somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন
সর্বনিম্ন মজুরীর হার নির্ধারণ, মজুরী পরিশোধ, শ্রমিক নিয়োগ, কার্যকালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের জখমের জন্যে ক্ষতিপূরণ, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্ক, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শিল্প বিরোধ উত্থাপন ও নিষ্পত্তি, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও চাকুরীর অবস্

বার্ষিক ছুটি এবং ছুটি

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পারিশ্রমিকসহ ছুটি/বার্ষিকছুটি
শ্রমিকের বয়স এবং শিল্পকারখানা এবং একই ধরণের অন্যান্য সীমাবদ্ধতার উপর ভিত্তিতে বার্ষিক ছুটির অনুমোদন পরিবর্তন নির্ভর করে।
একটি প্রতিষ্ঠানে সব শ্রমিকদের বার্ষিক ছুটি পাওয়ার যোগ্য হওয়ার জন্য শেষ ১২ মাসের মধ্যে কমপক্ষ্যে ২৪০ দিন সেবা প্রদান করে একটানা ১ বছর কাজ করতে হবে। এই ১ বছরের সেবাকে যেকোনো ধরণের কর্মবিরতি, পারিশ্রমিক সহ ছুটি, দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার কারনে পারিশ্রমিক সহ/ ছাড়া ছুটি, ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত মাতৃত্বকালীন ছুটি, ছাঁটাই বা আইনী ধর্মঘট বা কারবার স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও ধারাবাহিক ভাবে নেওয়া হবে। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক পারিশ্রমিকসহ এক দিন বার্ষিক ছুটি পাওয়ার যোগ্যতা রাখেঃ ১৮দিন কাজ করার জন্য (দোকান, বান্যিজ্যিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠান, কারখানা বা সড়ক পরিবহন সেবার ক্ষেত্রে), ২২দিন কাজ করার জন্য (চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য), এবং ১১দিন কাজ করার জন্য (পত্রিকাতে কাজ করার জন্য)।
একজন কিশোর শ্রমিক (১৬-১৮ বছর বয়সী) ১দিন পারিশ্রমিক সহ ছুটি পাওয়ার অধিকার রাখেঃ প্রতি ১৫দিন কাজের জন্য(কারখানার শ্রমিক), প্রতি ১৮দিন কাজের জন্য (চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য), এবং প্রতি ১৪দিন কাজের জন্য (দোকান বা বান্যিজ্যিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক)। রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরন এলাকার শ্রমিকদের পূর্ববর্তি ১২ মাসের প্রতি ২২ দিন কাজ করার জন্য ১দিন মজুরীসহ ছুটি নেয়ার অধিকার আছে।
বার্ষিক ছুটি অন্য যেকোনো সময়ে অন্য ছুটির সাথে নেয়া যেতে পারে।
এক বছরের মধ্যে জমাকৃত ছুটি পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে নেয়া যেতে পারে, শর্তসাপেক্ষে যে যেকোনো ছুটি পরবর্তী বছরের সাথে যোগ হয়ে সর্বোচ্চ ৪০,৬০ বা ৮০ দিনের মত অনুমদিত হবে। জমাকৃত এই অনুমোদিত ছুটি পরবর্তী বছরে যোগ করে প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ৪০ দিন পর্যন্ত শিল্প কারখানা বা সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের, এবং ৬০ দিন পর্যন্ত চা বাগান, দোকান, বান্যিজ্যিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য নেয়া যাবে।
কিশোর শ্রমিকদের ক্ষেত্রে জমাকৃত এই ছুটি শিল্প কারখানা বা চা এর দোকানের পরবর্তী বছরের ৬০ দিন পর্যন্ত এবং দোকান বা বান্যিজ্যিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৮০ দিন পর্যন্ত নেয়া যাবে। রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের শ্রমিকদের বার্ষিক এই ছুটি পরবর্তী ৩০ দিন পর্যন্ত নেয়া যাবে। কোম্পানির স্বার্থে যদি কোন শ্রমিক ছুটি না নেয়, সে ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা আর্থিকভাবে সেই শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে।
বার্ষিক ছুটিকে বিভিন্ন সময়ের মধ্যে বিভক্ত করা যেতে পারে, তবে শ্রম আইন অনুসারে এইটাও উল্ল্যেখ করা যেতে পারে যে একই সময়ে বার্ষিক ছুটি নেয়ার জন্যে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে ৪ দিনের কম নয় এবং কিশোরদের জন্যে ৫ দিনের কম হতে পারবে না।
বার্ষিক ছুটি নেয়ার এই সময় সীমার মধ্যে, শ্রমিককে তার মহার্ঘ ভাতা, বর্তমান প্রয়োজনমত বা অন্তর্বর্তীকালীন (যদি থাকে) ভাতা সহ পূর্ণ সময়ের দৈনিক মজুরী দিতে হবে, তবে এর মধ্যে থেকে বোনাস এবং ওভারটাইম বাদ হবে।
ছুটি শুরু হওয়ার আগে থেকে শ্রমিকের পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে, যেখানে পারিশ্রমিক প্রদানের সময় হলঃ প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে ৪ বা তার অধিক দিন এবং কিশোরদের ক্ষেত্রে ৫ বা তার অধিক দিন।
বার্ষিক ছুটি ছাড়া সকল শ্রমিকদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১ বছরের মধ্যে ১০দিন নৈমিত্তিক ছুটির অনুমোদন রয়েছে, শুধুমাত্র চা বাগানের শ্রমিক ব্যতীত।
(শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১৪,১১৫,১১৭ ও ১১৯, সংশোধিত ২০১৩, ১৯৮৯ সালের বেপযা নিয়মাবলী নং.১ এর ধারা ১১)
সরকারী ছুটিতে পারিশ্রমিকের হার
প্রত্যেক শ্রমিককে প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে ১১ দিনের পারিশ্রমিকসহ ছুটি মঞ্জুর করতে হবে। বাংলাদেশে সাধারণত ধর্মীয় এবং স্মৃতি বার্ষিকী স্বরূপ দুই ধরনের সরকারী ছুটি প্রচলিত আছে। ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (১২ই রবিউল আউয়াল এ হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর জন্ম বার্ষিকী), আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস (২১শে ফেব্রুয়ারি), স্বাধীনতা দিবস (২৬শে মার্চ), বাংলা নববর্ষ (১৪ই এপ্রিল), মে দিবস (১লা মে), বৌদ্ধ পূর্ণিমা (প্রথাগত চন্দ্র পঞ্জিকা দ্বারা নির্ধারিত), শবে-বরাত, লাইলাতুল কদর, ঈদ-উল-ফিতর (ইসলামিক রমজান মাসের শেষে ৩দিন), জাতীয় শোক দিবস (১৫ই আগস্ট), কৃষ্ণ জন্মঅশ্তহমি (১৭ই আগস্ট), বিজয়া দশমী/ দুর্গা পূজা, ঈদ-উল-আযহা (১০ই জিলহজ্জ, ৩দিন), আশুরা(১০ই মহররম), বিজয় দিবস (১৬ই ডিসেম্বর) এবং বড়দিন (২৫ই ডিসেম্বর)।
সরকারী ছুটির দিনগুলোতে, শ্রমিকদেরকে তাদের মহার্ঘ ভাতা এবং এড-হক অন্তর্বর্তীকালীন পারিশ্রমিক সহ (যদি থেকে থাকে) সম্পূর্ণ দৈনিক মজুরী প্রদান করা হবে, তবে এর থেকে ওভারটাইম ভাতা এবং বোনাস বাদ থাকবে।
(শ্রম আইন ২০০৬, ধারা ১১৮, ১১৯, সংশোধিত ২০১৩)
সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিন
কোন দোকান অথবা বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বা শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি সপ্তাহে সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে একদিন সম্পূর্ণ এবং আধা বেলার/ দেড় দিনের ছুটি নিতে পারবে। কারখানা এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে(একই সাথে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায়)একজন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক একটি সম্পূর্ণ দিন (২৪ ঘণ্টা একসাথে কাজ করার পর) ছুটি হিসেবে নিতে পারবে। এই ধরণের ছুটির দিন গুলোর জন্য শ্রমিকের পারিশ্রমিক থেকে কোন কিছু বাদ দেওয়া হবে না। শুক্রবার এবং শনিবারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে ধরা হয়। (শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১০৩ এবং ১১৪, সংশোধিত ২০১৩)।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×