
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘুরে দাঁড়ান। পাঁচ মাসের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বদলে দিন বাংলাদেশকে। আপনার হাতে এখনো সাড়ে চার বছর। অদক্ষ, অযোগ্যদের বিতাড়িত করুন। জনগণের সকল আশা-আকাক্সক্ষা এখনো আপনাকেই ঘিরে। কারো ব্যর্থতার দায়ভার আপনি নেবেন না। নিতে পারেন না।
পাঁচ মাসের সরকারে দক্ষ নেতৃত্বের (মন্ত্রী, উপদেষ্টার) অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে আগামী বছর বিগতদের দোষারোপ করলে জনগণ মানবে না। সরকার কী করছে তা এখনই তুলে ধরতে হবে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কাজ মনিটর করুন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টিকারীদের বিদায় করুন। স্বাস্থ্যখাতে একটু খোঁজ-খবর নিন। ড্যাবের আচরণ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কাছে জনগণ আশা করে না। বিএনপির প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলা অনেক ভালো। আপনার কাছে দলের লোক ছাড় পাচ্ছে না। ছাত্রলীগের লাগাম টেনে প্রশংসা অর্জন করেছেন। র্যাব, পুলিশকে মাঠে নামিয়েছেন। আপনার সরাসরি তৎপরতায় জনজীবনে স্বস্তি নেমে এসেছে। র্যাবের কার্যক্রম আরো জোরদার করুন। আইন-শৃঙ্খলার অবনতির সুযোগ নেই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগেরবার পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্থাপন করে আপনি সারাবিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছেন। এবার বিডিআর বিদ্রোহ আপনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন। বিশ্ববাসীর কাছে আপনি এখন ‘ডটার অব পিস ’। দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি কন্যা। নেত্রী থেকে সফল রাষ্ট্রনায়ক। এই সফলতার দ্বার আগামী দিনে আপনাকে নিয়ে যাবে নতুনত্বের পথে। স্বপ্নের বেড়াজাল ডিঙ্গিয়ে এক নতুন রাষ্ট্রের রূপকার হিসেবে। শুধু আপনাকে থাকতে হবে কঠোর।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজকের সকল সফলতার মালিক আপনি। আবার ব্যর্থতার দায়ভারও আপনার। শক্তহাতে বলিয়ান হয়ে বদলে দিন বাংলাদেশকে। পাঁচ মাসে কিছু বিষয় প্রশ্নবিদ্ধ। এই প্রশ্নের দায়ভার আপনি কেন নেবেন? আপনার বোন, ছেলে, বোনের ছেলে-মেয়ে কেউ এখন সাতে-পাঁচে নেই। কোনো উপদেষ্টা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারি আমলা, রাষ্ট্রদূতকে ব্যর্থ কিংবা প্রশ্নবিদ্ধ মনে হলে বাদ দিন। এতে প্রশংসা পাবেন।
মামলার ভয়ে অনেকে কাজ করছেন না। ভীত মানুষরা রাষ্ট্র চালানোর যোগ্য নন। আপনার প্রয়োজন দক্ষ, সৎ, নিষ্ঠাবান, সাহসী এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এমন মানুষদের। আপনার গতির সঙ্গে সবার তাল মেলাতে হবে। জনগণকে দেয়া প্রতিটি অঙ্গীকারই জাতির জনকের কন্যাকে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর বাস্তবায়নের জন্যই আপনার প্রিয় দক্ষ ও যোগ্য মানুষদের নিয়েই এগিয়ে যান।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম স্টাইলে সরকার চলে না। বিরোধী দল অনেক কথা বলছে। বলুক। তাদের সব কথা কানে নেয়ার প্রয়োজন নেই। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ দমনে সরকার কঠোর থাকুক। খালেদা জিয়ার বাড়ি ইসু, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া, জঙ্গিবাদ দমন, গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র চালানের নায়কের আটক করে ভুল করেননি। এবার ঘুরে দাঁড়ান। পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
ছবি সৌজন্যে: http://www.bangladeshihindu.com

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

