বিডিআর-এর ঘটনায় গ্রেফতারকৃত বিএনপির সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু এবং ডিএডি তৌহিদকে মালিবাগ সিআইডি সদর দফতরে মুখোমুখি করা হয়েছে। দুইজনকে সামনা-সামনি করে সরকারের ছকবাঁধা কিছু তথ্য পিন্টুর কাছ থেকে আদায়ের চেষ্টা করেছে পুলিশ।
পিন্টু পুলিশের পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে বলেছেন, আমি কখনো তৌহিদকে দেখিনি। তার সঙ্গে বৈঠক করার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন করেছেন। বিডিআর সদস্যদেরকে বিএনপির বিরুদ্ধে নামিয়ে ছিলেন। একজন কর্মকর্তা জানান, বিদ্রোহী জওয়ানদের পালাতে সহায়তা করা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তৌহিদ নানাভাবে পিন্টুকে জড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি আব্দুল কাহহার আকন্দ-এর সঙ্গে গতরাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পিন্টু ও তৌহিদকে নিয়ে কথাবার্তা বলছি। তারা কি বলছে তা তদন্তের স্বার্থেই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুকে মঙ্গলবার বিকেলে হাইকোর্ট মাজার গেট থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতারের পর সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে। সিআইডি বুধবার কোর্টে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। অপরদিকে বিডিআর ঘটনার পর পর বিদ্রোহী ডিএডি তৌহিদকে গ্রেফতার করার পর থেকে বিভিন্ন সময় তাকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয় সিআইডি। সর্বশেষ অপর একটি মামলায় তৌহিদকে ২ দিনের রিমান্ডে নেয়। তৌহিদকে পিন্টুর সামনা সামনি করার জন্যই তাকে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
ডিএডি তৌহিদ এবং তার অনুসারী কয়েকজন ক্ষুব্ধ জওয়ান সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ভাইপো ব্যারিস্টার তাপস, দলের নেতা মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তোরাব আলীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে। বৈঠকে বিডিআর সদস্যরা তাদের ক্ষোভের কথা ব্যক্ত করে সহায়তা দাবি করেন। এই নেতারা তাদের সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিদ্রোহ শুরুর কয়েকদিন আগে তারা সর্বশেষ বৈঠক করেন ব্যারিস্টার তাপসের সঙ্গে। এই এমপিকে বিডিআর সদস্যরা মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের জিম্মি করার কথা জানান। ব্যারিস্টার তাপস তাদের একথার প্রতিবাদ করেননি বা সরকারকে বিষয়টি জানাননি।
আওয়ামী লীগ নেতাদের সমর্থন নিয়েই সদর দফতরে বিদ্রোহ, সেনা কর্মকর্তা নিধন, লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যুবলীগ নেতা সন্ত্রাসী লেদার লিটনের নেতৃত্বে এলাকায় মিছিল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাই, ভাইপো, প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারণে সিআইডি তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করেনি বা লেদার লিটনকে গ্রেফতার করা হয়নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

