আটদিন ধরে সোহরাব-রুস্তম, নেভি-র্যাব, উত্তর-দক্ষিন, সোনার, ইকো সাউন্ড প্রযুক্তি ব্যবহার- ল্যাপটপ ডেমোনেষ্ট্রেশন সবই হল। হেলিকপ্টারও উড়েছে রাষ্ট্রের পয়সা খরচ করে। কিন্তু লঞ্চ আর পাওয়া গেলনা।
নৌপরিহনমন্ত্রী শাহজাহান খান অবশ্য আগেই রণেভঙ্গ দিয়েছেন। একদিন পদ্মাতীরে গিয়ে কেঁদে কেটে সংবাদ মাধ্যমে কভারেজ নিয়ে লঞ্চ ছেড়ে তুবা গ্রুপের সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত হয়েছেন। এখানে অবশ্য সাফল্য পেয়েছেন। জোর করে হলেও শ্রমিকদের বেতন খাওয়ানো গেছে। কিন্তু জোর করে পদ্মা থেকে লঞ্চ তোলা গেল না কেন!
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন অবশ্য সফল অন্য জায়গায়। লঞ্চটিকে কপ্পার হাতে ছেড়ে দিলেও নিখোঁজ যাত্রীদের সংখ্যা তারা কমিয়ে ফেলেছেন প্রশাসনিক আদেশে। সুতরাং নিহতের সংখ্যাও কমে গেল।
শনিবার পর্যন্ত সরকারি হিসাবেই মোট নিখোঁজ যাত্রী ছিলেন ১১২ জন। তাদের তালিকাও টঙ্গানো ছিল মাওয়া ঘাটের তথ্য কেন্দ্রে। কিন্তু রোববার হঠাৎ করেই আগের তালিকা সরিয়ে ৬১ জন নিখোঁজের তালিকা টানান হয়। ৫১ জন নিখোঁজ যাত্রী তালিকা থেকে উধাও হয়ে যান। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদলের দাবী ৬১ জনই সঠিক। আগের তালিকায় ভুল ছিল। তবে নতুন তালিকা কিভাবে বানান হল তার ব্যাখ্যা নেই তাঁর কাছে।
ব্যাখ্যা তাঁেক দিতেও হবে না। কারণ নিখোঁজদের লাশ পাওয়া গেলে তো? এতদিনে লাশ পঁচে হয়তো পদ্মার অতলে নরম মাটিতে মিশে গেছে। নয়তো ¯্রােতের টানে গিয়ে মিশেছে অজানায়। জেলা প্রশাসক সাহেব চাইলে নিখোঁজের পুরো তালিকাই গায়েব করে দিতে পারতেন। কিন্তু কিছুটা লজ্জা থাকায় সেটা হয়তো তিনি করেননি।
কপ্পা পদ্ধতি
এক হাজার ২০০ হাত লম্বা রশিতে ইট বেঁধে দুটি ট্রলার দিয়ে ইলিশ মাছ ধরার জাল টানার মতো করে চিরুনি অভিযান চালানকে মুন্সিগঞ্জের লোকজন ‘কপ্পা’ পদ্ধতি বলে জানেন। কেউ কেউ একে টাটকা পদ্ধতিও বলেন। এই পদ্ধতিতে তলিয়ে যাওয়া জলযান বা যাত্রী উদ্ধারের অতীত রেকর্ডও নাকি আছে।
আর এখন সব হারিয়ে এই কপ্পায়ই নির্ভরতা খুঁজে পেয়েছে আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রশাসন।
মানুষ কী পিছনে হাঁটে? হাঁটে। আমাদের দেখলইে তা বোঝা যায়।
লিংক
http://www.harunnews.com/
হারুন উর রশীদ স্বপন
ঢাকা
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ৯:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



