বৃক্ষের গুরুত্ব কি ডালপালার চেয়ে কম? এটা কোন প্রশ্নই নয় হয়তো কিন্তুআজকের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি সত্য হতে চলছে। ডালপালাগুলোই এখন বৃক্ষের সমান বলা যেতে পারে। মহাবৃক্ষের সম্মান লাভ করছে। সেটা সামাজিকভাবেই হোক, রাষ্ট্রীয়ভাবেই হোক অথবা অর্থনৈতিকভাবেই হোক।
যিনি নাটক করেছেন অথর্াৎ যিনি নাটক বানাচ্ছেন, যিনি গান গাইছেন, যিনি নৃত্য করছেন আর যিনি সাহিত্য রচনা করেছেন
কার সামাজিক অবস্থা কেমন? আমি খুব সূক্ষ্মভাবে না গিয়েই বলছি কেবল সাহিত্য রচয়িতা ছাড়া অর্থাৎ লেখক প্রত্যেকের সামাজিক
অবস্থান, অর্থনৈতিক অবস্থান চোখে পড়ার মতো। তাদের চাকচিক্যময় জীবনের পদতলে লেখক নিষ্পেষিত হচ্ছে।
সাহিত্য ছাড়া শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমে যারা কাজ করছেন তাদের পেছনে পেছনে ছুটছেন স্পন্সররা অর্থের থলি নিয়ে। না, না অফার তাদের পিছে পিছে ছুটছে।
একজন কবির চাইতে একজন অভিনেতার মূল্য কি খুব বেশি? সংগীতের কথাই ধরি, যিনি গান লিখছেন তিনি পাচ্ছেন হয়তো দুই হাজার টাকা, যিনি সুর করছেন তিনি হয়তো পাচ্ছেন পাঁচ হাজার টাকা। আর যিনি গানটি গাইছেন তিনি পাচ্ছেন পঞ্চাশ হাজার টাকা। যিনি স্রষ্টা তার মূল্য দুই হাজার টাকা। যিনি স্রষ্টার সৃষ্টি নিয়ে উঠছেন তার মূল্য স্রষ্টার চাইতে 25 গুণ বেশি। একইভাবে মিডিয়া
গায়ককে নিয়ে মাতামাতি করছে। তার বিশাল ছবি, ইন্টারভিউ ছাপছে। লেখককে কেউ পাত্তা দিচ্ছে না।
নাটকের প্রসঙ্গে আসি। যিনি নাটক লিখছেন তিনি পুরো নাটকের ক্যাপ্টেন। ডিরেক্টরও তাকে ফলো করে নাটক বানাচ্ছেন। কিন্তু মূল
কাভারেজ পাচ্ছে অভিনয় শিল্পীরা। তাদের সবাইকে সমীহ করে চলতে হচ্ছে লেখকদের, ডিরেক্টরদের।
যারা কেবলি সাহিত্য নিয়ে আছেন, অর্থাৎ কবিতা, কথাসাহিত্য নিয়ে আছেন। তাদের কথা না হয় বাদই দিলাম। গান লিখে তবু কেউ দু'হাজার টাকা পায়,
কবিতা লিখে কেউ দুশ' টাকাও পায় না। হায়রে আমার পাগলামী কি বলতে, কি বলি।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০০৬ ভোর ৬:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



