somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুলে যাওয়ার পথে কাশিমপুর জমিদার বাড়ী - ("বাংলার জমিদার বাড়ী" - পর্ব ১৪)

১০ ই আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জমিদার বাড়ী সিরিজের সব লেখাঃ "বাংলার জমিদার বাড়ী"

বর্তমান সময়ে ‘কাশিমপুর’ নামটি রাজনৈতিক কারণে খুব পরিচিত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বন্দীদের ‘কাশিমপুর কারাগার’ এ নিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু কাশিমপুরেই রয়েছে এক পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ী। আর দশটি জমিদার বাড়ীর মতই নিতান্ত অবহেলায় পড়ে আছে এই জমিদার বাড়ীটি। কাশিমপুরের জমিদার রায়বাহদুর কেদারনাথ লাহিড়ী’র এই জমিদার বাড়ীটি কালের স্রোতে হারিয়ে যেতে দিন গুনছে। ইতোমধ্যে এর অর্ধেক ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ এর ‘সমাজসেবা অধিদফতর’ এর ‘সরকারী আশ্রয় কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যাবহৃত হচ্ছে। জমিদার বাড়ীগুলোর এই বহুবিধ ব্যবহার দেখে বাসাবাড়ির ‘ষ্টোর রুম’ এর কথা মনে পড়ে গেল। অপ্রয়োজনীয় ঘরে যেমন দুনিয়ার জঞ্জাল জমা করে ষ্টোর রুম নামে ব্যাবহার করি আমরা, তেমনি জমিদার বাড়ীগুলো একালের জঞ্জাল, আর তাই এগুলোর বহুবিধ ব্যবহার।



গত এপ্রিলে গিয়েছিলাম গাজীপুরের কালিয়াকৈর, জমিদার বাড়ীর খোঁজে। ফিরতি পথে বিকেল বেলা ঢুঁ মারতে চলে যাই কাশিমপুর জমিদার বাড়ীতে। গাজীপুরপুর-কালিয়াকৈর সড়কে কালীবাড়ি বা কাশিমপুর বাসস্ট্যান্ড নেমে কাশিমপুর কারাগার রোড ধরে এগিয়ে গেলাম। পথ যেন শেষ হয় না, মনে সন্দেহ সঠিক পথে যাচ্ছি কিনা তাই নিয়ে। হাতে তেমন পর্যাপ্ত তথ্যও নেই, স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেও তেমন সুবিধা হল না। রিকশাওয়ালাকে ভরসা করে কাশিমপুর কারাগার ডানে রেখে আরও ভেতরে এগিয়ে গেলাম। অনেকটা পথ যাওয়ার পর পেলাম গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এর আঞ্চলিক কার্যালয় – ০৫ (কোনাবাড়ী-কাশিমপুর)। এখান হতে ২০০ গজ সামনে গেলে পাবেন এই কাশিমপুর জমিদার বাড়ী।



আমি ইটের ফুট আটেক উঁচু পাঁচিল দেখে প্রথমে বুঝতেই পারিনাই এটা কোন জমিদার বাড়ী। আমি একটু পেছনের দিকে চলে গিয়েছিলাম, যে পাশটায় সমাজসেবা অধিদফতরের আশ্রয়কেন্দ্রটি রয়েছে সেখানে। পড়ে আবার মূল সড়কের দিকের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকার ফটক খুঁজে পেলাম। ফটক ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই দেখলাম একটা মোটামুটি বড় সবুজ ঘাসে ঢাকা মাঠ, যেটার শেষ প্রান্তে মূল বাড়ীর কাঠামো শুরু। সেখানে এক মাঝ বয়সী মহিলাকে দেখলাম কেশ চর্চায় ব্যাস্ত। তাকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিলাম অন্দরমহলে যাওয়া যাবে কিনা। ইতিবাচক উত্তর পেতে পা বাড়ালাম ভেতর পাণে।



পরিত্যাক্ত বেশীরভাগ জমিদার বাড়ী হয় দখল করে আবাসে পরিণত করেছে স্থানীয় লোকে, অথবা ভগ্নস্তুপ হয়ে পড়ে থাকে। কিছু পাওয়া যায়, জমিদারের উত্তরাধিকারদের আত্মীয়-স্বজন বা দূর সম্পর্কের কেউ বসবাস করে। কাশিমপুর জমিদার বাড়ীতে শেষের অবস্থা বিদ্যমান, অর্থাৎ জমিদারের উত্তরাধিকারদের দূর সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজন বসবাস করছেন। ইতিহাস তেমন কিছু তাদের কাছ থেকে জানা গেল না।



কাশিমপুরের জমিদার রায়বাহদুর কেদারনাথ লাহিড়ী এই জমিদার বাড়ীর গোড়াপত্তন করেন। আনামি প্রাসাদ রায় চৌধুরী ছিলেন কাশিমপুরের শেষ জমিদার। তাদের এই জমিদারী ছিল কাশিমপুর এবং বলধা জুড়ে। এই জমিদার বাড়ীর ইতিহাস নিয়ে খোঁজ করে তেমন কিছু আমি যোগাড় করতে পারি নাই, তবে খোঁজে আছি। কারো কাছে তেমন কোন তথ্য থাকলে শেয়ার করতে অনুরোধ রইল।



জমিদার বাড়ি নিয়ে ধারাবাহিক লেখা শুরু করার পর এই বিষয় নিয়ে অল্পবিস্তর ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। উন্নতবিশ্বে যে সকল স্থাপনা হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষিত হয়, আমাদের দেশে সেইসকল স্থাপনা পড়ে থাকে অবহেলায়, ক্ষয়ে যায় অস্থি-মজ্জা সকল, ঘুণে ধরে বিচূর্ণ হয় ইতিহাসের পাতা। অপূর্ব সকল স্থাপনা আর নির্মাণশৈলী নিয়ে আমাদের বাংলাদেশের আনাচে কানাচেতে পড়ে আছে অসংখ্য জমিদার বাড়ি, রাজবাড়ীসহ আরও কত স্থাপনা। আর এই সব স্থাপনার কিছু কথা এই বোকা মানুষটার ছেঁড়া খাতায় লিখে রাখার প্রয়াস হল এই “বাংলার জমিদার বাড়ী” সিরিজ।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১১:২১
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুক্তিযুদ্ধা কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৩:৩২

কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।
সকল যোগ্যতা জিপিএ-্র প্রমান দিয়ে, এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, সেকেন্ডারি।
এরপর ভাইবা দিয়ে ৬ লাখ চাকুরি প্রার্থি থেকে বাছাই হয়ে ১০০ জন প্রাথমিক নির্বাচিত।

ধরুন ১০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

মনা মামার স্বপ্নের আমেরিকা!

লিখেছেন কৃষ্ণচূড়া লাল রঙ, ১৪ ই জুন, ২০২৪ সকাল ১০:২৩

শুরুটা যেভাবে



মনা মামা ছিলেন একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, আর মনা মামা তার বাবার ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করতেন। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল অনেক টাকা কামানো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের সাতকাহন

লিখেছেন বিষাদ সময়, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:০১

অনেকদিন হল জানা আপার খবর জানিনা, ব্লগে কোন আপডেটও নেই বা হয়তো চোখে পড়েনি। তাঁর স্বাস্খ্য নিয়ে ব্লগে নিয়মিত আপডেট থাকা উচিত ছিল। এ ব্লগের প্রায় সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (চতুর্থাংশ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৯:২৭


আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (তৃতীয়াংশ)
আমার ছয় কাকার কোনো কাকা আমাদের কখনও একটা লজেন্স কিনে দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। আমাদের দুর্দিনে তারা কখনও এগিয়ে আসেননি। আমরা কী খেয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×