
ফেসবুকিং - এমন একটি আধুনিক টেকনিক যা আয়ত্ব করতে আমাদের অনেক স্মার্ট হতে হয়। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর থেকে শুরু করে ডাক্তার, কম্পিউটার ইন্জিনিয়ার যেমন আছেন; তেমন আছেন ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো শিক্ষিত ছেলে-মেয়েরা। তো ফেসবুকে এই রাতারাতি স্মার্ট বনে যাওয়া ছেলেমেয়েরা কি করেন? ফেসবুকের অর্থ থেকেই অনুধাবন করা যায়। খোমা-খাতা। ছেলে-মেয়েরা নিজের চেহারা দেখান। "আমাকে এখন কেমন দেখাচ্ছে?" - টাইপের। আরও আছে। তিনারা স্টেটাস দেন। "আমি এখন টয়লেটে"; অর্থ - ডিসটার্ব করিস না; অনেক গুরুত্বপুর্ন কাজ করছি। আরও কি কি করেন এই ফেসবুক দিয়ে? নামে বেনামে পেইজ খোলেন। কার কার কোষ্ঠ-কাঠিন্য হয়েছে টাইপের ফিরিস্তি থাকবে সেখানে। "চেট" (বাংলা গালি বলে ভুল করবেন না) নামে এক টুল আছে; জগতের সমস্ত অপ্রয়োজনীয় আলাপ রসিয়ে রসিয়ে বলে দিন শেষ করে দেন।
বনাম
স্মার্ট টাইপিস্ট - ২০০০ সালে কোন এক মন্ত্রি (নাম মনে নেই); উপমহাদেশ সফর শেষে বাংলাদেশে এসে ঘোষনা দিলেন - "আমাদের ১০ লাখ স্মার্ট টাইপিস্ট লাগবে"। পত্রিকার আইটি পাতায় খবর বের হল অনেক বড় হেডিং করে। কিছু আইটি মেগাজিন এটাকে ফিচার করে সেই মাসের মেগাজিন বের করল। তখন এত খবর বোঝার মত মাথা ছিলনা। কয়েক বছরের মধ্যে যখন বুঝতে পারলাম তখন সেই মন্ত্রির উপর চরম রাগ হল। আরও কত সুন্দর সুন্দর নামের প্রফেশন আছে। এত কিছু থাকতে টাইপিস্ট? (মন খারাপ করার ইমো হবে)
যাই হোক, ১৫ বছর পরে আজকের প্রেক্ষাপট সত্যিই দেখার মত। যদি টাকার মুল্যমানে বিচার করি, ঐ অর্ধশিক্ষিত, ক্লাস এইট পাস টাইপিস্ট রা মাসে ১০,০০০ টাকা আয় করেন। স্মার্ট(!) ফেসবুকাররা ফেসবুকিয়ে কত আয় করেন? স্মার্ট ফেসবুকারদের স্মার্ট করে গড়ে তুলতে বাপ-মায়ের, সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
স্মার্ট টাইপিস্ট দের সালাম।
[শুধু আমার সাথে সহমত জানানোর জন্য কমেন্ট না করার অনুরোধ রইল। এরপরও যদি করে ফেলেন তাহলেও সমস্যা নেই।]
[ছবি: গুগোল করে]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

