somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভৌতিক সন্ধ্যায় কামানখোলা জমিদার বাড়ী প্রাঙ্গনে - ("বাংলার জমিদার বাড়ী" - পর্ব ১০ )

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জমিদার বাড়ী সিরিজের সব লেখাঃ "বাংলার জমিদার বাড়ী"

দুপুরের অহেতুক কালক্ষেপণের মাশুল এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। দালাল বাজার পৌঁছেতেই মধ্য বিকেল। হাতে সময় অল্প, দ্রুত দালাল বাজার জমিদার বাড়ী এবং খোয়া সাগর দীঘি দেখে রওনা হলাম কামানখোলা জমিদার বাড়ী’র উদ্দেশ্যে। একটা রিকশা দেখতে পেয়ে থামালাম, আধুনিক মোটরযুক্ত রিকশা। তাকে ঠিকানা বুঝিয়ে বলতেই সে রাজী হল, কোন দরদাম না করে রিকশা স্টার্ট দিল, এদিকে সূর্য তখন ডুবে গেছে। হায় হায় সন্ধ্যা যে হয়ে গেল, এখন কি হবে। প্রায় ঘণ্টা দুয়েকের পথ পেড়িয়ে আমায় আবার লোকাল অফিসে পৌঁছতে হবে।

এই বছরের শুরুর দিকে অফিসের কাজে গিয়েছিলাম লক্ষ্মীপুর, কাজের ফাঁকে ফাঁকে চষে বেড়িয়েছিলাম জমিদার বাড়ীর খোঁজে। দালাল বাজার জমিদার বাড়ী নিয়ে এই সিরিজেই আগে লিখেছি। অনেকদিন ধরে ঐ ভ্রমণের সময়কার অন্য দুইটি জমিদার বাড়ী নিয়ে লিখবো লিখবো করে আর লেখা হচ্ছিল না। আজ তাই লেখার চেষ্টা কামানখোলা জমিদার বাড়ী নিয়ে।

জমিদার বাড়ি নিয়ে ধারাবাহিক লেখা শুরু করার পর এই বিষয় নিয়ে অল্পবিস্তর ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। উন্নতবিশ্বে যে সকল স্থাপনা হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষিত হয়, আমাদের দেশে সেইসকল স্থাপনা পড়ে থাকে অবহেলায়, ক্ষয়ে যায় অস্থি-মজ্জা সকল, ঘুণে ধরে বিচূর্ণ হয় ইতিহাসের পাতা। অপূর্ব সকল স্থাপনা আর নির্মাণশৈলী নিয়ে আমাদের বাংলাদেশের আনাচে কানাচেতে পড়ে আছে অসংখ্য জমিদার বাড়ি, রাজবাড়ীসহ আরও কত স্থাপনা। আর এই সব স্থাপনার কিছু কথা এই বোকা মানুষটার ছেঁড়া খাতায় লিখে রাখার প্রয়াস হল এই “বাংলার জমিদার বাড়ী” সিরিজ।

রিকশায় বসেই আশেপাশের গ্রাম হতে মাগরিবের আজানের ধ্বনি শুনতে পেলাম। রিকশাওয়ালাকে বারবার জিজ্ঞসা করছিলাম আর কতদূর? ‘এইতো কাছেই মামা...’ তাহার প্রতিত্তর। সন্ধ্যার আলো যখন প্রায় নিভু নিভু তখন এসে পৌঁছলাম কামানখোলা গ্রামে। জমিদার বাড়ী যাওয়ার আগে একটি দীঘি চোখে পড়ল, কিন্তু আশেপাশে একটা প্রাণীরও চিহ্ন মিলল না যাকে জিজ্ঞাসা করি যে দীঘির নাম কি? যাই হোক পা বাড়ালাম জমিদার বাড়ীর দিকে।

সাদা নতুন রঙ করা এক দোতলা ভবন, একপাশে একচালা ঘর কয়েকটি, আরেক পাশে আস্তাবলের মত। প্রায় অন্ধকারে জমিদার বাড়ীর চৌহদ্দিতে প্রবেশ করলাম। কেমন একটা গা ছমছমে পরিবেশ, আশেপাশে যেন কোন প্রাণের সাড়াশব্দ নেই। পরে বুঝতে পেরেছি আসলে গ্রামাঞ্ছলে সন্ধ্যার পর লোক চলাচল এমনিতেই কম করে, তার উপর এক পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ীর কাছে? কিন্তু ঐ সময়টায় আমি একটু ভয় পেয়েছিলাম, দ্রুত দুয়েকটা ছবি তুলে রিকশায় ফিরে এলাম। রিকশাওয়ালাকে বললাম দালালবাজার ফিরে যেতে।

লক্ষ্মীপুর বাস ষ্টেন্ড থেকে সি এন জি যোগে যাওয়া যায়। রায়পুর বাস ষ্টেন্ড থেকে সি এন জি যোগে যাওয়া যায়। দালাল বাজারের কাছেই কামান খোলা জমিদার বাড়ী। জমিদার রাজেন্দ্র নাথ দাস পুত্র ক্ষেত্রনাথ দাস ও পৌত্র যদুনাথ দাস এবং যদুনাথ দাসের পৌষ্যপুত্র হরেন্দ্র নারায়ন দাস চৌধুরী পর্যায়ক্রমে জমিদারী করেন। রায়পুর উপজেলায় তাদের জমিদারী ছিল। দালাল বাজারের জমিদারদের সাথে শখ্যতা থাকায় এ জমিদারের বাড়ীর নিকটবর্তী কামান খোলায় ভূ-সম্পত্তি ক্রয় করে জমিদারী আবাস গড়ে তোলেন। বাড়ীর সদর দরজায় খালের পাড়ের জল টংগী, লাঠিয়াল ও রক্ষী বাহিনীর আবাস, সামনে দ্বিতল লম্বা বিরাটাকারের পুজা মন্ডপ। সুরক্ষিত প্রবেশদ্বার পেরিয়ে ভেতর বাড়ীতে অপূর্ব সৌন্দর্যের রাজ প্রাসাদ। বাড়ীর অভ্যন্তরে ভূগর্ভস্থ নৃত্য ও সালিশী কক্ষ তথা ‘আঁধার মানিক’ নামে খ্যাতে কক্ষ নিয়ে নানা মুখরোচক কাহিনী রয়েছে। হাতিমারা গেছে কিন্তু সে হাতির হাড় আছে। আছে লক্ষ্মী নারায়ন দেব বিগ্রহ। কিন্তু পোড়া কপাল, আমি এগুলোর কিছুই দেখতে পারি নাই, ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে আরেকবার যাব, এই জমিদার বাড়ীটি দেখতে।

ইনফো কার্টেসিঃ http://www.lakshmipur.gov.bd/
ছবিঃ http://bdadinfo.com/ ও নিজ
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১১:২৬
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুক্তিযুদ্ধা কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৩:৩২

কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।
সকল যোগ্যতা জিপিএ-্র প্রমান দিয়ে, এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, সেকেন্ডারি।
এরপর ভাইবা দিয়ে ৬ লাখ চাকুরি প্রার্থি থেকে বাছাই হয়ে ১০০ জন প্রাথমিক নির্বাচিত।

ধরুন ১০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

মনা মামার স্বপ্নের আমেরিকা!

লিখেছেন কৃষ্ণচূড়া লাল রঙ, ১৪ ই জুন, ২০২৪ সকাল ১০:২৩

শুরুটা যেভাবে



মনা মামা ছিলেন একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, আর মনা মামা তার বাবার ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করতেন। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল অনেক টাকা কামানো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের সাতকাহন

লিখেছেন বিষাদ সময়, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:০১

অনেকদিন হল জানা আপার খবর জানিনা, ব্লগে কোন আপডেটও নেই বা হয়তো চোখে পড়েনি। তাঁর স্বাস্খ্য নিয়ে ব্লগে নিয়মিত আপডেট থাকা উচিত ছিল। এ ব্লগের প্রায় সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (চতুর্থাংশ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৯:২৭


আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (তৃতীয়াংশ)
আমার ছয় কাকার কোনো কাকা আমাদের কখনও একটা লজেন্স কিনে দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। আমাদের দুর্দিনে তারা কখনও এগিয়ে আসেননি। আমরা কী খেয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×