somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রতারিত হতে পারেন অতএব সাবধান

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৬:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"প্রতারিত হতে পারেন অতএব সাবধান" এটি আজকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের চিঠিপত্র বিভাগে প্রকাশিত একটি চিঠির শিরোনাম। এই চিঠিটি আমাকে ভীষণভাবে উপকৃত করেছে, আমার মনে হয় আপনাদেরও উপকৃত করবে আর তাই চিঠিটি এখানে পোস্ট করলাম।

তার আগে বলে নেই, এ ধরনের কোম্পানীর অস্তিত্ব এর আগেও আমরা এদেশে দেখেছি। যেমন আইটিসিএল, বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের ব্যক্তি কাজল উল্লেখযোগ্য। যারা দেশের সরল প্রাণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন । এসব কোম্পানীর পেছনে সরকারদলীয় হোমড়াচোমড়ারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে বলে এরা অবাধে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যায়। এক সময় ভাগ বাটোয়ারায় কম বেশী হলে বা সরকার পরিবর্তন হলে অথবা ব্যাপক বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে সরকারের হস্তক্ষেপে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া হয়। এর আগে যা হবার তা হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের মূলধন হারানোর কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে যায়।

আমি নিজেও এই কোম্পনীর গ্রাহক হতে বা পঁূজি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ছিলাম চার পাশের আমার বন্ধু-বান্ধব ও কলিগদের পিড়াপিড়ীতে। কিন্তুআমার ধৈর্য সম্ভবতঃ আমাকে বিরাট ঝুঁকি থেকে মুক্তি দিল।

এ ব্যাপারে সরকরের প্রতি আমার আবেদন অবিলম্বে কোম্পানীটির সার্বিক কার্যক্রম পর্যবক্ষন করার এবং অবৈধ কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিন।

এতক্ষন মনে হয় কিছুই বুঝতে পারেন নাই। নিচে প্রকাশিত চিঠিটি পড়ুন। আশা করি আমার কথা বুঝতে পারবেন।


প্রতারিত হতে পারেন অতএব সাবধান
=============================

মাত্র চারটি কম্পিউটার আর নামমাত্র পুঁজি নিয়ে ক'বছর আগে একটি প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করেছিল। আজ তা মহীরূহ। হাউজিং, পর্যটন, সিরামিক, স্বাস্থ্যসেবা, আইটি, মেডিক্যাল সার্ভিস, টেলিকম ইত্যাদি খাতে তাদের ব্যবসার ব্যাপকতা থাকলেও শুধু হাউজিং-এর উদ্যোগে তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড দেশব্যাপী বিস্তৃত। কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই, কোনো বয়সসীমা নেই। বেকার, দোকানি, স্কুল-ছাত্রছাত্রী, গৃহিণী যে-কেউ এই প্রতিষ্ঠানের কমর্ী বা সংগঠক হতে পারে। যোগ্যতার মধ্যে থাকা চাই জনসাধারণকে যুক্তি ও কথার মাধুর্যে অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা। ইতিমধ্যে প্রায় 50,000 কমর্ী প্রতিষ্ঠানটির জন্য সাধারণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহে ব্যস্ত। কমর্ীরাও বিভিন্নভাবে জনসাধারণকে প্রলুব্ধ করতে যারপরনাই সচেষ্ট। কারণ প্রতিটি সংগ্রহের বিপরীতে কমর্ীর জন্য রয়েছে লোভনীয় কমিশন। ক্ষেত্রভেদে এক এক জন কমর্ী/ সংগঠকের কমিশন বাবদ মাসিক উপার্জন 10,000 থেকে 50,000 টাকা, যার পুরোটাই আসে আমানতকারীর অংশ থেকে। আর জনগণের অর্থে পাহাড়সম মূলধন তৈরি করছে কোম্পানীটি।

কোম্পানীটি সারা দেশে 52টি হাউজিং স্কিম পরিচালনা করছে, যার বাস্তব ভিত্তি কতটুকু তা শুধু তারাই জানে। আমি নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের একজন প্লট গ্রহীতা হিসাবে জনস্বার্থে এই অঞ্চলের বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। তাদের সর্বশেষ দাপ্তরিক পরিসংখ্যান অনুসারে শুধু নারায়ণগঞ্জেই গ্রাহকদের কাছে 1200 প্লট বুকিং নিশ্চিত করা হয়েছে, যার প্রতিটির সাইজ 2, 3 ও 5 কাঠা। তাদের টার্গেট 2500 প্লট। সেই হিসাবে নারায়ণগঞ্জ লোকেশনে তাদের নূ্যনতম 420 বিঘা জমি থাকা প্রয়োজন। অথচ সূত্রমতে, তাদের বায়নাকৃত কমবেশি 20 বিঘা জমি রয়েছে। তাহলে মাত্র 20 বিঘা জমি নিয়ে এই কোম্পানীটি কী করে জনসাধারণের কাছে 420 বিঘা জমি বিক্রির প্রতিশ্রুতি করে, একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে রাজউক তথা সংশিস্নষ্ট কতর্ৃপক্ষকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ করছি। ইতিপূর্বে তারা নারায়ণগঞ্জ প্রকল্প এলাকায় ব্যবসায়িক প্রচারণার উদ্দেশ্যে বেশকিছু সাইন বোর্ড স্থাপন করে, যার অধিকাংশই ছিল অন্যের জমিতে। জমির আসল মালিকরা পরবতর্ী সময়ে তা উপড়ে ফেলে। বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় একটিমাত্র সাইনবোর্ড দৃশ্যমান, যা সাধারণের উদ্বেগের কারণ। এ বছরের শুরুর দিকে ভূমি উন্নয়নের প্রতিশ্রূতি থাকলেও তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায়, আমরা যারা বছরাধিককাল ধরে কিস্তি পরিশোধ করছি তারা খুবই উদ্বিগ্ন।

পাশাপাশি কোম্পানীটি হাউজিং-এর নামে এমন কিছু অর্থলগ্নীকারী প্রকল্প চালাচ্ছে, যা ব্যাংকিং কর্মকাণ্ডের শামিল। আমানতের বিপরীতে তাদের লভ্যাংশের পরিমাণটাও অকল্পনীয়, যা কোনো ব্যাংকের পক্ষেও অসম্ভব। যেমন তাদের কাছে তিনি বছর মেয়াদে কোনো অর্থ গচ্ছিত রাখলে আমানতকারী তিন বছর পর দ্বিগুণ অর্থ ফেরত পাবে। যেমন কোনো ব্যক্তি যদি এক লক্ষ টাকা জমা রাখে, তাহলে কমর্ী (যে আমানতকারী সংগ্রহ করবে) পাবে এর নয় শতাংশ অর্থাৎ 9,000 টাকা আর আমানতকারী পাবে তিন বছর পর দুই লক্ষ টাকা। তাহলে পরোক্ষভাবে তিন বছরে ফেরতযোগ্য টাকা দুই লক্ষ নয় হাজার টাকা। লভ্যাংশের পরিমাণ শতকরা বছরে 36.33 শতাংশ। আমার জানামতে, বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকও শতকরা 12 শতাংশের ওপর কোনো মুনাফা দেয় না। তাহলে এই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে কিভাবে সম্ভব? এ ছাড়াও বিভিন্ন নামে আরো কিছু প্রকল্প রয়েছে। যেমন প্রতি 6,000 টাকায় ছয় মাসে লাভ 1,000 টাকা, এক লক্ষ টাকায় প্রতি মাসে লাভ 2,500 টাকা ইত্যাদি। যার লভ্যাংশের হার ক্ষেত্রভেদে 30% থেকে 40% পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই ধরনের লোভনীয় প্রস্তাবে প্রলুব্ধ হয়ে লোকজন ব্যাংকে টাকা না রেখে তাদের কাছে গচ্ছিত রাখছে। এইভাবে অর্থলগ্নীকারী সাধারণের যে কোনো মুহূর্তে প্রতারণার শিকার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া মেয়াদান্তে অর্থ তুলতে গেলেও জনসাধারণকে পোহাতে হয় নানা বিড়ম্বনা। বিভিন্ন পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়া অর্থ তোলা সম্ভব নয় আর অধিকাংশ কর্মর্কর্তাই অফিসে নিয়মিত নন। তাঁরা মাঠ পর্যায়ের কাজে বাইরে অবস্থান করেন। ফলে প্রায়শই শুনতে হয়, অমুক সাহেবের স্বাক্ষর বাকি তাই দেরি হবে। একজন আমানতকারী হিসাবে আমি নিজে ভুক্তভোগী।

ব্যাংকিং দৃষ্টিতে এই ধরনের কার্যক্রম কতোটা বৈধ এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি বাংলাদেশ ব্যাংক তাদেরকে দিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে হঠাৎ সর্বস্বান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য যথাযথ কতর্ৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মোঃ আবুল কালাম,
36 পূর্ব জামতলা, নারায়ণগঞ্জ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৬:৪৭
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×