ঢাকা: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুটি শূন্য পদ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। দলের দুই প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদকে এ পদে বসানো হচ্ছে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের কাউকে দেয়া হতে পারে এর একটি পদ। এক্ষেত্রে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, সামনের সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদের মতো প্রবীণ ও প্রাজ্ঞ নেতাদের দলের নীতিনির্ধারণীতে আনা জরুরি বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। তবে এ দুই নেতার বিষয়ে দলীয় সভানেত্রীর মনোভাব এখনো পরিষ্কার নয়।
এর আগে গত বছর মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তোফায়েল আহমেদের প্রতি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী অনেকটা নাখোশ হন। এ কারণে দাবি থাকলেও নতুন কমিটির প্রেসিডিয়ামে প্রবীণ এ নেতার ফেরা হয়নি। সম্প্রতি আমির হোসেন আমু দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছেন। ১৪ দলসহ দলের কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে তোফায়েল আহমেদকেও।
বরিশাল অঞ্চলের নেতা অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন সভাপতিমণ্ডলী থেকে বাদ পড়ায় এ অঞ্চল থেকে একজনকে সভাপতিমণ্ডলীতে নেয়ার আলোচনাও রয়েছে। এক্ষেত্রে পুরানো নেতাদের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না হলে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে এ পদে আনা হচ্ছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এ ধরনের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে নতুন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় সভানেত্রী যোগ্য নেতাদেরই শূন্য পদে দায়িত্ব দেবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন দলীয় ফোরাম তাই অনুমোদন দেবে। এছাড়া নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় অতি দ্রুত দলীয় সভানেত্রী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো তা পূর্ণাঙ্গ হয়নি। সভাপতিমণ্ডলির দুটি পদ ছাড়াও শূন্য রয়েছে দলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের পদ। ঘোষণা করা হয়নি পূর্ণাঙ্গ উপ-কমিটি। শূন্য পদগুলো নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। তবে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর কাউন্সিলে শেখ হাসিনা ৭ম বারের মতো দলের সভানেত্রী ও দ্বিতীয় বারের মতো সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওইদিন কাউন্সিলরা দলের কমিটি গঠনের জন্য দলের সভানেত্রীকে দায়িত্ব ছেড়ে দেন। কাউন্সিলের চারদিন পর দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর দুটি, বন পরিবেশ সম্পাদকের পদও শূন্য রাখা হয়। ৬৬ সদস্য বিশিষ্ট দলের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হলেও বাকি রাখা হয় ৫৪ জন সহ-সম্পাদকের পদ।
এদিকে দলের ১৯তম জাতীয় কাউন্সিলের আগে সাবেক ছাত্রলীগের পরীক্ষিত নেতারা স্থান পাচ্ছেন এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও ভাগ্যের শিকে ছিঁড়েনি তাদের। এমনকি উপ-কমিটিতেও নেই অনেক ত্যাগী সাবেক ছাত্রনেতা।
দলীয় সূত্র মতে, নিষ্ক্রিয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের দলের সাংগঠনিক কাজে লাগাতে ১২০ সদস্যের উপ-কমিটি গঠন করা হবে। নাম চূড়ান্ত করতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও পূরণ করা হয়নি এ শূন্য পদ।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দলের সভাপতি নেবেন। কখন নেবেন, কাকে দায়িত্ব দেবেন এ ব্যাপারে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।”
নতুন বার্তা/এইচএইচ/জবা
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৮:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



