প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন রোববার। পরে তিনি বক্তব্যও দেন। এছাড়াও নানা আনুষ্ঠানিকতায় তখন ব্যস্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। কিন্তু তখন প্রধানমন্ত্রীর কোলে বসা তিন বছরের শিশু সানজিদা বায়না ধরলো সে কোল থেকে নামবে না। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তার বায়না রাখলেন এবং সানজিদাকে কোলেই নিয়েই বক্তব্য্য দিলেন।
রোববার সকাল নয়টায় গণভবনে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে এই দৃশ্যের অবতারণা। স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের ছোটাছুটি চলছে। চলছিল নানা আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু তিন বছরের শিশু সানজিদার এসবের দিকে ভ্রুক্ষেপ ছিল না। মনে হচ্ছিল শিশুটি যেন আপন কারও কোলে বেশ মজা পাচ্ছিল। সে প্রধানমন্ত্রীর কোল থেকে কিছুতেই নামবে না।
কিন্তু এখনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন। কিন্তু তিনি একটা শিশুকে কোলে নিয়ে কীভাবে বক্তব্য দেবেন? কিন্তু শিশুটিকে তার কোল থেকে যারা নামানোর চেষ্টা করছিল প্রধানমন্ত্রী তাদের থামালেন। তিনি হাসি মুখে বললেন, ‘আমি দাদি-নানি, কোলে নিয়ে কাজে অসুবিধা হয় না।’
পরে সানজিদার সঙ্গে গল্প জুড়ে দেন শেখ হাসিনা। শিশুটি তার নাম জানায়। বলে, সে ‘অ’ লিখতে পারে। তার মায়ের নাম সোমা। কিন্তু বাবার নাম বাবা।
প্রধানমন্ত্রীকে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ঘোষণার জন্য আহ্বান জানানো হয়, শিশুটি সাফ জানিয়ে দেয় সে কোল থেকে নামবে না। প্রধানমন্ত্রীও জোর করেননি। বক্তৃতা চলার সময়ও সে হঠাৎ কথা বলে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেন, ‘কি, কিছু বলবে?’
শিশুটি ঘাড় নেড়ে জানায়, সে কিছু বলতে চায়। বক্তৃতা শেষে তিনি শিশুটিকে বলতে বলেন, ‘বলো, আমি টিকা নিচ্ছি। তোমরাও নাও। ভয় পাব না। টিকা দেব। সুস্থ হবো।’
এর পরই গণভবনে কয়েকটি শিশুকে টিকা দেয়া হয়। এ কর্মসূচিটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম। প্রায় পাঁচ কোটি ২০ লাখ শিশু এ কর্মসূচির আওতায় আসছে।
অনানুষ্ঠানিকভাবে শনিবার থেকে দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। টিকা দিতে কিছুটা ব্যথা লাগলেও, শিশুদের কষ্ট ভুলিয়ে দিতে গণভবনে শিশুদের প্রিয় সিসিমপুরের নানা চরিত্রও হাজির ছিল।
সূত্র: নতুন বার্তা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



