somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

০৭- ০৭- ০৭ইং তারিখটা নাকি লাকি সেভেন ডে ছিল...

০৭ ই জুলাই, ২০১২ বিকাল ৫:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ মানেই এক অদ্ভুত প্রজাতি। আর আমরা কয়েক বন্ধু মনে হয় আরো অদ্ভূত...সাধারনত সবাই যা স্বেচ্ছায় করে না বা মনে রাখে না সেটা আমরা খুব আগ্রহ নিয়ে মনে রেখে নিয়ম মত করে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় সবসময় আঠার মতো সাথে লেগে থাকা জিগরী দোস্ত সোহেল আমাকে আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে ০৭/ ০৭/ ০৭ ইং তারিখে সকালে বলল, "দোস্ত আজকে তো লাকি সেভেন ডে ( তারিখের সবগুলো অঙ্ক ০৭ হওয়ায়) ....চল্ আমরা আজকের দিনটাকে মনে রাখার জন্য কিছু একটা করি।" মাথায় এমনিতেই সবসময় থাকে কি করি, কি করি ভাব...এই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে পারি!! তো বেশ কিছুক্ষন ভেবে চিন্তে আমরা দুজন ওয়ারিদের (বর্তমান এয়ারটেল) সীম কিনে দিনটাকে স্মরনীয় করার সিদ্ধান্ত নেই। যদিও আমাদের দুজনের কারোই মোবাইল ছিল না তবুও যেই ভাবা সেই কাজ, মানে পাগলামী যাকে বলে আর কি...তো বাসা থেকে বের হয়ে একটু ঘোরাফেরা করে দোকানে যাই। আর ওদিক থেকে সোহেল ক্লাস পালিয়ে আমার সাথে যোগ দেয়।

খুশি মনে সীম কিনে ফেরার পথে হঠাৎ দেখা হয় জেদ্দার সাথে। একদম ছোটবেলার বন্ধু যাকে বলে ন্যাংটা কালের ফ্রেন্ড। জন্মের পর থেকেই ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব কারন আমরা পাশাপাশি ফ্ল্যাটেই আমাদের শৈশব পার করেছি। কতদিন যে আমাদের সাথে খেলতে গিয়ে বাসায় দেরীতে ফেরার জন্য ও ওর আম্মুর হাতে বেদম মার খেত...যদিও আমরা বেচেঁ যেতাম আমাদের আম্মুদের হাত থেকে, প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে তিনজন একসাথে ভাত না খেলে আমাদের চলতই না...যার সাথেই যে ঝগড়া করতাম অপরজনের কাছে তার সমাধান আমাদের করতেই হত...সন্ধ্যার পর যার যার আম্মুর হাত ধরে রাস্তায় হাঁটা, ঈদের চাঁদ দেখে খুশিতে আত্মহারা আমাদের একসাথে রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করা....কত স্মৃতি....এক কথায়, দু কথায় বলে শেষ করা যাবে না......এরপর আব্বুর ট্রান্সফার হয়ে যাওয়ায় ওর সাথে আমার বেশ দুরত্ব সৃষ্টি হয়ে যায়। তখন তো আর বর্তমানের মতো মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহার ছিল না। এরপর বলতে গেলে আমাদের হারিয়েই যাওয়া....

যাই হোক ওর সাথে বহুদিন পর দেখা হওয়ায় অনেক কথা বলতে বলতে আমরা তিনজন হাটতে থাকি। এরই মধ্যে হঠাৎ আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামে। আমরা কোথাও দাঁড়াই না। মজা করে ভিজতে থাকি। কতদিন পর যে এত আনন্দ নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম তা মনে নেই। এরপর জেদ্দা বিদায় নিয়ে চলে যায় আর আমি ও সোহেল বাসায় ফিরি। লাকি সেভেন ডে- টাকে বেশ ভালভাবেই উপভোগ করি আমরা।

এরপর জেদ্দার সাথে অনেক দিন দেখা হয় না। মাস কয়েক পরে এক ঈদের দিন সন্ধ্যায় আরেক ফ্রেন্ড পিয়াস ফোন করে বলে "জেদ্দা আর নেই। ও নাকি না ফেরার দেশে চলে গেছে.....।" শুনে বিশ্বাস হচ্ছিল না আমার। কেন জানি পা- টাকে স্থির রাখতে পারছিলাম না। পরে শুনেছি শখ করে নাকি গ্রামের বাড়িতে ঈদের দিন সকালে কাজিনদের সাথে গোসল করতে পুকুরে নেমেছিল। সাঁতার জানত না ও। সবাই যখন মজা করছে এরই এক ফাকে কখন যেন পানিতে নেমে ডুবে যায়। সবাই যখন খেয়াল করল ওর কথা, ততক্ষনে ও চলে গেছে বহুদুর। যেখান থেকে কেউ ফিরে আসে না।

ওর মারা যাওয়ার তারিখটা আমার মনে নেই। মনে রাখার চেষ্টাও করি নি আমি কখনও। কিন্তু ওই যে লাকি সেভেন ডে......। জুলাই মাসের সাত তারিখ এলেই কেন জানি মনে হয় ও এখন কোথায় আছে, কেমন আছে....। একই বয়সের তো আমরা। এই বয়সেই ও কতটা পথ পাড়ি দিয়ে ফেলল। লাকি সেভেন(!) ডে- টা যে এভাবে স্মরনীয় হয়ে থাকবে এটা কখনই প্রত্যাশা করি নি আমি...যেখানেই থাকো বন্ধু, আল্লাহ যেন তোমায় সুখে রাখেন, ভালো রাখেন....
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ; এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×