somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সভ্যতা খায় না মাথায় দেয়? হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট খায় না পান করে?

২৮ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ১২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাস ও ট্রেনে করেই প্রতিদিন অফিসে আসতে হয়। ডাউন টাউন টরন্টোর কেন্দ্রবিন্দু ডানডাস এন্ড ইয়াং ষ্ট্রিট এ পার্কিংতো দুরের কথা গাড়ীগুলোর ডাইনে বামে টার্ন করাও নিষেধ। ট্রেন মানে সাবওয়ের কথা বলছি। ওয়ার্ডেন ষ্টেশন থেকে ইষ্ট ওয়েষ্ট সাবওয়েতে উঠেই দুই সীটের একটায় বসে ঝিমানোর চেষ্টা করছিলাম আজ। আড় চোখে দেখে নিয়েছি পাশে বসা অল্প বয়সী কালো মেয়েটাকে। ট্রেনটা চলতে শুরু করেছে, হঠাত করেই কানে এলো কে যেনো বলছে, এক্সকিউজ মি! তাকিয়ে দেখি পাশের মেয়েটি। বললো, "ক্যান ইউ প্লিজ গিভ ইউর সীট টু দ্যাট জেন্টেলম্যান? আই আ্যাম প্রাগনেন্ট।" তাকিয়ে দেখি অশীতিপর একজন বৃদ্ধলোক হাতে বাক্স পেটরা নিয়ে দরজার কাছে দাড়িয়ে আছেন। সাথে সাথে উঠে তাকে বসতে দিলাম। এক ঘন্টার পুরো রাস্তাটাই দাড়িয়ে পার করছি, আর ভাবছি যে আমার পাশেই আরো দু একজন খুবই কম বয়সের ছেলে মেয়েরা ছিল তাদেরকে না বলে আমাকেই বললো, ভালইতো, আমি মনে হয় এখনও ইয়াং লুকিংই আছি! মুহুর্তের জন্য নিজ চেহারাটা একটুখানি ট্রেনের জানালার গ্লাসে দেখার চেষ্টা করলাম। জাষ্ট কিডিং!
আসল ব্যাপারটা হলো, এই ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটে। এখানে বাস বা ট্রেনে যথেষ্ট পরিমানে সীট বৃদ্ধ বা ডিজএ্যাবল মানুষদের জন্য সংরক্ষিত থাকে, সেগুলোতে কেউ বসে পড়লেও ওই ধরনের কোন লোক এসে গেলে তাকে ছেড়ে দিতে হয়। এছাড়া, যে গুলো সংরক্ষিত নয়, সাধারন মানুষের, সেগুলোতেও একটা অলিখিত প্রাকটিস হলো, কোন গর্ভবতী মহিলা, বৃদ্ধ বৃদ্ধা বা অসুস্হ কাউকে দাড়িয়ে থাকতে দেখলে অপেক্ষাকৃত ইয়াংরা সীট ছেড়ে তাদেরকে বসতে দেন। এখানেও আবার অনেক বিষয় শেখার আছে। যেমন, কোন কোন বৃদ্ধ মানুষ যারা এখনও চলন বলনে নিজেকে শক্তিশালী মনে করেন তাদের আত্নসম্মানবোধও কম নয়, তারা প্রায়ই বসতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, নো, ইটস ওকে, আই আ্যাম ফাইন। আর একটা ব্যাপারও দেখেছি যে, কেউ যদি তার সীট অন্য কাউকে অফারও করেন সেটা হতে হবে আন্তরিক, যেমন তাকে তার সীট থেকে উঠে দাড়িয়ে সেটা অফার করতে হবে। নিজের সীটে বসে কাউকে যদি বলেন, বসবেন আমার সীট? সেটায় কাজ হবে না, সাথে সাথে ওরা বলে দেয় নো, থ্যাংকস!

সভ্যতা খায় না মাথায় দেয়? হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট খায় না পান করে? কি জানি সবকিছু কেমন যেনো গুলিয়ে যায় যখন আমার ঢাকা শহরের বাস, ট্রেনগুলোর কথা মাথায় আসে!
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×