somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন মানুষকে কখন কোথায় নিয়ে দাঁড় করায় কেউ জানে না।.....

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

.......স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দেখতাম, মা হয়তো একটা ডিম ভেজে পুরো অর্ধেকটা খুব যতনে রেখে দিয়েছেন আমার জন্য। ডিম ভাজিটা যাতে বড় হয়, সে জন্য ডিমের সাথে খানিক ভাত কচলে দেয়া হতো। ছোট্ট এক দু টুকরো আদাকুচি দেয়া হতো যাতে খেতে স্বাদ হয়। ঘরের সামনের আঙিনায় লাগানো বিলেতি ধনেপাতাও দেওয়া হতো কয়েকটি।

স্কুল থেকে ফিরে অর্ধেক ডিমভাজি দেখে বেশ আনন্দিত হতাম। ডিমভাজির সাথে গরম ভাত আর টিউবঅয়েলের পানি। পানিটা ব্যবহার করতাম ডালের বদলে। কালেভদ্রে ডাল কেনা হতো আমাদের। তাও আবার খেসারি ডাল। মসুরি ডাল কেনার সামর্থ্য কই! ডালের বদলে চালভাজার গুড়ো দিয়েও ডাল রান্না করা হতো কখনও কখনও। আমরা তৃপ্তি করেই খেতাম তা।

মা'র জন্য একটু ডিম ভাজি ভেঙে রাখলে তিনি পুনরায় তা আবার আমার পাতে তুলে দিতেন।

বলতেন, "তুই পড়া ল্যাহা করস, তোর বল-বুদ্ধির দরকার আছে। ডিম খাইলে বল-বুদ্ধি হইবো।"

তারপর মা কোনও এক ফাঁকে শুধু পানি ঢেলে একটা শুকনো মরিচ ডলে কিংবা কিছু মরিচের গুড়া আর লবণ মেখে ভাত খেয়ে নিতেন। ঝালে তার চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল গড়িয়ে পড়তো।

যেদিন হাঁস কিংবা মুরগি ডিম পাড়তো না.... সেদিন পাশের ঘরের জ্যাঠি মা'র কাছ থেকে এক চামচ তরকারি এনে রেখে দিতেন ছেলের জন্য। জ্যাঠি মা'র তরকারি স্বাদ হতো খুব। কেন না তরকারিতে তেলের পরিমানটা একটু বাড়িয়ে দিতেন তিনি। তাঁর ছেলের বাজারে তেল-নুনের ব্যবসা ছিল যে...।

কারও বিয়ে শাদি, মেজবানি, রমজান মাসের দোয়া ইত্যাদি ব্যতীত গরুর মাংসের স্বাদ নেয়াটা ছিল কল্পনাতীত সেই সময়।

আর মুরগির মাংসের স্বাদ পেতাম বাড়িতে কোনও মেহমান অতীত এলে। তাছাড়া বড় ফুফুর অবস্থা তখন ভালো ছিল। মাঝে মধ্যে তাঁর বাড়ি গেলে মুরগি জবাই দিয়ে খাওয়াতেন খুব আদর করে।

তাঁর ঋণ এই জীবনে শোধ করতে পারবো না আমি। তিনি আমার আরেক মা।....

....কোনও মুরগি যদি আচমকা রাণিক্ষেত রোগে আক্রান্ত হতো কোনও দিন তখনই কেবল সেটি জবাই করা হতো। অন্যথায় নয়....। সেই মুরগির মাংসও খুব আরাম করে খেতাম। মড় মড় করে হাড় চিবুতাম। গিলাটা, কলিজাটা, মাথাটা, রানের পিছটা ছেলের জন্য আলাদা করে রেখে দিতেন মা।............


এখন বাজারে গেলে এক হালির নিচে মুরগি কেনা হয় না, দশ কেজির নিজে গরু কেনা হয় না। আস্ত খাসি ছাড়া খাসির গোস্ত কেনা হয় না।.......

জীবন মানুষকে কখন কোথায় নিয়ে দাঁড় করায় কেউ জানে না।.....










৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র।। দ্বীপ সরকার

লিখেছেন দ্বীপ ১৭৯২, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০



দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র

একদা এক রাতে-
রাষ্ট্র, কড়া নাড়তে নাড়তে দরজা ভেঙ্গে
ঢুকে পড়লো
আমি নিথর,নিস্তব্ধ এক জনগণ
বললাম,আমি ভয় পাচ্ছি
রাষ্ট্র হাসতে হাসতে ভাঙ্গা দরজা দিয়ে
এক পা দুই পা করে,লোকালয়ে মিশে গেলো

রাষ্ট্র কি ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×