বলাকা সিনেমা হলের দরজা দিয়ে নিষাদ-নিনিতের হাত ধরে বের হয়ে আসতেই এক বিখ্যাত সাপ্তাহিকের সুপরিচিত সাংবাদিক আনিসুল হোসেনের সামনে পড়ল। আনিসুল কিছু বলার আগেই করার আগেই শাওন তার স্বভাবসুলভ জগৎহেলানো হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করল - আনিসুল ভাই কেমন আছেন? উত্তরের অপেক্ষা না করে উচ্ছ্বসিত হয়ে শাওন কথা চালিয়ে গেল - ফারুকি ভাই আমাকেতো প্রায় কাঁদিয়ে দিয়েছিলেন। তার বরাবরের মতো অসাধারন মেকিং আর ইরফান খানের জাদুকরি অভিনয়ে প্রায় ডুবেই গিয়েছিলাম। বার বার হুমায়ুন আহমেদকে মনে পড়ে যাচ্ছিলো। আর তিশার অভিনয়ে মনে হচ্ছিল, আসলে আমার মাঝেই আরো অনেক ঘাটতি ছিল। এ সময় আনিসুলের কেন জানি সন্ধেহ হল শাওনের চোখ কিছুটা ভেজা। যদিও পরক্ষনেই এই ধারনা বাতিল করে দিল। কোথায় যেন পড়েছিল - মায়াবতীদের চোখে হালকা সমস্যা থাকে। চোখের পাতা সবসময়ই একরকম ভালোবাসার আর্দ্রতা সিক্ত হয়। এটাকে অন্য কিছু ভাবার কোন কারন নাই।
শাওন আরো যোগ করল - আমি বাংলাদেশ ছাড়া ইন্ডিয়া বা উপ-মহাদেশের কোন অভিনেতার ফ্যান নই কিন্ত হাইওয়ে মুভিটা দেখার পর থেকে আমি ইরফানের ভক্ত হয়ে গেছি। ডুব দেখে মনে হয়েছে হুমায়ুন আহমেদ নিজে এই ছবির পরিচালক হলে মুল চরিত্রের জন্য তার যায়গাতে একমাত্র ইরফানকেই সিলেক্ট করতেন। আমার ভক্ত আর যার হুমায়ূন আহমেদকে যারা ভালোবাসেন তাদের প্রতি বলছি - আপনারা এই ছবি অবশ্যই দেখবেন, হলে গিয়ে দেখবেন। আর ফারুকি ভাই - আপনি হাজার বছর বাচুঁন, আরো কয়েকশত ডুব বানান। আমরা আছি আপনার অনন্ত শুভকামনায়।
শাওন দুইছেলের হাত ধরে পার্কিংএর দিকে রওনা হল।
আনিসুল কিছুটা বিগলিত। সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে, আজ আর কোন কাজ করবে না। পরের শো'তে ডুব দেখবে। টিকেট না পেলে মেঝেতে বসে দেখবে।
# পাদটীকাঃ
ঘটনাটা উপরের মতো ঘটে নাই। শাওন সেন্সরবোর্ডে কমপ্লেন করে মুভির রিলিজ পার্মিশন বন্ধ করে দিয়েছে। বক্তব্য - অনেক ঘটনাই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভাই, এইটা মুভি। রিয়েল লাইফ শো বা বায়োগ্রাফির ওপরে ডকুমেন্টারী না। আসলের সাথে পরিচালক কিছুটা তার আবেগকে মেশাবেন। এটাই স্বাভাবিক।
মোস্তফা সারয়ার ফারুকীর ব্যাচেলর আমার দেখা সবচেয়ে বাজে মুভির একটা। কয়েকবার দেখার চেষ্টা করেছি, শেষ করতে পারি নাই কখনো। টেলিভিশন হয়তো কিছুটা ছিল। ঘটনা যাই হোক না কেন ফারুকীর নতুন মুভি "ডুব" ব্যাচেলর-এর মতোই হয়তো কিছু একটা হতো অথবা তার থেকে একটু বেশি বা একটু কম কিছু। এ রকম অনেক মুভিই সামনে হবে, কি যায় আসে।
হুমায়ূন আহমেদ অনেক বড় একটা জিনিস। তাকে ছোট করা যায় না। শাওন সেটা পেরেছে।
# এএইচএম আহসান হাবীব।
সন্ধ্যা ০৭ঃ৪৫, ১৮-ফেব্রুয়ারী-২০১৭
অটিজম ট্রিটমেন্ট সেন্টার, সেক্টর-৭
ঊত্তরা, ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



