তোবা গার্মেন্টসের মালিক দেলোয়ারকে দিয়েই বিষয়টা শুরু করা যায়। তার গার্মেন্টেস ফ্যাক্টরিতে যথাযথ ফায়ার এক্সিট না থাকায় এবং কমপ্লায়ান্স না মানায় যে তিন/চারশ মানুষকে আগুনে পুড়ে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে সেটার শাস্তি তাকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ীই পেতে হবে। তবে তার বাইরে তিনি তার ফ্যাক্টরির বেঁচে থাকা শ্রমিকদেরকে বেতন দিচ্ছেন না সেটা ভিন্ন আর একটা গুরুতর অপরাধ। এই ধরনের অপরাধ শুধু তিনিই নন, আরো অনেক গার্মেন্টস, কল কারখানা এমনকি বাসা বাড়ীর মালিকেরাও করছেন তাদের কর্মচারীদের সাথে। অনেকেই মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না। রিমেডি হিসেবে একটা কাজ করা যেতে পারে!
ধরুন দেলোয়ারের গার্মেন্টসে দুই হাজার শ্রমিক কাজ করেন এবং তাদের দুই মাসের বেতন বাকী। এখন এইসব দেলোয়ার সাহেবরা যদি তাদের বেতন দিতে না পারেন কিংবা দিতে না চান, তাহলে তারা একটা কাজ করতে পারেন বা সরকার সেটা করতে বাধ্য করতে পারেন। দেলোয়ারকে শ্রমিকদের বেতন ফাকি দেবার অপরাধে জেলখানায় না পাঠিয়ে তাকে প্রতিটা শ্রমিকের বাড়ীতে দুই মাস করে কাজ করে দিতে হবে। যেমন ধরুন, শ্রমিকের বাচ্চাকে স্কুলে আনা নেওয়া করা, পয়ঃ পরিস্কার করা, ঘর বাড়ী পরিস্কার করা, সারাদিনের কর্মক্লান্ত শ্রমিকের হাত পা টিপে দেওয়া, তাদের বাড়ীর ক্ষেত খামারে কাজ করে কিছু শাক সবজি উৎপন্ন করা, গরীব বাচ্চাদের ডাইপার বদলে দেয়া (অথবা নোংড়া ক্যাথা কাপড় ধৌত করা) ইত্যাদি।
কতদিন লাগতে পারে? যদি দুই হাজার শ্রমিক থাকে তাহলে ২০০০* ৬০= ১২০০০০ দিন। অর্থাৎ ১২০০০০/ ৩০=৪০০০ মাস অর্থাৎ ৪০০০/১২=৩৩৪ বছর
এখন একজন দেলোয়ারের পক্ষেতো আর এতদিন বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, সুতরাং তিনি ইচ্ছে করলে এক্ষেত্রে তার ফ্যাক্টরির অন্যান্য পার্টনারদেরকে সাথে নিতে পারেন। ধরুন তার পাঁচজন পার্টনার রয়েছে। তাহলে ৩৩৪/৫=৬৭ মানে একেক জনের ভাগে পড়বে ৬৭ বছর। ষ্টিল ঠু মাচ? ঠিক আছে, জানেনতো শ্রমিকেরা আবার খুব মালিক দরদী হয়, অতএব একমাসের কায়িক শ্রম মওকুফ। অর্থাৎ একেক জনের ভাগে পড়বে মাত্র ৩৩ বছর ৬ মাস করে। বিষয়টা সরকার ও সংশ্লিষ্টরা ভেবে দেখতে পারেন।
এতে একটা সুবিধা হবে দেলোয়ার সাহেবদের। আখেরাতে হয়তো এই ধরনের গুনাহর কাজের জন্য আর নুতন করে হাজার হাজার বছর দোযখের আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হতে হবে না। মহান আল্লাহ তায়াল মাফ করে দিলেও দিতে পারেন!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



