে কেয়ামতের দিন লোহার শিক গরম করে এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে নাকি আল্লাহ অন্য কান দিয়ে বের করবে। অথচ একটু গান শোনে মানুষ যদি একটু প্রশান্তি পায় এদের কোন ক্ষতি হয়না।
আগামীকাল সব মেয়েরা ঈদের নতুন জামা পড়ে ছবি আপলোড দিবে। জাস্ট ছবি গুলো আপলোড দেয়া বাকি মোল্লারা সাথে সাথে তাদের জাহান্নামী কাফের নাস্টেক ঘোষণা করতে দেরী নেই। মেয়েদের পুরুষের সামনে (ভাই মামা চাচা হলেও) প্রাণ খোলে নি:শ্বাস নেয়া কোনদিন হারাম ঘোষণা করা আল্লাহ মালুম।
যাই হোক আল কায়দা ওরফে জামাত হেফাজত (যদি থাকে) ছাড়া ব্লগের সবাই জানাই পবিত্র 'ঈদুল ফিতরের' শুভেচ্ছা| সবার ইদ কাটুক অত্যন্ত আনন্দে। সকলের পরিবার পরিজন শান্তিতে থাকুক। এটাই প্রত্যাশা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



