somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সারাদিন অনলাইন এ বসে থেকে থেকে জীবনের অনেক কিছুই অফলাইনে চলে গেছে তাদের। অনেক কিছু..............

১২ ই অক্টোবর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখনকার কিশোরদের কথা ভাবলে অনেক মায়া হয় আমার। অনেক মায়া হয়। জীবনের অনেক কিছুরই স্বাদ পায় না তারা। কৈশরের দুরন্তপনা বলতে যে একটা বিষয় রয়েছে সে কথাটিই হয়তো জানা নেই তাদের।

এখনকার কিশোররা শুনলে হয়তো অবাক হবে যে, এই শহরের বুকে, এই শহরের অলিতে গলিতে আমাদের কিশোর বয়সে আমরা লাটিম খেলতাম। ঝিমধরা লাটিম হাতের তালুতে নিয়ে প্রতিযোগিতা করতাম। এক লাটিম দিয়ে আরেক লাটিমে কোপ মেরে দুইভাগ করে ফেলতাম।

আনাচে কানাচে টুকটুকি বলের খোসা আর ম্যাচের খোসা দিয়ে চাড়া খেলতাম। মার্বেল দিয়ে আংটিস খেলাতাম। গড়ানতিস খেলাতাম। এখনকার এই ব্যস্ত গিঞ্জি আর কোলাহলময় শহরটা তখন এমন ছিল না। এত বিল্ডিং ছিল না এত ডেভেলোপার আর হাউজিং কোম্পানি ছিল না। গাড়ীর এত পোঁ পোঁ হর্নের দূষিত শব্দ ছিল না। মাঝে মধ্যে রিক্সার টুং টাং মধুর শব্দ ভেসে আসতো।

এখন আর বিকেলে কোনো বাড়ির ছাদে নাটাই হাতে কোনো কিশোরকে ঘুড়ি ওড়াতে দেখিনা। আকশে ঘুড়ির কাটাকাটি খেলতে দেখিনা। অথচ একসময় আমরা সুতায় মাঞ্জা মেরে আকাশে ঘুড়ি উড়াতাম কাটাকাটি খেলতাম। সমস্ত আকাশজুড়ে শুধু থাকতো ঘুড়ি আর ঘুড়ি। মনে হতো রঙ বেরঙের চিল ডানা মেলে উড়ছে বুঝি।

এখনাকার কিশোরদের হাতে গুলতি দেখিনা। গুলতির গুলি হিসেবে ইট-পাথরের সুরকি দেখি না। অথচ পাখী শিকারের উদেশ্যে গুলতি হাতে রোদদুপুরে টই টই করে ঘুরে বেড়াতাম আমরা। খাম্বার সবচেয়ে উঁচু তারটাকে টার্গেট করে গুলতির গুলি ছুড়তাম। যে লাগাতে পারতো, তাকে পুরষ্কার হিসেবে সুস্বাদু ঘ্রাণঅলা একটা সুইংগামের অর্ধেক দেয়া হতো।

কিছু কিশোরীও যোগ দিতো আমাদের দলে। আমরা এক সঙ্গে ইচিং-বিচিং খেলতাম। টুক পালানতিস খেলতাম। ছোঁয়াছুঁয়ি খেলতাম। মাংস চুরি খেলতাম। কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলতাম। সাতচাড়া খেলতাম.......।

ভাবা যায়...? জানি যায় না।

এই শহরে তখন ইন্টারনেট ছিল না। ফেসবুক ছিল না। অনলাইন ছিল না। এত এত মোবাইল ছিল না, টাস স্ক্রিন ছিল না, সেলফি ছিল না।.......ছিল শুধু দুরন্তপনা।

এখনাকার কিশোরদের জন্য সত্যি খুব মায় হয় আমার। সত্যি। সারাদিন অনলাইন এ বসে থেকে থেকে জীবনের অনেক কিছুই অফলাইনে চলে গেছে তাদের। অনেক কিছু..............












৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসের ঘর বনাম বাস্তব হিসাব

লিখেছেন মোবারক, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২০

পরিবারে বড় ভাই হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্যাগী বা মহান হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের সমাজে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে যে, পরিবারের প্রথম সন্তান মানেই তিনি অনেক ত্যাগ করবেন এবং ভাইবোনদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই হচ্ছে না

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৪



কিছুই হচ্ছে না, আবার সবকিছুই হয়ে যাচ্ছে। এই যে বয়সটা পা টিপে টিপে এসে ঘাড়ের কাছে দাঁড়ায়, টেরই পাই না। আয়নার সামনে দাঁড়াইলে একজন অচেনা লোক তাকায়, চোখের নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×