somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রমযানঃ জরুরী কিছু মাসায়েল

০১ লা জুলাই, ২০১৪ সকাল ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুসলিম উম্মাহর এক অন্যতম আনন্দঘন মুহূর্ত হোল মাহে রমযান। ইসলামি সংস্কৃতির সুমহান নির্দেশনা এতে। মানব মনের কলুষতা মুক্ত জীবন ও গুনাহ মাফের অপার অনুগ্রহ এ মাস। বৈচিত্র্য ভেদে রোযা ফরজ (আবশ্যক) ছিল এক আল্লাহতে বিশ্বাসী প্রতিটি উম্মাহর (জাতি) উপরে। আল্লাহ তা’আলা বলেন (1)يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا الَّذِينَ كُتِبَ عَلَى مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿البقرة: ١٨٣
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার। (২: ১৮৩)
পরিশুদ্ধ জীবন গঠনের এ মাস পেয়েও যারা পরিবর্তন হতে পারলনা তাদের ধ্বংস অনিবার্য। রাসুল সঃ বলেন “ যে রমযান মাস পেল অথচ তার গুনাহ মাফ করে নিতে পারলনা সে ধ্বংস হোক।” (বোখারি,আল আদাবুল মুফরাদ-৬৪৬)

দেখা যায় আমরা অনেকি রমযান মাস পেয়েছি এবং গুনাহ মাফের প্রস্তুতিও নিচ্ছি কিন্তু না জানার কারনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুল করে ফেলছি। তাই সাধারন পাঠকদের উদ্দেশে কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসায়েল বর্ণনা করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ্‌।

০১। চাঁদ দেখে রোযা রাখা ও ছাড়াঃ- নিজ ভূখণ্ডের মধ্য থেকে নিজে অথবা বিশ্বাসযোগ্য কোন একজন মুসলিমের চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দানের মাধ্যমে রোযা রাখতে হবে এবং ছাড়তে হবে। (বোখারি-১৯০০)

উল্লেখ্য যে, ইদানীং কালে কিছু ফেতনার আবির্ভাব হয়েছে যে, সওদি আরবের সাথে রোযা রাখবে এবং ঈদ করবে। যে ব্যাপারে তাদের খোঁড়া যুক্তি শরীয়তের দলিলের কাছে মোটেই টেকেনা। বরং নিজ ভূখণ্ডের ব্যাপারে স্পষ্ট দলীল বিদ্যমান। ( মুসলিম- ১০৭৮,আশরাহুল মুমতে ৬ এর ৩২১-৩২২ আল উসাইমেন)

০২। নিয়ত ছাড়া রোযা হবেনাঃ-
সেহেরী খাওয়ার পূর্বেই নিয়ত করতে হবে নচেৎ রোযা রাখলেও তা আদায় হবেনা বরং কাজা আদায় করতে হবে। তবে হ্যাঁ রমযান মাসে নিয়ত না করে কেও রোযা রাখলে তার সে দিনের রোযা হবেনা বটে কিন্তু সারাদিন রমজানের সন্মানারথে কিছু খাওয়াও যাবেনা। (সহিহ আত তিরমিজি-৭৩০)

জ্ঞাতব্য যে, নিয়ত মানে সংকল্প। মনের মধ্যে ধারনা থাকলেই চলে। মুখে আরবি কিম্বা বাংলায় কোন কিছু উচ্চারণের প্রয়োজন নাই।

০৩। সাহারিঃ-
 দ্রুত ও বিলম্বে খাওয়া অভয়টাই সুন্নত। ফজরের সাদা রেখা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত এর শেষ সময়। ( কুরআনঃ২-১৮৭, বুখারি-৫৫২)

 হাতে খাবার প্লেট অথবা ঘুম থেকে এমন সময় উঠেছে যখন আজান দিচ্ছে, তখনো পেট পূর্ণ করে খাবে এতে দোষ নেই। (আবু দাউদ ২৩৫০, বায়হাকি ৪-২১৮ সহিহ)

 ঘুম থেকে দেরিতে উঠার পর জানা গেলো আজান হয়ে গেছে, তখন আর খাওয়ার সুযোগ নেই। কেও আজানের পর খেলে রোযা ভেঙ্গে যাবে, কাজা আদায় করতে হবে, তবে সারা দিন কিছু খাবেনা।

 সামান্য কিছু হলেও সাহারিতে খেতে হবে। নচেৎ রোযা হবেনা। তবে অসুস্ততা বা অজ্ঞাতসারে না খেলেও রোযা পূর্ণ হবে ভাঙ্গা যাবেনা। ( মুসলিম ১৯৬)

 রাতে যে কোন কারনে অপবিত্র হয়ে গেলে সে অবস্থায়ও সাহারি খাওয়া জায়েজ আছে। তবে সাহারির পরে হলেও যথাদ্রুত পবিত্রতা অর্জন করা উত্তম। ( মুসলিম ১১১০)

০৪। ইফতারিঃ-
ইফতারি দ্রুত করাই উত্তম অথচ আমাদের সমাজে এক ধরনের প্রচলন আছে যে, ইফতারিতে সময়ের পরেও হাতে ৫ মিঃ সময় রাখা এবং সাহারিতে সময়ের ৫মিঃ পূর্বেই আজান দেওয়া। যা একধরনের বিদআত (শরীয়তে নতুন নতুন কিছু আবিষ্কার। বিদআতে অভ্যস্তরা জান্নাতে প্রবেশ করবেনা। সহিহ মুসলিম ৮৬৭) বুখারি-১৮৫৬

প্রথমে খেজুর ও পানি দিয়ে রোযা ছাড়াটাই উত্তম। (আবু দাউদ ২৩৫৭ সহিহ)

 কিছুই না পারলে বিসমিল্লাহ বলে খানা শুরু করবে। পারলে নিম্নক্ত দোআ পাঠ করবে
« ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ».
“পিপাসা নিবারিত হল, শিরা উপশিরা সিক্ত হল এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পুরস্কারও নির্ধারিত হল।” [সুনান আবূ-দাউদ: ২৩৫৯, সহীহ]
অপর বর্ণনায় যে এসেছে
«اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ »
“হে আল্লাহ! তোমার জন্য রোযা রেখেছি, আর তোমারই রিযিক দ্বারা ইফতার করছি।” [সুনান আবু দাউদ :২৩৫৮] আমল যোগ্য – আলবানী।

০৫। তারাবীহঃ-
২০ রাকাত এবং বিতের সহ ২৩। অথবা ৮ রাকাত এবং বিতের সহ ১১। উভয়টাই জায়েজ যা সহিহ রেওয়াতে ( সুত্রে) বর্ণীত। তবে রাসুল সঃ এবং সাহাবায়ে কেরাম এই ছলাতটি দীর্ঘ সময় নিয়ে আদায় করতেন। কখনো রাকাত সংখ্যা কমিয়ে অথবা বারিয়ে (বুখারি ৯৯০,১১৪৭)

অথচ এনিয়ে আমাদের সমাজে যা ঘটে তা সত্যিই দুঃখ জনক। জ্ঞানের স্বল্পতা এবং গোঁড়ামি ছাড়া বৈ কি।

 মহিলারাও এই ছলাতে পুরুষদের পিছনে জামায়াতে অংশ নিতে পারবে। আলাদা জামাত করতেও দোষের কিছু নাই। তাদের মধ্য থেকেই একজন ইমাম হবেন, যিনি কিনা তাদের কাতারেই দাঁড়াবেন পুরুষদের মতো সামনে দারাবে না।

উল্লেখ্য যে পুরুষ ও মহিলার ছলাতে এতটুকুই পার্থক্য । অন্যকোন পার্থক্য বলে সমাজে যা প্রচলিত আছে তা সম্পূর্ণই বিদআত।
আল্লাহ পাক আমাদের সঠিক পথ দান করুক, আমীন। - চলবে ......

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০১৪ সকাল ১১:০১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×