somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসময়ের খসড়া

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালবেলা যখন বাসা থেকে অফিসমুখী হই, তখন স্কুলগামী ছােট ছোট শিশুদের মুখের দিকে তাকালে বড্ড খারাপ লাগে। কোন শিশু তার মায়ের কোলে ঘুমাচ্ছে। কোন মা সামনে বই মেলে রেখেছে পড়ার জন্য কিন্তু চোখ মেলতে পারছেনা ঘুমের ঘোরে। সাথে একগাদা বই আর খাতায় ঠাসা ভারী স্কুলব্যাগ। আমি একটি নিবন্ধে পড়েছিলাম-Most of the school going children carry more than 10 percent of their own body weight in their backpacks which are loaded with packed lunches, water bottles, sports kit, text books, exercise books, notebooks and stationary. The combined weight of the whole lot causes severe health problems which include backache, fatigue and even scoliosis of the spine and children develop a poor posture as they grow. The heavy school bags cause permanent damage and long term back deformities which lead to a heavy physical and emotional cost.

আমার জানা নেই, এই ব্যাপারে বাংলাদেশে কোন গবেষণা হয়েছে কিনা। নিত্যদিনের এই ঘুম ভাঙানো রুটিনটা শিশুদের মানসিক প্রতিভা বিকাশে সমস্যা করছে কিনা। আন্ডার ফাইভ শিশুদের এতো সকালে ঘুমের বারোটা বাজিয়ে স্কুল। তার ঘুমই ঠিকমত হচ্ছেনা। ঘুম যেমন ঠিকমত হচ্ছেনা, সাথে সাথে সকালের খাবারটাও। টিফিনটা হয়তো বাক্সবন্দীই থেকে যায়। সেই ভোর পাচটায় তাকে রেডি হতে হয় ঢাকা শহরের ট্রাফিকজ্যাম পেরিয়ে আটটার স্কুলে পৌছাতে হলে।

ওদের স্কুলে যাওয়া দেখে আমার ছেলেবেলায় স্কুলে যাওয়ার কথা মনে পড়ে। আমি জন্মেছি গ্রামে, বড়ও হয়েছি গ্রামে। অজপাড়া গা। যেখানে রাস্তাঘাট ছিলনা, বিদ্যুতের আলো ছিলনা। সকালবেলা পাড়ার ছেলেরা মিলে পুকুরে ন্যাংটো হয়ে গোসল সেরে, গায়ে তেল মেখে, বারান্দার রোদে পাটিতে বসে ভাত অথবা রুটি খেয়ে স্কুলে যেতাম। স্কুল মাঠে প্রচুর খেলাধুলা হতো। আমি কাব স্কাউটের সদস্য ছিলাম। তারপর বয়েজ ও বড় হয়ে রোভার হই। আমি ছবি আঁকতে বেশি পছন্দ করতাম। হেডস্যার আমার জন্য তাই বেশি রংপেন্সিল আর কাগজ বরাদ্দ দিতেন। বিকেলবেলা বাড়ি ফিরে ছিপ নিয়ে বসে যেতাম মাছ ধরতে। বিকেলবেলায় কাক তাড়াতে যেতাম আমাদের শস্যক্ষেতে। কোনদিন দাড়িয়াবান্দা, হাডুডু। আবার কোনদিন বিলে যেতাম পোনা মাছ ধরতে। প্রকৃতির পালাবদলে আমার শৈশবটা ছিল সজীব। দাদা পুথি পাঠ করতেন ভালো। মাঝে মাঝে সব ভাইবোন মিলে বসে যেতাম পুথিপাঠ শুনতে। সন্ধ্যে হলে কুপি অথবা হারিকেন জ্বালিয়ে বসে যেতাম পড়তে। আমরা সব ভাইবোন একসাথে পড়তে বসতাম। সবাই জোড়ে জোড়ে পড়তাম। এটা কেন করতাম জানিনা। সেই ছেলেবেলা খুব মিস করি।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:২১
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×