.......১৯৭১সালে ২৫মার্চের পর শিল্পী-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের অনেকে দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন, আবার অনেকে দেশের মধ্যেই আত্মগোপন করেছিলেন।..... সেই সময় শহীদুল্লা কায়সারেরও ডাক আসে ভারত থেকে। ....পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকেও বার বার তাঁকে নিয়ে যেতে লোক আসে। কমরেড মণি সিংহ তাঁর কাছে পত্র লিখলেন একদিন- "আর এখানে থাকা সঙ্গত নয়।"
....রাশিয়ান দূতাবাস থেকেও আমন্ত্রণ আসে।
কিন্তু তিনি সবার আমন্ত্রণ সবার পত্র অগ্রহ্য করেন। কারণ, তিনি ভেবেছিলেন, সবাই দেশ ছেড়ে গেলে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সাহায্য করবে কে? কে তাঁদের পাশে দাঁড়াবে শক্তি ও সাহস যোগাবে?
তাই তিনি রয়ে গেলেন। আত্মগোপনও করলেন না। দেশ ছেড়েও গেলেন না। মু্ক্তিযোদ্ধদের সাহায্য করার জন্য তাঁদের শক্তি ও সাহস যোগাবার জন্য রয়ে গেলেন তিনি এইখানে এই মাটির বুকে.....।
.........................
১৪ ডিসেম্ভর সন্ধ্যা। পুরান ঢাকার বাসায় বিবিসি শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তিনি। স্ত্রী পান্না কায়সার মেঝেতে বসে মেয়েকে ফিডার খাওয়াচ্ছেন।
এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হয়। উৎফুল্লচিত্তে বললেন- "মুক্তিযোদ্ধারা এসেছে, তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দাও। তাড়াতাড়ি খুলে দাও...."
দরজা খোলার পর দেখলেন- তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। তারা ছিল ঘৃণ্য হায়েনাদের দোসর "আলবদর" বাহিনী।
...... যাবার সময় পান্না কায়সারের দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বলেছিলেন, "ভালো থেকো তোমরা....."
আজ শহীদুল্লা কায়সারের ৮৮তম জন্মদিন। ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মাজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করে ছিলেন তিনি।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিবেন হে প্রিয় মানুষ......
পত্রিকাঅলাদের মনে না থাকলেও আমাদের ঠিকই মনে আছে আপনার জন্মদিনের কথা।
কিছু কিছু মানুষের শুধু মৃত্যুদিন নয়, জন্মদিনও সমান গুরুত্ব বহন করে.... এ কথাটি হয়তো জানা নেই পত্রিকাঅলাদের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


