somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১০ বছরের হাবলু কে ২২ বছরের হাবলুর খোলা চিঠি

০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় হাবলু ,

কেমন আছিস ? জানি এ প্রশ্ন করা অবান্তর । তারপরেও করলাম আর কি । আর আমি ? আমি ভালোই আছিরে । তোকে যখন চিঠিটা লিখতে বসেছি তখন আমি আমার ইউনিভার্সিটি লাইফের একদম শেষ পর্যায়ে। আর মাস ছয়েক পর শুরু হবে আসল সংগ্রাম । বেঁচে থাকার সংগ্রাম ।

আমি জানি তোর মাথায় একটা কথা ঘুরছে সেটা হল , ইউনিভার্সিটি কি ? ইউনিভার্সিটি হল উচ্চশিক্ষার জায়গা অর্থাৎ কলেজ থেকে বড় জায়গা । ঐযে , যেখান থেকে পড়ার পর মানুষ ইঞ্জিনিয়ার , গণিতবিদ, পদার্থবিদ, বুদ্ধিজীবি হয় আর কি । কিন্তু সেটা ডিগ্রি কলেজ থেকে বড় । হয়ত অনেকে এটা শুনে হাসবে , যে তুই ইউনিভার্সিটি কি জানিস না । বাংলাদেশের দক্ষিণে একটা মফস্বল শহরে ক্লাস ফাইভে পড়া আত্মভোলা ছেলের জন্য এটাই কি স্বাভাবিক না ? যাইহোক আমি সেখানকার লেখাপড়ার একদম শেষ পর্যায়ে । তোকে কিছু বলতে ইচ্ছে করছে এই জন্যই আমার লিখতে বসা ।

তোর কমিক্স গুলা একটু যত্ন করে রাখিস । না হলে কিন্তু হারিয়ে যাবে । সব যাবে একটাও খুঁজে পাবি না । আর "টারজান সমগ্র" এর ২৪ নম্বর গল্প টা পড়ে নিস । তা না হলে পরে পাতা ছিড়ে যাবে । পড়তে পারবি না । ও হ্যাঁ , আরো একটা তোর কাছে ৩ গোয়েন্দা র যে ১২ টা ভলিউম আছে ওটা কিন্তু কাউকে দিবি না । এমনকি তোর জানের দোস্ত কেও না । একবার দিলে আর ফেরত পাবি না কিন্তু ।

কি রে !!! মন খারাপ । মন খারাপের কিছু নেই । তোর কোন বন্ধু নাই , এটা আমি জানি । প্রতিদিন স্কুলে তোকে যে কি পরিমাণ জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করে নিতে হয় এটা আমি জানি । সবাই তোকে নিয়ে মজা করে । গায়ে লেগে ঝগড়া করতে আসে । মারামারি করতে আসে । একটু ধর্য্য ধরিস । আমি বলতেছি সব ঠিক হয়ে যাবে ।

তুই একটু মোটা বলে সবাই তোকে "ভুড়েল", "হোড়েল" বলে ডাকে এতে মন খারাপ হওয়ার কথা । তবে বিশ্বাস কর , তুই যদি ধর্য্য ধরে স্কুল/ কলেজ টা পার করতে পারিস, তোর আর এইসব উলটা পালটা নামে ডাক শোনা লাগবে না । তাদের কে ভুলে যেতেই পারিস । তারা এমন কোন আহামরি কিছুই না যে তাদের মনে রাখা লাগবেই ।

আরেকটা উপদেশ , আমি খুব ভালো করেই জানি যে তোর ভিডিও গেইম খেলার খুব শখ । তোর নিজের যে SEGA টিভি গেম আছে ওইটাতে পোষায় না । কিন্তু বাবা মা এর কাছে এখন তেমন কোন টাকা পয়সা নেই রে , যে তোকে একটা কম্পিউটার কিনে দেবে । তারাও কিন্তু কষ্টে আছে যে তোকে তারা কিনে দিতে পারছে না । জিদ করিস না ।

তোর যে সব আত্মীয় স্বজনদের, বন্ধুদের কম্পিউটার আছে , খবরদার তাদের কম্পিউটার এ গেম খেলতে যাবি না । তারা তোকে গেম খেলতে দিবে না ।কখনোই না । তারা তোর আড়ালে তোকে "গেমের নেশাখোর" নাম দিবে । কিন্তু তুই কষ্ট করে ধর্য্য ধর । তুই যখন ইন্টারমিডিয়েট পাস করবি তারপর তোর যে কম্পিউটার টা হবে তা অনেক ভালো । তুই নিজেও কল্পনা করতে পারবি না যে তোর এই রকম কম্পিউটার থাকবে । তোড় যে সব গেইম খেলার জন্য তোর জানটা আকুপাকু করত বা করবে কিন্তু কেউ তোকে খেলতে দিতো না বা দিবে না তার সবই খেলতে পারবি । যেমন হাফ লাইফ টু , হিটম্যান, ডেল্টা লাইফ । হয়ত যখন তোর কম্পিউটার হবে তখন এই গেমগুলো অনেক পুরোন হয়ে যাবে । কিন্তু মনের ইচ্ছা টা তখন পুরণ করতে পারবি । ২০০৭ এর দিকে হয়ত একটা গেম এর দেখা পাবি । গেম টার নাম "কল অফ ডিউটি : মডার্ন ওয়ারফেয়ার" । জানি গেম টা খেলার জন্য তুই জান দিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবি । কিন্তু কি করবি বল । কেউ তোরে সেটা খেলতে দিবে না । কিন্তু তুই যদি একটু ধর্য্য ধরিস , তোর কম্পিউটার এর রিকুইয়ারমেন্ট এমন হবে যে "কল অফ ডিউটি : এডভান্স ওয়ারফেয়ার" আরামসে চলবে । ও হ্যাঁ !!! তুই যখন ক্লাস টেন এ উঠবি , তখন শুনতে পাবি যে তোর আত্মীয়ের কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেছে B-)

তোকে আরো চিঠি লখব , রেডি থাকিস । তবে তুই যেমন বোকাসোকা আছিস, তেমন থাকিস , চেঞ্জ হইস না । তুই নিজে যে ১০০% বিশুদ্ধ ছেলে , এটা হয়ত তুই জানিস না , আমি জানি । খালি নিজের উপর বিশ্বাস রাখ ।


২২ বছরের হাবলু
১লা নভেম্বর, ২০১৫

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:০১
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×