somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রহস্যময় এক ট্রেন জার্নি

৩০ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লন্ডনে উইক-এন্ড এ পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলা ফেরা করাটা রীতিমত ঝুঁকিপূর্ণ একটা কাজ। স্টেশন-সার্ভিস-ট্রেন-বাস সব কিছু বন্ধ করে দিয়ে এরা শনি রবি এই দুই দিনে অনেক কাজ করে। মেরামত করে। পাতাল রেলের নতুন লাইন তৈরির কাজ করে। সব গুলো রুট কে সপ্তাহের বাকি পাঁচ দিনের টেকসই চলাচলের জন্য প্রস্তুত করে রাখে। যাই হোক, আমি থাকি পূর্ব লন্ডন। গত শনিবার কোন এক জরুরী কাজে পশ্চিম লন্ডনের ইলিং যাইতে হইল। আমার পৌঁছানো দরকার সকাল সাড়ে আঁটটায়। নেটে জার্নি প্লানার এ দেখলাম টাইম দেখাইতেছে পাক্কা এক ঘণ্টার জার্নি। ব্যাপার কি? পূর্ব লন্ডন হতে দ্রুত গতির সেন্ট্রাল লাইনে ত আধা ঘণ্টার বেশী লাগার কথা না। ওহ। উইক এন্ড। সেন্ট্রাল লাইন বন্ধ। যাইতে হবে একদম স্লো গতির ডিস্ট্রিক লাইনে। তাই সময় লাগবে দ্বিগুণ। তবে মাঝপথে কয়েকবার ট্রেন চেঞ্জ করলে সময় কম লাগবে। কয়েকবার চেঞ্জ করে টিকই আধা ঘন্টায় পৌঁছে গেলাম।

আমার কাজ শেষ হবার কথা চারটায়। হয়ে গেল তিনটায়। পাক্কা এক ঘণ্টা বাইচা গেল। এবার ফেরার পালা। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হইতেছে। ঠিক সিলেটে যেমন হয়, থামার নাম নাই। ফিনি ফিনি মেঘ! কাক ভেজা হয়ে গেলাম। স্টেশনে আইসা দেখি যথারীতি সেন্ট্রাল লাইন বন্ধ। কি আর করা। আলসে শরীরে লাইন চেঞ্জ করার চেয়ে মোটামুটি শম্বূক গতির ডিসট্রিক লাইন-এ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বাড়ি ফেরাটা এঞ্জয়েবল মনে হইল। ট্রেন এ উটে দেখি একদম কো-য়া-ঈ-ট। মানুষজন একদম নাই। একপাশে হেলান দিয়ে বসলাম। আরামে আমার চোখ বুজে এলো। একটু পর গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম।

দেখি, কাক ভেজা হয়ে আমি বাড়ি ফিরেছি। মা হইহই করে উটলেন। বিশাল একখান তোয়ালে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, যা এখনি গোসল সেরে আয়। তোরে আমি ভাত বেড়ে দিচ্ছি। আমার অবস্থা ঠিক - পড়েছি মায়ের হাতে, ভাত লইতেই হইবে পাতে ! তাছাড়া ক্লান্ত শরীর। আর দুপুরে একটা টুনা সেন্ডূইচ খাইসি। জাতে বাঙালী। ভাত না খাইলে মনে হয় কিছুই খাই নাইক্কা ! আর আমার মা। পারেন ও। বরাবরের মত এই এক-দুই মিনিটেই হাজারটা তরি-তরকারি রেডি কইরা ফেলছেন। ভর্তা-ভুনা-ভাজি-বিরয়ানী কিছুই বাদ পড়ে নাইক্কা! আমি কেবল খাইতেছি আর খাইতেছি। একদম লোড হইয়া গেলাম। বললাম, আর সম্ভব না, মা। মায়ের এক কথা, আরেকটু নে বাবা। আরেকটু ! আমার ছোট ভাইবোন গুলা ও পাজি একেকটা। দেখতেছে যে আর নিতে পারছি না তবু মায়ের সাথে গলা মিলায়। বলে ভাইয়া আ-রে-ক-টূ............ তবে আমার হাতের নাগালের বাইরে দাড়িয়ে। কারণ ভালো করেই জানে, কাছে পাইলে হালকা-পাতলা-কিল-ঘুষি-চটকানা লাগাবো! খাইতে খাইতেই অনুভব করলাম মা আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন যেন খাইতে খাইতে ঘুমিয়ে না যাই। হঠাৎ মনে হল একটু ধাক্কার মত দিলেন। আর আমি দড়ফড়িয়ে ঘুম থেকে উঠলাম। কিন্তু এ কি? আজব ! আমি ট্রেনের সিটে হেলান দিয়ে ঘুমাইতেসি আর ট্রেনের ড্রাইভার আমারে প্রাণপণে জাগানোর চেষ্টা করছে। দূর হ হারামজাদা। আমার এত্ত সুন্দর স্বপ্ন টা ভেঙ্গে ত দিলই সাথে ঘুম ও ভাঙাল। আমার চোখেমুখে স্পষ্ট বিরক্তি দেখে এইবার ড্রাইভার মুখ খুলল। জিজ্ঞেস করল, উ অররাইট ইয়াং ম্যান? জানালো ট্রেন তার শেষ গন্তব্যে এসে পড়েছে অনেক আগেই। কিন্তু সব যাত্রী নামার পর ইঞ্জিন অফ করার আগে সে শেষবারের মত সবকিছু চেক করতে গিয়ে ক্যামেরায় দেখে যে আমি সিটে হেলান দিয়ে ঘুমাইতেছি। সে প্রথমে ড্রাঙ্ক মনে করে এম্বুলেন্স কল করতে গেসিল। পরে আমার এশিয়ান দেখে বুঝল যে না ড্রাঙ্ক নয়, এমনিই ঘুমিয়ে পড়েছে।

আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে ট্রেন হতে বের হ্লাম। ডিসট্রিক লাইন ট্রেন পূর্ব লন্ডন হয়ে সাউথ লন্ডনে গিয়ে শেষ হয়। ভগ্ন হৃদয়ে ফিরতি ট্রেন ধরলাম।

মনেমনে হিসাব করতেসি, আধা ঘণ্টার এই ট্রেন জার্নি কয় ঘণ্টায় যে শেষ হবে?


৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×