ঐ পাষণ্ডের সু-ললিত কন্ঠে
আজ হৃদয়ে বিষন্নতা ছুঁয়ে যায়,
উড়ু উড়ু দুঃখগুলোর মৌন মিছিলে
কষ্টের নীহারিকা বাঁধ মানে না,
অন্তরীক্ষে প্রস্ফুটিত ক্লেশ বিষাদ সিন্ধুর ন্যায় বিস্তৃত,
আদ্র জলরাশির বাষ্পে সিক্ত ফুসফুস,
কলিজার পরতে পরতে মরিচার ঝং,
রক্তাক্ত হৃদপিন্ডের আন্দরে বেজে উঠে
রক্তের কল কল কল্লোল।
বর্ণহীন ত্বক, খুসখুসে কাশি,
উর্দির নিচে কংকালসার দুর্বল হাড়,
দীর্ঘশ্বাস প্রস্থানের সন্ধানে ক্লান্ত শরীর,
হতাশার অন্তিম আক্ষেপে রুগ্ন মন।
সারস পাখির ক্ষয়িষ্ণু বিহঙ্গে পালকের ঘাটতি,
নিরানন্দে মৃত যৌবন,
ভোগের রাজ্যে দশ দিক হা করে ওত পেতেছে,
কন্ঠে তাদের, আরো চাই, আরো চাই !
হর্ষে মুখরিত হায়েনারা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে
মস্তিস্কের এক একটি নিউরন,
তবুও অতুষ্ট জগত, অতুষ্ট অভিজন নিরন্তর।
জীবন যুদ্ধে অগোচরে কত রাত রোদনে সিক্ত ছিল !
কত চারপোকার আদি নিবাস এই নিস্ক্রিয় দেহে,
এখনো পুড়ছে শরীর তীক্ষ্ম মরুচরের ক্ষীপ্ত দাহ্যে।
হর্স পাওয়ারের যন্ত্র নয়,
আমি যে রক্তে মাংসে গড়া আস্ত একটি মানুষ।
বক্র কায়ার নির্জল লোচনদ্বারে
এই বিস্তীর্ণ জগতে দেখার কেহ নেই,
নেই কেহ একটু ভাবার,
হৃদয় আজ বড্ড ভরাক্রান্ত,
আগুনের ফুলকির ন্যায় ক্ষীপ্ত হাহাকার আজ মুক্তির অভিযোগ দাখিল করে।
শূন্য কুঠিরে নেমে আসে এক অন্ধকার নুনতা রজনীর ছাঁয়া।
এই নিস্তব্ধ নিশিতে হৃদয় পরতে চিনচিন করে উঠে মুক্তির বন্দনায়,
রাক্ষুসে আগ্রাসনের ছোবল হতে মুক্তি চাই,
বিষাক্ত অক্সিজেন যন্ত্রনা হতে বাঁচতে চাই,
আমি শুধু একটিবার
প্রানভরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে চাই,
ঐ রক্তিম সূর্যাস্তের আগে, জীবনের অবসাদে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১৭ রাত ৯:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



