somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

হাসান ইমতি
হাসান ইমতির জন্মস্থান ফরিদপুর, বর্তমান বাসস্থান উত্তরা, ঢাকা। তিনি মূলতঃ অনলাইন ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে লেখালেখি করে থাকেন। এ ধারায় কবিতা ভিত্তিক সাইটের ভেতর রয়েছে বাংলা কবিতা, কবিতা ক্লাব, কবিতা ইবারয়ারি, গল্প কবিতা, বাংলার কবিতা ইত্যাদি এবং ব্লগের ভেতর সাম

হাড়

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাবা, এই হাড়গুলো কাদের ?

এগুলো প্যালিওলিথিক যুগের পুরুষ মানুষের হাড় ।

প্যালিওলিথিক যুগ কি বাবা ?

প্যালিওলিথিক যুগ হল আদি প্রস্তর যুগ, যে যুগে মানুষ মূলত পাথরের তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে শিকারের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো ।

এই হাড়গুলো এতো বড় বড় আর মোটা মোটা কেন ? দেখে মনে হচ্ছে এগুলো শুধু পুরুষ মানুষের হাড় কেন, মহিলা ও শিশুদের হাড় কোথায় ?

আদি প্রস্তর যুগের মানুষ খুব পরিশ্রমী ও শক্তিশালী ছিল তাই তাদের হাড় এতো বড় আর মোটা । এগুলো বেশীরভাগ শক্তিশালী পুরুষের হাড়, নারী ও শিশুদের হাড় সময়ের বিবর্তনে ক্ষয়ে ফসিল হয়ে গেছে ।

মাঝ খানের হাড়টি সবচেয়ে মোটা আর বড় কেন ?

ঐ হাড়টি সম্ভবত কোন গোত্রপতি বা দলনেতার, ঐ যুগে নিয়ম ছিল কোন গোত্রে যে সবচেয়ে যোগ্য ও শক্তিশালী সে গোত্রের দলপতি হবে । সেজন্য ঐ হাড়টি সব হাড়ের চেয়ে বড় আর মোটা ।

পাশের শোকেসের ঐ হাড়গুলো কাদের বাবা ?

এগুলো নিওলিথিক যুগের মানুষের হাড় । প্যালিওলিথিক বা আদি প্রস্তর যুগ থেকে চাষাবাদ ও পশুপালনের সূচনার মধ্য দিয়ে মানব সভ্যতা প্রবেশ করে নব্য প্রস্তর বা নিওলিথিক যুগে । কৃষিকাজের বিস্তারের সাথে সাথে বেশিরভাগ মানুষ যাযাবর জীবনযাত্রা ত্যাগ করেস্থায়ী বসবাস ও কৃষিনির্ভর জীবন পদ্ধতি গ্রহণ করে। তবে কিছু সমাজে যাযাবর জীবনব্যবস্থারয়ে যায়, বিশেষ করে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন অঞ্চল ও যেখানে আবাদযোগ্যউদ্ভিদ প্রজাতির অভাব রয়েছে। কৃষি থেকে প্রাপ্ত খাদ্য-নিরাপত্তা ওউদ্বৃত্ত উৎপাদন এর ফলে গোষ্টীগুলো ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে আরও বড় সামাজিকপ্রতিষ্টানের জন্ম দেয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও এক্ষেত্রে একটিউল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

ওখানে সব হাড় গুলো এক রকমের কেন, এই যুগে কি কোন গোত্রপতি ছিল না ?

এই যুগে কৃষির উন্নতির সাথে সাথে সমাজে শ্রমভিত্তিক শ্রেণী বিভেদের সৃষ্টি হয় । শ্রমভিত্তিক শ্রেণীবিভাগের পথ ধরে সমাজে সুবিধাপ্রাপ্তউচ্চ, মধ্য ও সুবিধা বঞ্চিত নিম্নশ্রেণীর উন্মেষ ঘটে ও শহরগুলো গড়ে উঠে। এই যুগে প্যালিওলিথিক যুগের মত নেতৃত্ব কেবল শারীরিক শ্রেষ্ঠত্ব বা সক্ষমতার উপর নির্ভরশীল ছিল না, নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণ করতো শ্রেণী বিভাজিত সমাজের সুবিধাপ্রাপ্তউচ্চশ্রেণী । এই যুগের গড় পড়তা মানুষের শারীরিক গঠন একই রকম ছিল বলেই হাড়গুলোও একই রকমের ।

ঐ উল্টা দিকের শোকেসের হাড়গুলো কাদের বাবা ?

ওগুলো আধুনিক যুগের মানুষের । নিওলিথিক যুগে শ্রমভিত্তিক শ্রেণীবিভেদের ফলে সমাজে নানাবিধ জটিলতা বৃদ্ধিতে লেখন ও হিসাব পদ্ধতির উদ্ভব হয় এবং হ্রদ ও নদী তীরবর্তী সুবিধাজনক এলাকাগুলোতে বিভিন্ন সভ্যতা গড়ে উঠে । এর মধ্যে উন্নতি ও উৎকর্ষতার দিক দিয়েমেসোপটেমিয়ার সভ্যতা,মিশরের নীলনদ তীরবর্তী সভ্যতাওসিন্ধু সভ্যতা ছিলউল্লেখ্যযোগ্য । মানব সভ্যতার বিবর্তনকে কয়েকটি ভাগেভাগ করা যায়,প্রাচীন যুগ, মধ্য যুগ, ইসলামী স্বর্ণযুগ ও ইউরোপীয় রেনেসাঁ । আধুনিক যুগের সূচনাকালধরা হয় পঞ্চদশ শতক হতে অষ্টাদশ শতকের শেষ পর্যন্ত যার মধ্যে রয়েছেইউরোপের আলোকিত যুগ। শিল্প বিপ্লব হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত আধুনিক কাল বলেবিবেচিত। ।

আধুনিক যুগের মানুষদের মাধ্যে কিছু হাড় এতো দুর্বল ও হালকা কেন ?

ঐ দুর্বল ও হালকা হাড়গুলো আধুনিক যুগের সমাজপতি বা নেতাদের আর সবল ও সুগঠিত হাড়গুলো সাধারণ শ্রমজীবি মানুষের । শ্রেণীবিভাজিত আধুনিক যুগে সুবিধাপ্রাপ্তউচ্চশ্রেণীর বেশীরভাগ মানুষ কায়িক শ্রমকে এড়িয়ে গিয়ে ভোগ বিলাসে লিপ্ত হয়ে পড়ে । জীবিকা নির্বাহের অজুহাতে কায়িক শ্রম চাপিয়ে দেয়া হয় ভাগ্য বঞ্চিত সাধারণ মানুষের উপর তাই এ যুগের বেশীরভাগ সমাজপতি ও নেতাদের শরীর এ যুগের পরিশ্রমী ও সুবিধা বঞ্চিত সাধারণ মানুষের মত সুগঠিত হয় না । এই বৈষম্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে আধুনিক মানুষের হাড় ।

মানব সভ্যতা তাহলে আধুনিক হল কি ভাবে, এই হাড়ের যাদুঘরে হাড় দেখে তো বোঝা যাচ্ছে সভ্যতার উন্নতির দাবীর সাথে সাথে মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবনতি হয়েছে ?

এই উন্নতি হল জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নতি । প্রস্তর যুগ থেকে সে জ্ঞান বিজ্ঞানে আধুনিক হয়েছে ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নতি হয়তো হয়েছে, কিন্তু এই হাড়গুলো তো সাক্ষ্য দিচ্ছে মানুষ হিসাবে তার আত্মিক ও শারীরিক অবনমন হয়েছে । বেড়েছে বিজ্ঞান নির্ভরতা, মানুষের হয়েছে অবনমন ।


( আটকাহন সাহিত্য পুরষ্কারপ্রাপ্ত )
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:১৩
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পঁই পঁই করে হিসাব রাখতে হবে, নতুবা বিপদে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪

আমরা ক'জনা বেশ কিছুদিন আগে ব্যবসা শুরু করেছি। প্রথমেই একজনকে হিসাবের সব দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিয়েছিলাম মার্কেটিং ও টেকনিক্যাল সাইড গুলির দ্বায়িত্ব। সৌদীতে অনেক POS রেডিমেড পাওয়া গেলেও আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে কোন 'জঙ্গী' নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২৫

'জং' শব্দটার অর্থ 'যুদ্ধ'। এভাবে, জঙ্গী কথাটার অর্থ দাঁড়ায় - যোদ্ধা বা যুদ্ধ করেন। যে কোন যুদ্ধই প্রাণহানি ডেকে আনে। আগের কালে, রাজারা যুদ্ধ করে দেশ জয় করতেন। তাঁদের অণ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×