ঈদুল আজহা।
আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় সারা বিশ্বের মুসলিমরা পশু কোরবানী করে থাকে।
তবে, এদেশে অধিকাংশ সামর্থ্যবান বা বিত্তশালীদের পশু কোরবানীর নামে নিজের সামর্থ্যের শোডাউনের এক বিরাট সুযোগ! তাইতো জমজমাট পশুর হাট। কেনাবেচার ধুম! জমজমাট প্রচারণা, সকল মিডিয়াসহ সামাজিক মাধ্যমও পশুময়। সারাদেশের পশুর হাট ঘিড়ে হাজার কোটি টাকার লেনদেন।
মুসলিম অধ্যুষিত প্রায় আঠারো কোটি জনসংখ্যার এই দেশে ঈদুল আজহায় এখনো অধিকাংশ মুসলিম পরিবারের পশু কোরবানী করার সামর্থ্য নেই। প্রচারণা যতই হোক, বাস্তবতা ভিন্ন।
তাছাড়া, এদেশের অধিকাংশ নিম্ন মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবার সর্বদাই খুব দ্বিধান্বিত। এরা সবদিক দিয়েই খুব কষ্টে থাকে। এদের অনেকেই পশু কোরবানী করতে চাইলেও প্রায়ই তা পেরে উঠে না। আবার কারো কাছে যেমন চাইতে পারে না, তেমনি ঈদের দিন কে মাংস দিবে, না দিবে সেই আশায়ও থাকতে পারে না।
অমুসলিম বন্ধু বা প্রতিবেশীরা কোরবানী দাতাদের দাওয়াত পেলেও গরু/খাসি রান্না মিশে একাকার হবার দ্বিধা দ্বন্দ্বে এই ঈদে দাওয়াত গ্রহণ করতে চায় না। তাদের যতই অভয় দেয়া হোক।
কিন্তু, যত যাই হোক, ঈদ তো!
ঈদের দিন একটু ভাল খাবার- অন্তত পোলাও মাংস খাওয়ার প্রত্যাশা এদেশের প্রায় সব পরিবারেরই থাকে।
তাই, পরিবার- বাচ্চা-কাচ্চাদের চাহিদা পুরন করতে ঈদের আগেই অমুসলিমরা যেমন খাসির মাংস কিনে রাখে, তেমনি অনেক মুসলিমরাও গরুর মাংস কিনে রাখে।
এ কারণেই হয়ত আজও বাজারে গরু, খাসি সব মাংসের দোকানে ভিড়, দেখে খুব অবাক হলাম।
ক্রমশই প্রকট হওয়া শ্রেণী বৈষম্য আর সামর্থ্যহীনদের অসহায়ত্ব ও কষ্ট আরো স্পষ্টভাবেভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্যই হয়ত এদেশে বছরে দু দুবার ঈদ আসে! অথচ হবার কথা ছিল তার উল্টো।
চাই, বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা ও উদার মানষিকতা সম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।।
নিরন্তর শুভ কামনা সবার জন্য।
সবাইকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা।
ঈদ মোবারক!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



