somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঋতুরাজকে অবহেলিত লেপ সমাজের চিঠি

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৮:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হে ঋতুরাজ,
সমগ্র লেপ মাজের প্রীতি ও শুভেচ্ছা লইবেন। আজ আমরা বড়ই দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনার কাছে পত্র লিখিতেছি। কে জানিত আমাদের এইরকম দুর্দিন আসিবে। কাগজের মত কম্বল আসিয়া আমাদের স্থান দখল করিয়া লইবে। একটা সময় ছিল যখন আমরা পরিবার লইয়া কত সুখেই না দিন পার করিয়াছিলাম। গ্রাম হইতে শহরের মানুষ দিগকে সমগ্র শীত ঋতুতে একমাত্র আমরাই গরম করিয়া রাখিতাম। শিমুল তুলা দিয়া বানানো সেই সব স্বাস্থ্যবান শরীর লইয়া আমরা সমগ্র গ্রাম-বাংলার খাটে খাটে নিজেদের আধিপত্ত বিস্তার করিয়াছি। সেই সব সুদিনের কথা ভাবিতে গেলে, কনকনে শীতেও তুলায় ভরা আমাদের শরীর শিওরে ওঠে।
আপনি তো ভালো করিয়াই জানেন, কত জ্ঞানী-গুণীজন এবং মেধাবীদের শৈশবের সাক্ষী ছিলাম স্বয়ং আমরাই। যাহাদের শৈশবের একটা বড় অংশ কাটিয়াছে আমাদের তলায়। তাহারা শীতের সময় কত উৎসাহে আমাদের তলায় বই লইয়া ঢুকিত। এরপর নিজেদের কুণ্ডলী পাকাইয়া লইয়া মনোযোগ দিয়া পড়া করিত। আমাদের তলায় তাহাদের মনোযোগ কখনও ভঙ্গ হয় নাই। আমরা তাহা হইতে দেই নাই। তাহারা পরীক্ষায় ভালো ফল করিয়াছে। অথচ এখন কী দেখা যায়? কম্বলের নিচে বই লইয়া ঠিকই অনেকে ঢুকে। কিন্তু মনোযোগ দিবার পারে না। একটা সময় দেখা যায় বই ফালাইয়া ফেসবুক লইয়া মাতিয়া উঠিয়াছে।
বিয়ে-শাদীর কথাই দেখেন। শীতকাল আসিলেই গ্রামে-শহরে সর্বত্র বিবাহের ধুম পরিয়া যায়। বিয়ে শেষ হওয়া অবদি বউ-কনে’কে তীব্র শীতের মাঝে সারাদিন ঝিম মারিয়া বসিয়া থাকিতে হয়। এরপর কনকনে শীতের রাতে তাহাদের বাসর ঘরে ঢুকাইয়া দেয়া হয়। বাসর রাত্রিতে বউ-কনের অনেক কথা বলিবার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু কনকনে ঠান্ডায় দেখা যায় দুজনেই কটকট করিয়া কাঁপিতে থাকে। কম্বল জরাইয়াও তখন কোন লাভ হয় না। মনে হয় হাত মুছিবার টিস্যু জড়াইয়াছি। এমন সময় একটা হৃষ্টপুষ্ট স্বাস্থ্যবান লেপ কতটা উপকার করিতে পারে, একবার কল্পনা করিয়া দেখেন।
যাইহোক, কী আর বলিব? মানুষ কি করিয়া এতটা অকৃতজ্ঞ হইতে পারে আমাদিগের বোধগম্য হয় না। যাহাদের জন্য আমরা সমগ্র শীতের রজনী নির্ঘুম কাটাই তাহাদের উষ্ণ করিইয়াছি। মুখ বুজিয়া তাহদের অত্যাচার রাতের পর রাত সহ্য করিয়া গেছি। কখনও ল্যাপবিরোধী অপরাধের জন্য প্রতিবাদ জানাই নাই। আর সেই তাহারাই রঙ-বেরঙের কম্বল পাইয়া আমাদের পর করিয়া দিল।
সমগ্র ঋতু এবং মানব সমাজ আপনাকে রাজা মানে। ঋতুর এই রাজ্য আমরা নিরীহ প্রজা সকল। এই নিরীহ প্রজা সকলের দুঃখ দুর্দশা আপনি ছাড়া আর কেহ দেখিবে? মহামতি রাজা মশাই আপনি এখন আমাদের একমাত্র ভরসা। আমাদিগের উপর আপনার সুনজর আনয়ন করুণ। কম্বলের স্বৈরাচারী ব্যবহার হইতে আমাদের রক্ষা করুণ। আপনার মাধ্যমে সরকারের নিকট আমাদের আকুল আবেদন, অনতিবিলম্বে দেশে দেশে লেপের ঐতিহ্য এবং সুবিধা বিষয়ক প্রচারণা চালু করুক। ঘরে ঘরে লেপের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়া আনিবার প্রচারণার বিকল্প নাই। অন্যান্য ঐতিহ্যগুলোর মত আমাদের শেষ ঠিকানা যেন যাদুঘরে না হয়, দয়াকরিয়া এই দিকটা লক্ষ রাখিবেন। নিজের যত্ন লইবেন। আপনার সর্বাঙ্গীণ সুস্থ্যতা কামনা করি।

ইতি
আপনার নিরীহ প্রজা সকল
অবহেলিত লেপ সমাজ
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৮:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×