somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৭ গুম-খুন: র‌্যাবের তিন কর্মকর্তার কোর্ট মার্শাল হচ্ছে না যে কারণ...

১০ ই মে, ২০১৪ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নারায়ণগঞ্জের সিটি কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ আলোচিত ৭ অপহরণ ও খুনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণ হলেও দুই সেনা ও এক নৌ বাহিনীর কর্মকর্তার কোর্ট মার্শাল হচ্ছে না। বিদ্যমান সামরিক আইনে তাদের কোট মার্শাল হওয়ার সুযোগ নেই।

এই তিন কর্মকর্তা সশস্ত্রবাহিনীর হলেও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন র‌্যাবে ডেপুটেশনে থাকা অবস্থায়। আর এ কারণেই তাদের কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হতে হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদেরকে লগ এরিয়ায় অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। যে কোনো সময় গ্রেপ্তারও হতে পারেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ৫ মে সোমবার সেনাবাহিনীর ২ কর্মকর্তাকে অকালীন অবসর ও নৌবাহিনীর ১ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তারা হলেন র‌্যাব-১১-এর প্রত্যাহার করে নেওয়া অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ, মেজর আরিফ হোসেন ও নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের প্রধান লে. কমান্ডার এমএম রানা। এর মধ্যে তারেক সাঈদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা। সূত্রমতে, সেনা সদর দপ্তর ও নৌবাহিনী সদর দপ্তর থেকে জারি হওয়া এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে তাদের অকালীন অবসর ৫ মে অপরাহ্ন থেকে কার্যকর হবে। তবে স্বাভাবিক অবসরের মতো তারা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। অবসরপ্রাপ্ত বলে র‌্যাঙ্ক পরিচিতিও ব্যবহার করবেন।

সূত্র জানায়, এই ৩ কর্মকর্তাকে অকালীন ও বাধ্যতামূলক অবসর মূলত অপহরণ বা খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের কারণে নয়, অপহরণের পর দায়িত্ব অবহেলার কারণে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্বাহী ক্ষমতাবলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ এই শাস্তি দিয়েছেন।

সূত্র আরও জানায়, সেনা আইনে এই ৩ কর্মকর্তার বিচারের সুযোগ নেই। তারা ডেপুটেশনে র‌্যাবে রয়েছেন। র‌্যাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। নারায়ণগঞ্জে ৭ অপহরণ ও খুনের ঘটনায় র‌্যাব কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ওঠার পর র‌্যাব তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে তারা দোষী সাব্যস্ত হলে ফৌজদারি আইনে তাদের বিরুদ্ধে বিচার হবে। এর আগে চট্টগ্রামের আনোয়ারার তালসার দরবার শরীফে দুই কোটি ৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ তৎকালীন র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ফৌজদারি আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। সূত্রমতে, এই ঘটনায়ও তদন্তে প্রমাণ হলে ৩ কর্মকর্তা যে কোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন। অবসরে গেলেও তারা নজরদারিতে রয়েছেন। অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়ারও তাদের কোনো সুযোগ নেই। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও বলেছেন, ফৌজদারি আইনে তাদের বিচার হতে কোনো বাধা নেই। অপরদিকে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীও তাদের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত করেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

৩০ মে অপহূত ৭ জনের মরদেহ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার হয়। আর গাড়ি দুটি পাওয়া যায় গাজীপুর ও ঢাকার নিকেতনে। জনগণের প্রতিবাদে প্রায় অচল হয়ে পড়া নারায়ণগঞ্জ থেকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও র‌্যাবের অধিনায়ককে। দুই থানার ওসিকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলেও তারা এখনও বহাল রয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের ৪ দিন পর গত ৪ মে নারায়ণগঞ্জের সরকারদলীয় এমপি শামীম ওসমানকে সঙ্গে নিয়ে নিহত নজরুলের শ্বশুর সাংবাদিকদের বলেন, র‌্যাব ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি ব্যাংকে টাকা লেনদেনসহ অপহরণ পরবর্তী র‌্যাবের রহস্যজনক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্যের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয়।

অভিযোগের বিষয়ে অবশ্য লে. কর্নেল তারেক সাঈদ বলেন, সব বাহিনীর লোক মিলে এক সঙ্গে ঘুষ নেয়া বাস্তবসম্মত নয়। তা ছাড়া ছয় কোটি টাকা অনেক টাকা। এত টাকা নিতে পিকআপ লাগার কথা। প্রশ্ন হলো, এত টাকা নিয়ে আমি কী করলাম? সে টাকা তো আমার কাছে থাকতে হবে। আমার মনে হয়, কাউকে বাঁচানোর জন্য এসব কথা বলা হচ্ছে। এসব কথাবার্তা তদন্তকে জটিল করে তুলবে।

এদিকে অবসরে পাঠানো র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। শহীদ চেয়ারম্যান লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদের ব্যাংক লেন-দেনের যে তথ্য দিয়েছেন এখনও তার প্রমাণ পায়নি সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা।

র‌্যাব ডিজি মোখলেসুর রহমান বলেন, কেবল র‌্যাব নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি তদন্ত টিম কাজ করছে। তদন্ত টিমগুলোকে স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমার একমাত্র চাওয়া সত্য ও ন্যায় বের হোক।

তথ্যসূত্র:
Click This Link
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×