ইসলামি শরিয়া আইন অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তি তাহার ওয়ারিশগণের মধ্যে বন্টন ব্যবস্থায় যে বিশৃঙ্খলা/ক্রটি আছে এ নিয়ে আমরা অনলাইন জগতে পক্ষে বিপক্ষে তর্ক বির্তক দেখে আসছি ।আমিও আমার বন্ধু সার্কেলে তর্ক বির্তকে লিপ্ত হয়। ইসলামি শরিয়া আইনে মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তি তাহার ওয়ারিশগণের মধ্যে বন্টনব্যস্থাকে বলা হয় ফরায়েজে নীতি। ইহা পবিত্র কোরআনের বিধান। মুসলিম জগতে এই বিধানটি যেরুপ দৃঢ়ভাবে প্রতিপালিত হয় সেরুপ অন্য কোনটি নয়। ইহার কারন বোধ হয় এই যে, ফরায়েজে বিধানের সঙ্গে জাগতিক স্বার্থ জড়িত আছে। এই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধানটিতে একটি আউল দেখা যায়।আউল কথাটির ধাতুগত অর্থ আগোছাল বা বিশৃঙ্খলা।ফরায়েজে বিধানের মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায় যে, মৃতের ত্যাজ্য সম্পত্তি তাহার ওয়ারিশগনের মধ্যে নির্ধারিত অংশ মোতাবেক বন্টন করিলে কেহ পায় এবং কেও পায় না।
এক্ষেত্রে আমরা পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ১১ ও ১২ নং আয়াতদ্বয় দেখে নিতে পারি।
সূরা নিসার ১১ নং আয়াত
আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু?জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু' এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।
সূরা নিসার ১২ নং আয়াত
আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক-চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা-পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয়-ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
উক্ত বিধান অনুসারে যদি কোন মৃত ব্যক্তির মা, বাবা, দুই মেয়ে ও এক স্ত্রী থাকে তবে মা ১/৬ , বাবা ১/৬ , দুই মেয়ে ২/৩ এবং স্ত্রী ১/৮ অংশ পাইবে।
কিন্তু ইহা দিলে স্ত্রী কিছুই পাই না। অথচ স্ত্রীকে দিতে গেলে সে পাবে ১/৮ অংশ। এক্ষেত্রে মোট সম্পত্তি “১” এর স্থলে ওয়ারিশগণের অংশের সম্পত্তি হয় ১১/৮ । অর্থাৎ ষোল আনার স্থলে হয় আঠার আনা। সমস্যাটি গুরুতর বটে। মুসলিম জগতে উক্ত সমস্যাটি বহুদিন যাবত অমীমাংসিতই ছিল। অতঃপর সমাধান করলেন হযরত আলী (রাঃ)। তিনি যে নিয়মের দ্বারা উহার সমাধান করেছেন তাহার নাম আউল।
হযরত আলী (রাঃ) এর প্রবর্তিত আউল বিধানটি এবং বর্তমানে গনিতের ভগ্নাংশের আলোকে আমরা উপরের হিস্যা অনুসারে বন্টন করলে কি ফলাফল পাই তা নিম্নের একটি উদাহরনের মাধ্যমে পরক্ষ করে দেখি।
উদাহরন সরুপঃ- মৃত ব্যক্তি মৃত্যুর সময় মা, বাবা, দুই মেয়ে ও এক স্ত্রী রেখে গেলেন এবং নগদ এক লক্ষ টাকা সম্পদ হিসাবে রেখে গেলেন। তাহলে উক্ত টাকার কে কত অংশ পাবে?
শরিয়া আইন অনুযায়ী বন্টনঃ-
১/৬+১/৬+১/৮+২/৩
=(৪+৪+৩+১৬)/২৪= ২৭/২৪
গনিতের প্রচলিত নিয়মে প্রকৃত ভগ্নাংশ হতে অপ্রকৃত ভগ্নাংশ হলে তখন হরকে লব ধরে নিতে হয়। ফলে বাবার ১/৬ অংশ = ৪X১০০০০০/২৭=১৪৮১৪.৮১৪৮
মাতার ১/৬ অংশ = ৪X১০০০০০/২৭=১৪৮১৪.৮১৪৮
স্ত্রীর ১/৮ অংশ = ৩X১০০০০০/২৭=১১১১১.১১১১১
২ কন্যার ২/৩ অংশ = ১৬X১০০০০০/২৭=৫৯২৫৯.২৫৯২
বাবার অংশ+মাতার অংশ+স্ত্রীর অংশ+ ২কন্যার অংশ
=১৪৮১৪.৮১৪৮+১৪৮১৪.৮১৪৮+১১১১১.১১১১+৫৯২৫৯.২৫৯২
=৯৯৯৯৯.৯৯৯৯৯৯৯
=১০০০০০০
এবার দেখি ১০০০০০ এর ১/৬ =১৬৬৬৬.৬৬৬৬
পার্থক্য =১৬৬৬৬.৬৬৬৬-১৪৮১৪.৮১৪৮=১৮৫১.৮৫১৮
এখন প্রশ্ন জাগে ১৮৫১.৮৫১৮ টাকা কোথায় গেল।
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আলোচ্য ফরায়েজে বিধানের সমস্যাটি সমাধান করলেন হজরত আলী (রাঃ) তাহার গাণিতিক জ্ঞানের দ্বারা এবং মুসলিম জগতে আজও উহাই প্রচলিত। এ ক্ষেত্রে স্বভাবতই মনে উদয় হয় যে তবে কি আল্লাহ গণিতজ্ঞ নহেন? হইলে, পত্রিব কোরআনের উক্ত বিধানটি ক্রটিপূর্ণ কেন?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




