প্রায় আড়াইশর মতো এ ধরনের বৃহৎ কোম্পানি এখন ভারতের আইটি ফার্মগুলোর সেবার গ্রহীতা এবং এদের মধ্যে 2শরও বেশি নামিদামি কোম্পানি ভারতীয় আইটি ফার্মগুলোকে তাদের সহায়ক সেবা প্রদান করছে। ডুয়েটসি ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সমপ্রতি এসব তথ্য জানা গেছে।
টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস রামাদোরাই তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের উন্নতির ব্যাপারে বলেন, ভারতীয় আইটি ইন্ডাস্ট্রি বিশ্ব সফটওয়্যার সুবিধা লাভের অনুকূলে একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতকে বিশ্বের প্রধানতম তথ্য প্রযুক্তি সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছে।
টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস বা টিসিএস ভারতের সবচেয়ে বড়ো সফটওয়্যার কোম্পানি তথা 17 দশমিক 6 বিলিয়ন ডলারের বৃহত্তম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টাটা গ্রুপের একটি শাখা। স্বল্প মজুরিতে সেবাপ্রদানকারী সংগঠনগুলোর হাতে তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন কাজ দেওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোতে এর বিরুদ্ধে সৃষ্ট প্রতিবাদ ক্রমশ স্থিমিত হয়ে আসছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। কেননা, এতে স্থানীয় কোম্পানিগুলো অধিক হারে বিদেশী গ্রহীতাদেরকে প্রযুক্তি সেবা সরবরাহের সুযোগ পাচ্ছে। এর উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হিসেবে ভারতীয় আইটি পাওয়ার হাউস ইনফোন্সিস-এর কথা বলা যায়। এই প্রতিষ্ঠানটি গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সম্পূর্ণ নিজস্ব মালিকানায় 'ইনফোসিস কনসালটেন্সি' নামে একটি বাড়তি সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করেছে যা কিনা বিশ্ব কনসালটিং ব্যবসার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য নির্বাহী তথা ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্টিফেন প্র্যাট বলেন, ইনফোসিস কনসালটিং বিজনেসের মডেলটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে প্রচলিত কনসালটিং ফার্মগুলোর চাইতে সেবা গ্রহীতাদের অর্থের অধিকতর মূল্য প্রদানের ভিত্তিতে নিরূপণ করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা দিয়ে প্র্যাট বলেন, আমাদের প্রতিযোগীদের অনুসৃত পুরোনো কনসালটিং মডেলগুলোতে মক্কেলরা কয়েকজন টেকনোলজি এক্সপার্টের পাশাপাশি খুব অল্প সংখ্যক শীর্ষ বিজনেস কনসালট্যান্টের ব্যবস্থা করে থাকেন। কাজেই বিজনেস লোকেশনে সকল টেকনোলজি এক্সপার্টকে আনার জন্য টাকা দেওয়া সত্ত্বেও কার্যত তারা অল্প কয়েকজন বিজনেস এক্সপার্টের দেখা পান। সে েেত্র আমাদের মডেলে অনেক কম মূল্যে প্রচুর বিদেশী প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বা টেকনো এক্সপার্ট ভারতে এসে কাজ করায়, আমাদের সেবা গ্রহীতারা তাদের লোকেশনগুলোতে অনেক বেশি সংখ্যক এক্সপার্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেন।
এ ব্যাপারটিতে মক্কেলরা সত্যিই উপকৃত হয়। কোম্পানির এক্সপার্টদের সংখ্যা বর্তমান 120 থেকে আগামী দু বছরে 500তে উন্নীত হবে বলে তিনি জানান। বিশ্বের 1 হাজার কোম্পানির 25টির সঙ্গে কর্মরত এই কনসালটিং ফার্মটি এক বছর পরেই গ্রহীতাদেরকে সরবরাহকৃত বিজনেস ভ্যালুর 103 শতাংশ সরবরাহের কথা ঘোষণা করে। ইনফোসিস বিজনেস মডেল অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মটির কনসালটিংয়ের জন্য ভাড়া করে আনা প্রত্যেক বিজনেস এক্সপার্ট ভারতে চারজন প্রযুক্তি শ্রমিকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে। ইসফোসিস টেকনোলজিসের মুখ্য নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তথা সভাপতি নন্দন নিলেকানি বলেন, কাজেই আমরা 500 জন বিজনেস এক্সপার্টকে ভাড়া করে আনছি, যারা কিনা 2000 ভারতীয় টেকনো এক্সপার্টের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে। আমরা এ তথ্য প্রকাশ করতে চাই না যে কনসাল্টিং বিজনেসের কাঠামোগত দিক আমরা বদলে দিয়েছি। বরং আমাদের প্রতিযোগিরাও এখন বুঝতে পেরেছেন যে, ব্যবসার উন্নতি ঘটাতে চাইলে তাদেরকেও আমাদের মতো করতে হবে। আমাদের কোম্পানিই প্রথম ভারতীয় কোম্পানি যা কিনা বিশেষ একটি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক এই ব্যবসার কলা কৌশল বদলে দিয়েছে।
ভারতের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিস কোম্পানিজের (ন্যাসকম) মুখপাত্র রামাদোরাই বলেন, ভারতীয় তথ্য প্রযুক্তি এবং তথ্য প্রযুক্তি সমর্থিত সেবাসমূহ (আইটিইএস) গত 31 মার্চে সমাপ্ত 2004-15 অর্থবছরে রপ্তানি খাতে 34 দশমিক 5 শতাংশের রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
বষর্ীয়ান শিল্পপতি রামাদোরাই আরো বলেন, ভারতীয় সফটওয়্যার সার্ভিসেস ইন্ডাস্ট্রি এর প্রবৃদ্ধি অর্জনের গতিবেগ ধরে রাখতে সম হয়েছে এবং বৈদেশিক ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যেও নিজের অংশীদারিত্ব দৃঢ়তর করেছে। ভারতে আইটি শিল্প কর্মরত লোকের সংখ্যা বিগত অর্থবছরে 10 লাখের কোঠা ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরে ভারতে এই শিল্পে পরো নিয়োগপ্রাপ্ত কমর্ীর সংখ্যা ছিল 25 লাখ। তথ্য প্রযুক্তি শিল্পে যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন এখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করলেও, জাপান ও সিঙ্গাপুরের মতো নতুন আইটি দেশগুলোতে ভারতীয় কোম্পানিগুলো যথেষ্ট প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে প্রধানত ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্সে ভারতীয় তথ্য প্রযুক্তির সেবার বাজার তৈরি হয়েছে। অন্য দেশের মধ্যে রয়েছে ইতালি, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ড এবং সুইজারল্যান্ড।
টাটা কনসালটিং সার্ভিসেসের (টিসিএস) মতো কোম্পানিগুলোর জন্য ইউরোপে বেশ ভালো বাজার তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) 11টি দেশে টিসিএস-এর 19টি কার্যালয়ে 700 জনের বেশি কমর্ী কাজ করছেন।
প্রবৃদ্ধির উচ্চহার দেখে আকৃষ্ট হয়ে অনেক বিদেশী কোম্পানি এখন ভারতের নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর দিকে মনযোগী হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান টেকনো জায়ান্ট আইবিএম চলতি বছরেই ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে তার 13 হাজারের মতো কমর্ী ছাঁটাই করে ভারতে তাদের কমর্ী সংখ্যা 14 হাজারে উন্নীত করার কথা ভাবছে। ফলে 2004 সালের ভারতে আইবিএম কমর্ীর সংখ্যা (24 হাজার 150 জন) বৃদ্ধি পেয়ে 2005 সালে হবে 38 হাজার 196 জন। আইবিএম ভারতে গত পাঁচ বছরে 'ডাবল ডিজিট' প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে।
অন্যদিকে জার্মান সফটওয়্যার নির্মাতা আরেক প্রতিষ্ঠান 'স্যাপ' গত জুলাই মাসে। আগামী বছর নাগাদ তার কমর্ী সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়িয়ে 4 হাজারে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি েেত্র গবেষণাকারী ফার্ম গার্টনারের তথ্য অনুসারে, এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আগামী বছরগুলোতে আইটি সার্ভিস মার্কেটের নেতৃত্ব দেবে ভারত এবং চীন।
বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ
আইসিটি অব বাংলাদেশ ইয়াহু গ্রুপ।
(আমার পছন্দের লিংক দেখুন)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০০৬ ভোর ৫:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


