somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খুতবাহ্‌

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো; মদ, জুয়া, পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্নায়ক শর হচ্ছে ঘৃণিত শয়তানের কাজ, অতএব তোমরা তা বর্জন করো, আশা করা যায় তোমরা মুক্তি পাবে। তোমাদের যখন অভিবাদন বা দোয়া করা হয় তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন করবে অথবা সেইরুপ; নিশ্চই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে নিসাব গ্রহনকারী। এবং ওজনে ন্যায্য মান প্রতিষ্ঠা কর এবং ওজনে কম দিও না। ভাল কাজে তোমরা প্রতিযোগিতা করে অগ্রসর হও, রবের কাছে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও; যার বিশালতা ও বিস্তৃতি আকাশ ও পৃথিবীর ন্যায়। আর তোমরা খাও, পান কর, কিন্তু অপচয় করো না; আল্লাহ অপচয় কারীকে পছন্দ করেন না। তোমরা কি মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দাও যা তোমরা নিজেরা কর না? অথচ তোমরা কোরআন পাঠ কর তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না? আর তোমরা পরিবার বর্গকে সালাতের আদেশ দাও এবং তুমি এ ব্যাপারে অবিচল থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জন্তু হচ্ছে সেই সব বধির লোক যারা জ্ঞান বুদ্ধিকে কাজে লাগায় না। তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক অবশ্যই থাকবে যারা মানব জাতিকে কল্যানের পথে আহবান জানাবে, সৎ কাজের আদেশ দেবে অসৎ কাজে বাধা দেবে, আর তারাই হবে সফলকাম। তোমরা তোমাদের নিজ ঘর ছাড়া অন্য ঘরে অনুমতি ব্যতিত প্রবেশ করো না এবং গৃহবাসীদের সালাম দাও; সেই গৃহে কাওকে পাওয়া না গেলে অপেক্ষা কর; এটাই তোমাদের জন্য ভাল, যদি তোমরা উপদেশ গ্রহন কর। নিজেদের সমগ্রিক ব্যাপার পরস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন করো। তোমরা সেই সব লোকদের মত হয়োনা য়ারা বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নির্দেশ পাওয়ার পরও মতবিরোধে লিপ্ত হয়ে রয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা। হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো, বেশি বেশি স্মরণ; আর তার তাসবিহ করো সকাল ও সন্ধ্যায়। তওবা তাদের জন্য নয়, যারা আজীবন পাপ কাজ করে বেড়িয়েছে অবশেষে মৃত্যু উপস্থিত হলে বলে 'আমি এখন তওবা করছি'; আর তওবা তাদের জন্যও নয়, যাদের মৃত্যু হয় কাফের অবস্থায়। হে বিশ্বাসীগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর। কথায় কে উত্তম ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা যে অল্লাহর প্রতি মানুষকে আহ্বান করে, সৎকর্ম করে এবং বলে "আমি তো অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত। হে বনী আদম, প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোষাক পরিধান কর। এবং সালাত আদায় কর। হে মুমিনগণ! আত্নসংশোধন করাই তোমাদের কর্তব্য; তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও; তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। আল্লাহ সুদকে না করেন এবং দানকে বহু গুনে বাড়িয়ে ফেরত দেন; আল্লাহ কোন অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালোবাসেন না। হে মুমিনগন! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ্য রাখে যে, আগামী দিনের জন্য সে কি আগাম পাঠিয়ে দিচ্ছে। হে নবী! মুমিন পুরূষদের বলে দিন, তারা যেন নিজেদের চোখকে বাঁচিয়ে চলে এবং নিজেদের লজ্জা স্থান সমুহের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য উত্তম। আর তারা যা করে আল্লাহ সে বিষয়ে অবগত। হে নবী! মুমিন স্ত্রী লোকদের বলে দিন, তারা যেন নিজেদের চোখকে বাঁচিয়ে চলে এবং নিজেদের লজ্জা স্থান সমুহের হেফাজত করে ও নিজেদের সাজ সজ্জা প্রকাশ না করে। হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রী, মেয়ে ও সাধারন মোমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদর নিজেদের ওপর টেনে নেয়, এতে করে তাদের সম্ভ্রান্ত হিসেবে চেনা সহজ হবে এবং তাদের কোনরকম উত্ত্যক্ত করা হবে না, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

হে আল্লাহ, হে পরম দয়ালু, হে পরম করুনাময়, হে সার্বভৌম মালিক , হে পবিত্র, হে শান্তির আধাঁর, হে ঈমান দানকারী, হে রক্ষাকারী, হে শক্তিমান/শক্তিশালী, হে বাধ্যকারী, হে মহিয়ান/মর্যাদাবান, হে সৃষ্টিকর্তা, হে উদ্ভাবক, হে রুপকার, হে ক্ষমাশীল, হে আধিপত্যকারী, হে মহান ও স্থায়ীদাতা, হে জীবিকা দাতা, হে উদ্বোধনকারী, হে সর্বজ্ঞ, হে সংকোচনকারী, হে সম্প্রসারণকারী, হে মান-মর্যাদাহ্রাসকারী, হে উন্নতিসাধনকারী, হে মর্যাদা দানকারী, হে অপমানকারী, হে সর্বশ্রোতা, হে সবকিছু প্রত্যক্ষকারী, হে বিচারক, হে ন্যায়পরায়ন, হে সূক্ষদর্শী, হে সতর্ক/অবগত, হে ধর্যশীল, হে মহান, হে অপরাধ ক্ষমাকারী, হে গুণগাহী, হে সর্বোচ্চ, হে সর্ববৃহৎ, হে সংরক্ষনকারী, হে অভিভাবক, হে হিসাব নিকাশ গ্রহণকারী, হে সুমহান, হে কৃপাশীল, হে তদারককারী, হে আহ্বানে সাড়াদানকারী, হে অনুগ্রহদানকারী, হে জ্ঞানী, হে প্রেমময়, হে মহিমাময়, হে পুনরুত্থানকারী, হে সাক্ষী, হে সত্য, হে তত্ত্বাবধায়ক, হে মহাশক্তিশালী, হে সর্বশক্তিমান, হে রক্ষাকারী বন্ধু, হে প্রশংসার যোগ্য, হে মহা হিসাব গ্রহণকারী, হে উৎপাদনকারী, হে পুনরুদ্ধারকারী, হে জীবনদাতা, হে মৃত্যুদানকারী, হে অমর, হে আত্ননির্ভর, হে অনুসন্ধানকারী, হে একক, হে অদ্বিতীয়, হে অমুখাপেক্ষী, হে সর্বশক্তিমান, হে ক্ষমতাবান, হে দ্রুত শ্রবনকারী, হে
বিলম্বকারী, হে সর্বপ্রথম, হে সর্বশেষ, হে প্রকাশমান, হে অপ্রকাশ্যমান, হে অভিভাবক, হে মর্যাদাবান, হে মহাকল্যানময়, হে অনুশোচনা গ্রহনকারী, হে প্রতিফলদাতা, হে ক্ষমাশীল, হে সহানুভূতিশীল, হে সার্বভৌমত্বের চিরন্তন মালিক, হে করুনা ও দানশীলতার প্রভু, হে নিরপেক্ষ, হে সংগ্রহকারী, হে স্বয়ংসম্পূর্ণ, হে সমৃদ্ধশালী, হে সংরক্ষণকারী, হে ক্ষতি সাধনকারী, হে শান্তকারী, হে আলো, হে পথপ্রদর্শক, হে অতুলনীয়, হে চিরস্থায়ী, হে সর্বোচ্চ উত্তরাধিকারী, হে সঠিক পথ প্রদর্শক, হে ধৈর্যশীল; আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং নিস্ক্রান্ত করাও কল্যাণের সাথে এবং তোমার নিকট হতে আমাকে দান করো সাহায্যকারী শক্তি। আমিন।।


[ছবি - গুগোল করে]



সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৩৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র।। দ্বীপ সরকার

লিখেছেন দ্বীপ ১৭৯২, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০



দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র

একদা এক রাতে-
রাষ্ট্র, কড়া নাড়তে নাড়তে দরজা ভেঙ্গে
ঢুকে পড়লো
আমি নিথর,নিস্তব্ধ এক জনগণ
বললাম,আমি ভয় পাচ্ছি
রাষ্ট্র হাসতে হাসতে ভাঙ্গা দরজা দিয়ে
এক পা দুই পা করে,লোকালয়ে মিশে গেলো

রাষ্ট্র কি ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×