somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি পারি নাই ভাই, আমি আমার বাচ্চাদের মুখে কোনওদিন রোস্ট ছিড়ে তুলে দিতে পারি নাই

১২ ই অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার রাজপুত্রের মা বলে, আমার রাজপুত্র আমাকে এখনও চিনে না। আমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি। সকালে যখন বাসা থেকে বের হই, রাজপুত্র তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। রাতে যখন বাসায় ফিরি, তখনও রাজপুত্র গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
রাতে বাসায় ফিরে আমি রাজপুত্রের মাকে বলি, এত তাড়াতাড়ি ছেলেটাকে ঘুম পারিয়ে দিলা? রাজপুত্রের মা ঘড়ির দিকে তাকায়। রাত কখনও সাড়ে ১২টা কখনও দেড়টা। কখনও বা.......।

তাই এবার ঈদে রাজপুত্রে সাথে কিছু সময় ব্যয় করবো বলে স্থির করলাম। যদিও ততটা সময় আমার ছিল না। তবুও কিছুটা সময় অন্তত রাজপুত্রের সাথে ব্যয় করতে পেরেছি বলে ভালো লাগছে।

রাজপুত্র বাথরুমে যাবে তো "গন্ধ কলবো, গন্ধ কলবো" বলে আমাকে আঙুল ধরে টেনে নিয়ে যেত। যাতে করে কমোডে বসিয়ে বাথরুম করিয়ে তারপর সৌচকর্মটিও আমিই নিজ হাত দিয়ে করি।

এরপর বলল, "বাব্বা ঘোলা উঠবো, ঘোলা উঠবো।" আমি ঘোড়া তথা কাঁধে উঠিয়েই ঘোড়ার মতো টকবগ করে লাফিয়ে লাফিয়ে দৌড়াচ্ছি। দৌড়ানোর একপর্যায়ে বলল, "বাব্বা হিস্যু কলবো। হিস্যু কলবো।" কাঁধ থেকে নামানোর আগেই হিস্যুকর্ম সেরে ফেলেছে সে। হিস্যুতে আমার বুক ভিজে গেছে। রাজপুত্রের হিস্যু বুকে মেখেও আনন্দ লাগছিল বেশ।

আমার ছোট বেলায় এমনও হয়েছে যে, একই বাসায় থাকা সত্ত্বেও আব্বার সথে মাসের পর মাস দেখা হতো না আমাদের। আব্বা কখন আসতেন আর কখন যেতেন আমরা ভাই বোনরা টেরই পেতাম না। মধ্যরাতে বাসায় ফিরতেন আবার ফজর পড়ে বের হয়ে যেতেন...।

আমাদের সামনে কারও বাবা তাঁর ছেলে মেয়েকে আদর করতে দেখলে আমাদের চোখ ভিজে উঠতো।.....

একসময় আব্বার সাথে আমাদের একটা দূরত্ব আপনা আপনিই তৈরী হয়ে যায়।

আজ বাবা হবার পর বুঝতে পারছি যে, ভাগ্য বদলানোয় ব্যস্ত আমার আব্বারও খুব ইচ্ছে করতো আমাদের আদর করতে, আমাদের নিয়ে একটু ঘুরে বেড়াতে।

এই তো সেদিন, কোনও এক ভদ্রলোক আমাদের বাসার ডাইনিং এ বসে নিজের ছয় সাত বছরের মেয়েকে রোস্ট ছিড়ে ছিড়ে মুখে তুলে খাওয়াচিছলেন। তাই দেখে আব্বা বললেন "আমি পারি নাই ভাই, আমি আমার বাচ্চাদের মুখে কোনওদিন রোস্ট ছিড়ে তুলে দিতে পারি নাই।" আব্বার বুকের হাহাকার আমার বুকে এসে লাগলো। আমার চোখ দুটো জ্বালা করে উঠলো।....

বাবা হওয়ার আগ পর্যন্ত বাবাকে বুঝতে পারি না আমরা। যখন বুঝতে পারি, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়....।









৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসের ঘর বনাম বাস্তব হিসাব

লিখেছেন মোবারক, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২০

পরিবারে বড় ভাই হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্যাগী বা মহান হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের সমাজে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে যে, পরিবারের প্রথম সন্তান মানেই তিনি অনেক ত্যাগ করবেন এবং ভাইবোনদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই হচ্ছে না

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৪



কিছুই হচ্ছে না, আবার সবকিছুই হয়ে যাচ্ছে। এই যে বয়সটা পা টিপে টিপে এসে ঘাড়ের কাছে দাঁড়ায়, টেরই পাই না। আয়নার সামনে দাঁড়াইলে একজন অচেনা লোক তাকায়, চোখের নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×