somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুই নেত্রীর ‘টেলিফোন ঝগড়া’, জাতি হতাশ

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দীর্ঘ দিন ধরে দেশের মানুষ দুই নেত্রীর মধ্যে যে সংলাপের আশা করে আসছে, তা যেন হোঁচট খেল ২৬ অক্টোবর তাদের টেলিফোন কথোপকথনে। টিভি মিডিয়ায় বেজে চলা ও পত্রিকায় প্রকাশিত এই কথোপকথনের মেজাজ ও বক্তব্য শুনে যারপরনাই হতাশ দেশবাসী।

রাজনৈতিক সভামঞ্চে দুই নেত্রীর বক্তৃতায় পরস্পরের প্রতি উষ্মা প্রকাশ কিংবা অপ্রীতিকর বাক্যবাণ নতুন কিছু নয়। দেশের মানুষ সেগুলো রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই নিয়ে থাকে। কিন্তু সরাসরি টেলিফোন কথোপকথনেও তারা নিজেদের এই স্বভাব বজায় রাখবেন, তা কেউ আশা করেনি।

কী নেই তাদের টেলিফোন কথোপকথনে। পরস্পরের দোষ ধরার ব্যাপার আছে, বিষোদগার আছে, অতীত টেনে আনার চেষ্টা আছে, খোঁচা দিয়ে অপর পক্ষকে উসকে দেয়ার প্রবণতা আছে, এমনকি সবশেষে বিরোধীদলীয় নেতার কথা শেষ হওয়ার আগে ‘ভালো থাকুন’ বলে প্রধানমন্ত্রীর লাইন কেটে দেয়ার ব্যাপারও আছে। সবচেয়ে বেশি আছে নিজের নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার প্রবণতা।

আমরা মনে করি, দুই নেত্রীই এ প্রবণতাগুলো এড়িয়ে যেতে পারতেন এবং নিমন্ত্রণের দিনটির ব্যাপারে আরো নমনীয় হওয়ার সুযোগ ছিল তাদের। প্রধানমন্ত্রী যেমন বলতে পারতেন ‘আচ্ছা, আপনি কোন দিন আসবেন বলেন’, তেমনি খালেদা জিয়াও বলতে পারতেন ‘আচ্ছা, আমি হরতাল এক দিন কমিয়ে এনে আপনার দাওয়াত রক্ষা করব।” তাহলে অন্তত দেশের মানুষ নতুন করে দুই নেত্রীকে আবিষ্কার করত। কিন্তু হা-হুতুষ্মি।

‘সংলাপ-সংলাপ খেলা হচ্ছে’ বলে মানুষের মধ্যে যে সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে, দুই নেত্রী যেন তা আর চেপে রাখতে নারাজ। নইলে ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের পরদিন রাজধানীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতো না; আর সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারকে দেয়া বিরোধীদলীয় নেতার আলটিমেটাম অবহেলায় পড়ে থাকত না। অনেক ঠেলাঠেলির পর যে টেলিফোন সংলাপ হলো, তা নিয়েও কম নাটক হয়নি বলে অনুমান করা যায় দুই নেত্রীর কথোপকথন থেকে। দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতাকে বারবার টেলিফোন করেও না পাওয়ার কথা টেলিভিশনে প্রচার করাটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেছেন, লাল টেলিফোন দীর্ঘদিন ধরে অচল। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তিনি রিংটোন শুনেছেন। এই রহস্য উন্মোচন হওয়া দরকার।

আমরা অবাক হই, দেশের সব স্তরের মানুষের দীর্ঘপ্রতীক্ষিত একটি টেলিফোন সংলাপ অনুষ্ঠান হবে, অথচ তার জন্য কোনো পূর্বপ্রস্তুতি নেই। প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী প্রক্রিয়া প্রটোকলের অংশ, কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি বলেই আমরা জানতে পারছি। অবশেষে রাতে যে দুই কর্মকর্তার মুঠোফোনে তাদের মধ্যে কথা হলো, এই প্রক্রিয়ায় দুপুরে কেন দুই নেত্রীকে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়া হলো না? এ ঘটনা মানুষকে ভুল তথ্যই দিয়েছে।

নানা সংবাদমাধ্যমে দুই নেত্রীর কথোপকথন প্রকাশিত হওয়াটা কতটা উচিত হয়েছে, সেটা বিবেচনায় নেয়া দরকার। টেলিফোনে তাদের আলাপের সময় গণমাধ্যমের কারো উপস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল, দুই নেত্রীর কথোপকথন থেকে এমনটাই বোঝা যায়। তাহলে এই কথোপকথন রেকর্ড হলো কীভাবে? আর প্রকাশ হলোই বা কীভাবে?

যাই হোক, আমরা দুই নেত্রীর এই টেলিসংলাপকে বৃহত্তর সংলাপের সূচনা হিসেবে দেখতে চাই। টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের ভেতরের ক্ষোভ-দুঃখগুলো বের করে দিয়ে ভারমুক্ত হয়েছেন বলেও আমরা বিশ্বাস করতে চাই। এবার খোলা মনে তারা সংকট-উত্তরণে সংলাপে বসবেন, দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে সেদিকেই তাকিয়ে আছে।


সুত্র। নতুন বার্তা ডটকম
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×