somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধ্যপ্রাচ্চের সাম্প্রতিক যুদ্ধে লেবানন ও ইসরাইলের দুই সাধারণ বন্ধুর কথা

২৫ শে জুলাই, ২০০৬ ভোর ৫:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেবানন ও ইসরাইলের দুই নাগরিক সালেম খোরি এবং গর্ডন ওরের বন্ধুত্মে যুদ্ধ ও সীমান্ত বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সম্প্রতি সালেম একটা ই-মেইল পাঠিয়েছিল তার ইসরাইলি বন্ধু গর্ডন ওরের কাছে। এর জবাবে গর্ডনও ফিরতি মেইলে তার বক্তব্য তুলে ধরে সালেম খোরির কাছে। মেইল দুটি বিবিসি প্রকাশ করে গত 21 শে জুলাই। লেবানন ও ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে দেখুন তাদের প্রতিক্রিয়াঃ



প্রিয় গর্ডন,
তুমি বলেছিলে লেবাননে হামলা ছাড়া ইসরাইলের আর কোনো পথ ছিল না। ঠিক আছে, তবে হামলা চালানোর আগে আলোচনার যে একটি পথ ছিল, ইসরাইল সে পথে পা বাড়ায়নি। তোমার মনে আছে কি, যেদিন ইসরাইলের দুই সৈন্য অপহূত হলো, ঠিক সেদিনই তারা বৈরুতে বোমা হামলা চালাল। এ পর্যন্ত 13টি সেতু, একটি পাওয়ার স্টেশন ও আমাদের এয়ারপোর্টের রানওয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। কিন্তু কেন? সমস্যা যদি থেকেই থাকে তবে সমাধানের লক্ষ্যে দায়িত্ম জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে তোমার দেশ। তুমি হয়তো জানো যুদ্ধের আগে আলোচনা করার একটা নিয়ম রয়েছে। ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর আগে প্যারিসে তারা হামলা সমঙ্র্কে সতর্ক করে দিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, তোমার দেশ সেই নিয়মের তোয়াক্কা করেনি। আমি জানি, তোমার দেশ হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে। ইসরাইল ভাবে লেবানন রাষ্ট্রের মধ্যেই আরেকটি রাষ্ট্র তৈরি করেছে হিজবুল্লাহ। গর্ডন, তুমি বলেছিলে লেবাননিদের হূদয়ে হিজবুল্লাহ প্রধান নসরুল্লাহর জায়গা দেখে অবাক হয়েছ। কিন্তু তুমি হয়তো জান না, শুধু অপহরণ আর অস্ত্র প্রশিক্ষণের মধ্যেই হিজবুল্লাহর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই। স্কুল ও হাসপাতালের মতো সেবা প্রতিষ্ঠান চালায় তারা। গরিব কৃষকদের সাহায্য করে তারা, যা লেবানন সরকার করতে ব্যর্থ হয়েছে। বন্ধু গর্ডন, হতাশ হয়ে বলতে হচ্ছে, এ যুদ্ধ মনে হয় আরো 6 মাস চলবে, কিন্তু জয়ী কেউই হবে না।
ভালো থেক।

তোমার বন্ধু
সালেম

=======================================

প্রিয় সালেম,
আশা করি, তুমি ও তোমার পরিবার নিরাপদেই আছ। চিন্তা করো না, খুব শিগগিরই এ সংঘর্ষ বন্ধ হয়ে যাবে। তুমি বলেছ, ইসরাইলের আলোচনায় বসা উচিত ছিল। কিন্তু কার সঙ্গে আলোচনা করবে ইসরাইল, যারা সীমান্তের এপারে নিয়মিত মিসাইল ছুড়ছে আর সৈন্যদের অপহরণ করছে তাদের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কি তুমি আলোচনা করতে বলছ। 'বৈরুত-দামেস্কর মহাসড়ক কেন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জানতে চেয়েছ তুমি। কারণ এ মহাসড়ক দিয়েই ইরান ও সিরিয়া থেকে হিজবুল্লাহদের হাতে মিসাইল আসছে। যার একটা গতকাল আমার বাড়ির 100 মিটার দূরে পড়েছিল। এতে কোনো সন্দেহ নেই, হামাসের মতো হিজবুল্লাহ ও দেশে কিছু সামাজিক কাজ করছে। কিন্তু তারা শুধু যুবকদের ইসরাইলবিরোধী শিক্ষাই দিচ্ছে। ইসরাইলিদের ঘৃণা করা শেখাচ্ছে তারা বাচ্চাদের। হিজবুল্লাহর কাছে আমরা কিছুই চাই না। কিন্তু হিজবুল্লাহ আমাদের কাছে অনেক কিছু চাইছে। তারা আমাদের মানচিত্র থেকে মুছে দিতে চাইছে। যার কারণে তারা ছায়াযুদ্ধ শুরু করেছে আমাদের বিরুদ্ধে। তোমাদের দুর্বল সরকারও হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে যদি তোমাদের সৈন্য থাকত তাহলে আমাদের কোনো অসুবিধা ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্য তোমাদের ও আমাদের যে, সেখানে হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে। তুমি বলেছ, অনেক দিন লাগবে এ যুদ্ধ থামতে। কিন্তু আমার মনে হয়, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। অবশ্য এর মধ্যেই যদি হিজবুল্লাহর নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে ফেলা যায়।
আবারো বলছি, ভালো থেক বন্ধু।

তোমারই বন্ধু
গর্ডন


[গাঢ়]দুই বন্ধুর এই ই-মেইল বার্তায় দু'পক্ষের যুক্তিই বেশ জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে দু'জনকেই সমস্যা সমাধানে অসহায় মনে হয়েছে।[/গাঢ়]



কৃতজ্ঞতাঃ সঞ্চয় সাহা
ছবিঃ এএফপর সৌজন্যে
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০০৬ ভোর ৬:০৭
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেইস

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ২:০৯


এরা সাড়ে তিনফুট থেকে চারফুট দীর্ঘ,ছোট খাটো,পাতলা গড়ন বিশিষ্ট। চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়,ত্বক ছাই বর্ণের,অমসৃণ এবং কুঁচকানো। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। পুরোই... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। ভাড়াটে খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×