এখনকার কিশোরদের কথা ভাবলে অনেক মায়া হয় আমার। অনেক মায়া হয়। জীবনের অনেক কিছুরই স্বাদ পায় না তারা। কৈশরের দুরন্তপনা বলতে যে একটা বিষয় রয়েছে সে কথাটিই হয়তো জানা নেই তাদের।
এখনকার কিশোররা শুনলে হয়তো অবাক হবে যে, এই শহরের বুকে, এই শহরের অলিতে গলিতে আমাদের কিশোর বয়সে আমরা লাটিম খেলতাম। ঝিমধরা লাটিম হাতের তালুতে নিয়ে প্রতিযোগিতা করতাম। এক লাটিম দিয়ে আরেক লাটিমে কোপ মেরে দুইভাগ করে ফেলতাম।
আনাচে কানাচে টুকটুকি বলের খোসা আর ম্যাচের খোসা দিয়ে চাড়া খেলতাম। মার্বেল দিয়ে আংটিস খেলাতাম। গড়ানতিস খেলাতাম। এখনকার এই ব্যস্ত গিঞ্জি আর কোলাহলময় শহরটা তখন এমন ছিল না। এত বিল্ডিং ছিল না এত ডেভেলোপার আর হাউজিং কোম্পানি ছিল না। গাড়ীর এত পোঁ পোঁ হর্নের দূষিত শব্দ ছিল না। মাঝে মধ্যে রিক্সার টুং টাং মধুর শব্দ ভেসে আসতো।
এখন আর বিকেলে কোনো বাড়ির ছাদে নাটাই হাতে কোনো কিশোরকে ঘুড়ি ওড়াতে দেখিনা। আকশে ঘুড়ির কাটাকাটি খেলতে দেখিনা। অথচ একসময় আমরা সুতায় মাঞ্জা মেরে আকাশে ঘুড়ি উড়াতাম কাটাকাটি খেলতাম। সমস্ত আকাশজুড়ে শুধু থাকতো ঘুড়ি আর ঘুড়ি। মনে হতো রঙ বেরঙের চিল ডানা মেলে উড়ছে বুঝি।
এখনাকার কিশোরদের হাতে গুলতি দেখিনা। গুলতির গুলি হিসেবে ইট-পাথরের সুরকি দেখি না। অথচ পাখী শিকারের উদেশ্যে গুলতি হাতে রোদদুপুরে টই টই করে ঘুরে বেড়াতাম আমরা। খাম্বার সবচেয়ে উঁচু তারটাকে টার্গেট করে গুলতির গুলি ছুড়তাম। যে লাগাতে পারতো, তাকে পুরষ্কার হিসেবে সুস্বাদু ঘ্রাণঅলা একটা সুইংগামের অর্ধেক দেয়া হতো।
কিছু কিশোরীও যোগ দিতো আমাদের দলে। আমরা এক সঙ্গে ইচিং-বিচিং খেলতাম। টুক পালানতিস খেলতাম। ছোঁয়াছুঁয়ি খেলতাম। মাংস চুরি খেলতাম। কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলতাম। সাতচাড়া খেলতাম.......।
ভাবা যায়...? জানি যায় না।
এই শহরে তখন ইন্টারনেট ছিল না। ফেসবুক ছিল না। অনলাইন ছিল না। এত এত মোবাইল ছিল না, টাস স্ক্রিন ছিল না, সেলফি ছিল না।.......ছিল শুধু দুরন্তপনা।
এখনাকার কিশোরদের জন্য সত্যি খুব মায় হয় আমার। সত্যি। সারাদিন অনলাইন এ বসে থেকে থেকে জীবনের অনেক কিছুই অফলাইনে চলে গেছে তাদের। অনেক কিছু..............

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


