কি দরকার ছিল নাইনটিন সেভেন্টি ওয়ানের ???
বেশ কিছু প্রশ্ন মস্তিষ্কের ভিতরে কোন ভাবেই হজম হচ্ছেনা, যা বারবার ছাইচাপা আগুনের ন্যায় জ্বলে উঠতে চায়, বৃথা চেষ্টা সে করেই যাচ্ছে।
মস্তিষ্কের ভিতর হজম হওক বা না হওক, বদ হজমে মরোক তাতে কিছু যায় আসেনা, যেইখানে আমার বা আমাদের সারা শরীর বা সত্বার কোন নিরাপত্তা নাই সেই খানে মস্তিষ্ককে কে ধারণ করবে ?
আমরা বাঙালি জাতি, বারবার আমরা বিশ্বের কাছে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছি, শেষবার যে পরিচয় দিয়েছি তা নাইনটিন সেভেন্টি ওয়ান, তার লোমহর্ষক কাহিনীর বর্নণা দেওয়া আবশ্যকতা আছে বলে আমার মনে হয় না। তবে এইটুকু বলা আবশ্যক যে তখন অামরা স্বাধীন জাতি ও স্বাধীন রাষ্ট্র লাভ করি, আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্রে স্বাধীন ভাবে বসবাস করার স্বাধীনতা লাভ করি।
তবেঁ যুগের পর যুগ চলে যাচ্ছে আমরা কি অাজও স্বাধীন?
স্বাধীন ভাবে বসবাস করার অধিকার কি আমাদের আছে?
স্বাধীন ভাবে মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার কি আমাদের অাছে?
আছে।
অধিকার কেউ চিনিয়ে নেয়নি, আমাদের স্বাধীনতায়, আমাদের অধিকারে কেউ ভাগ বসায়নি।আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্রে স্বাধীন ভাবে অন্তর্নিহিত কিছু পরজীবী তা নষ্ট করছে। অন্তর্নিহিত পরজীবীর হাতেই যদি তা নষ্ট হবে তাহলে আর এত ত্যাগের কি দরকার ছিল? কি দরকার ছিল নাইনটিন সেভেন্টি ওয়ানের? স্বাধীনতা ও অধিকারের যদি এতই দরকার ছিল তাহলে কোথায় আমাদের নাইনটিন সেভেন্টি ওয়ানের বাঙালি বীরেরা, কোথায় নাইনটিন সেভেন্টি ওয়ানের চেতনা? আজ ছোট্ট শিশু স্কুলে যেতে পারেনা রাস্তায় ঝোপ- ঝাড়ে ধর্ষণের শিকার হয়, সহজ-সরল গৃহবধূ গৃহ নির্যাতনের শিকার হয়, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ঘোষ ছাড়া চাকরি হয়না, লেখক অথবা অধ্যাপকে রাস্তায় চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়, দিনের পর দিন চলে যায় ঘোষ ছাড়া শিক্ষক পেনসনের টাকা হাতে পায়না, শ্রমিকরা দিনের পর দিন না খেয়ে মরছে তাদের অধিকারের কথা বলতে সাহস পায়না, চিকিৎসা করতে আসা রোগী হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার হয়, হাজার হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে কালোবাজারিদের হাতে, স্বাধীন রাষ্ট্রে স্বাধীন ভাবে বিচরণ করছে মাদকদ্রব্য ও অবৈধ অস্ত্র, ফুল ফলে সগৌরবে মিশে অাছে মরণঘাতক প্রিজারভেটিব, রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে দুর্নীতি, অনিয়ম, সাধারণ মানুষের অধিকার হারানোর অভিশাপ, আমরা কি এই স্বাধীন রাষ্ট্রে স্বাধীন? নাইনটিন সেভেন্টি ওয়ানের চেতনা কি অন্তর্নিহিত পরজীবীর হাতে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে?
এই সাধারণ কিছু প্রশ্ন মস্তিষ্ক কোন ভাবেই হজম করতে পারছেনা, বদ হজমে ভোগছে কয়েক যুগ ধরে। হয় অন্তর্নিহিত পরজীবী হতে হবে না হয় মস্তিষ্কের বদ হজম নিয়ে কোন ভাবে বাচঁতে হবে।
এই রোগের কোন ডাক্তার নেই কারণ সবাই এখন দুইভাগে বিভক্ত : এক- অন্তর্নিহিত পরজীবী,দুই- মস্তিষ্কের বদহজমের রোগী।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




