প্রিয় গর্ডন,
তুমি বলেছিলে লেবাননে হামলা ছাড়া ইসরাইলের আর কোনো পথ ছিল না। ঠিক আছে, তবে হামলা চালানোর আগে আলোচনার যে একটি পথ ছিল, ইসরাইল সে পথে পা বাড়ায়নি। তোমার মনে আছে কি, যেদিন ইসরাইলের দুই সৈন্য অপহূত হলো, ঠিক সেদিনই তারা বৈরুতে বোমা হামলা চালাল। এ পর্যন্ত 13টি সেতু, একটি পাওয়ার স্টেশন ও আমাদের এয়ারপোর্টের রানওয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। কিন্তু কেন? সমস্যা যদি থেকেই থাকে তবে সমাধানের লক্ষ্যে দায়িত্ম জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে তোমার দেশ। তুমি হয়তো জানো যুদ্ধের আগে আলোচনা করার একটা নিয়ম রয়েছে। ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর আগে প্যারিসে তারা হামলা সমঙ্র্কে সতর্ক করে দিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, তোমার দেশ সেই নিয়মের তোয়াক্কা করেনি। আমি জানি, তোমার দেশ হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে। ইসরাইল ভাবে লেবানন রাষ্ট্রের মধ্যেই আরেকটি রাষ্ট্র তৈরি করেছে হিজবুল্লাহ। গর্ডন, তুমি বলেছিলে লেবাননিদের হূদয়ে হিজবুল্লাহ প্রধান নসরুল্লাহর জায়গা দেখে অবাক হয়েছ। কিন্তু তুমি হয়তো জান না, শুধু অপহরণ আর অস্ত্র প্রশিক্ষণের মধ্যেই হিজবুল্লাহর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই। স্কুল ও হাসপাতালের মতো সেবা প্রতিষ্ঠান চালায় তারা। গরিব কৃষকদের সাহায্য করে তারা, যা লেবানন সরকার করতে ব্যর্থ হয়েছে। বন্ধু গর্ডন, হতাশ হয়ে বলতে হচ্ছে, এ যুদ্ধ মনে হয় আরো 6 মাস চলবে, কিন্তু জয়ী কেউই হবে না।
ভালো থেক।
তোমার বন্ধু
সালেম
=======================================
প্রিয় সালেম,
আশা করি, তুমি ও তোমার পরিবার নিরাপদেই আছ। চিন্তা করো না, খুব শিগগিরই এ সংঘর্ষ বন্ধ হয়ে যাবে। তুমি বলেছ, ইসরাইলের আলোচনায় বসা উচিত ছিল। কিন্তু কার সঙ্গে আলোচনা করবে ইসরাইল, যারা সীমান্তের এপারে নিয়মিত মিসাইল ছুড়ছে আর সৈন্যদের অপহরণ করছে তাদের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কি তুমি আলোচনা করতে বলছ। 'বৈরুত-দামেস্কর মহাসড়ক কেন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জানতে চেয়েছ তুমি। কারণ এ মহাসড়ক দিয়েই ইরান ও সিরিয়া থেকে হিজবুল্লাহদের হাতে মিসাইল আসছে। যার একটা গতকাল আমার বাড়ির 100 মিটার দূরে পড়েছিল। এতে কোনো সন্দেহ নেই, হামাসের মতো হিজবুল্লাহ ও দেশে কিছু সামাজিক কাজ করছে। কিন্তু তারা শুধু যুবকদের ইসরাইলবিরোধী শিক্ষাই দিচ্ছে। ইসরাইলিদের ঘৃণা করা শেখাচ্ছে তারা বাচ্চাদের। হিজবুল্লাহর কাছে আমরা কিছুই চাই না। কিন্তু হিজবুল্লাহ আমাদের কাছে অনেক কিছু চাইছে। তারা আমাদের মানচিত্র থেকে মুছে দিতে চাইছে। যার কারণে তারা ছায়াযুদ্ধ শুরু করেছে আমাদের বিরুদ্ধে। তোমাদের দুর্বল সরকারও হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে যদি তোমাদের সৈন্য থাকত তাহলে আমাদের কোনো অসুবিধা ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্য তোমাদের ও আমাদের যে, সেখানে হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে। তুমি বলেছ, অনেক দিন লাগবে এ যুদ্ধ থামতে। কিন্তু আমার মনে হয়, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। অবশ্য এর মধ্যেই যদি হিজবুল্লাহর নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে ফেলা যায়।
আবারো বলছি, ভালো থেক বন্ধু।
তোমারই বন্ধু
গর্ডন
[গাঢ়]দুই বন্ধুর এই ই-মেইল বার্তায় দু'পক্ষের যুক্তিই বেশ জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে দু'জনকেই সমস্যা সমাধানে অসহায় মনে হয়েছে।[/গাঢ়]
কৃতজ্ঞতাঃ সঞ্চয় সাহা
ছবিঃ এএফপর সৌজন্যে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


