দীর্ঘ দিন ধরে দেশের মানুষ দুই নেত্রীর মধ্যে যে সংলাপের আশা করে আসছে, তা যেন হোঁচট খেল ২৬ অক্টোবর তাদের টেলিফোন কথোপকথনে। টিভি মিডিয়ায় বেজে চলা ও পত্রিকায় প্রকাশিত এই কথোপকথনের মেজাজ ও বক্তব্য শুনে যারপরনাই হতাশ দেশবাসী।
রাজনৈতিক সভামঞ্চে দুই নেত্রীর বক্তৃতায় পরস্পরের প্রতি উষ্মা প্রকাশ কিংবা অপ্রীতিকর বাক্যবাণ নতুন কিছু নয়। দেশের মানুষ সেগুলো রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই নিয়ে থাকে। কিন্তু সরাসরি টেলিফোন কথোপকথনেও তারা নিজেদের এই স্বভাব বজায় রাখবেন, তা কেউ আশা করেনি।
কী নেই তাদের টেলিফোন কথোপকথনে। পরস্পরের দোষ ধরার ব্যাপার আছে, বিষোদগার আছে, অতীত টেনে আনার চেষ্টা আছে, খোঁচা দিয়ে অপর পক্ষকে উসকে দেয়ার প্রবণতা আছে, এমনকি সবশেষে বিরোধীদলীয় নেতার কথা শেষ হওয়ার আগে ‘ভালো থাকুন’ বলে প্রধানমন্ত্রীর লাইন কেটে দেয়ার ব্যাপারও আছে। সবচেয়ে বেশি আছে নিজের নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার প্রবণতা।
আমরা মনে করি, দুই নেত্রীই এ প্রবণতাগুলো এড়িয়ে যেতে পারতেন এবং নিমন্ত্রণের দিনটির ব্যাপারে আরো নমনীয় হওয়ার সুযোগ ছিল তাদের। প্রধানমন্ত্রী যেমন বলতে পারতেন ‘আচ্ছা, আপনি কোন দিন আসবেন বলেন’, তেমনি খালেদা জিয়াও বলতে পারতেন ‘আচ্ছা, আমি হরতাল এক দিন কমিয়ে এনে আপনার দাওয়াত রক্ষা করব।” তাহলে অন্তত দেশের মানুষ নতুন করে দুই নেত্রীকে আবিষ্কার করত। কিন্তু হা-হুতুষ্মি।
‘সংলাপ-সংলাপ খেলা হচ্ছে’ বলে মানুষের মধ্যে যে সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে, দুই নেত্রী যেন তা আর চেপে রাখতে নারাজ। নইলে ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের পরদিন রাজধানীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতো না; আর সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারকে দেয়া বিরোধীদলীয় নেতার আলটিমেটাম অবহেলায় পড়ে থাকত না। অনেক ঠেলাঠেলির পর যে টেলিফোন সংলাপ হলো, তা নিয়েও কম নাটক হয়নি বলে অনুমান করা যায় দুই নেত্রীর কথোপকথন থেকে। দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতাকে বারবার টেলিফোন করেও না পাওয়ার কথা টেলিভিশনে প্রচার করাটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেছেন, লাল টেলিফোন দীর্ঘদিন ধরে অচল। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তিনি রিংটোন শুনেছেন। এই রহস্য উন্মোচন হওয়া দরকার।
আমরা অবাক হই, দেশের সব স্তরের মানুষের দীর্ঘপ্রতীক্ষিত একটি টেলিফোন সংলাপ অনুষ্ঠান হবে, অথচ তার জন্য কোনো পূর্বপ্রস্তুতি নেই। প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী প্রক্রিয়া প্রটোকলের অংশ, কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি বলেই আমরা জানতে পারছি। অবশেষে রাতে যে দুই কর্মকর্তার মুঠোফোনে তাদের মধ্যে কথা হলো, এই প্রক্রিয়ায় দুপুরে কেন দুই নেত্রীকে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়া হলো না? এ ঘটনা মানুষকে ভুল তথ্যই দিয়েছে।
নানা সংবাদমাধ্যমে দুই নেত্রীর কথোপকথন প্রকাশিত হওয়াটা কতটা উচিত হয়েছে, সেটা বিবেচনায় নেয়া দরকার। টেলিফোনে তাদের আলাপের সময় গণমাধ্যমের কারো উপস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল, দুই নেত্রীর কথোপকথন থেকে এমনটাই বোঝা যায়। তাহলে এই কথোপকথন রেকর্ড হলো কীভাবে? আর প্রকাশ হলোই বা কীভাবে?
যাই হোক, আমরা দুই নেত্রীর এই টেলিসংলাপকে বৃহত্তর সংলাপের সূচনা হিসেবে দেখতে চাই। টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের ভেতরের ক্ষোভ-দুঃখগুলো বের করে দিয়ে ভারমুক্ত হয়েছেন বলেও আমরা বিশ্বাস করতে চাই। এবার খোলা মনে তারা সংকট-উত্তরণে সংলাপে বসবেন, দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে সেদিকেই তাকিয়ে আছে।
সুত্র। নতুন বার্তা ডটকম

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



