
অবিবাহিত যুবক ও যুবতীদের মনের মধ্যে একটা শঙ্কা কাজ করতে দেখা যায়। তাদের মাথায় এরকম একটা কুসংস্কার কাজ করে "বিয়ে করে ফেললাম মানে বন্দী হয়ে গেলাম।জীবনে কিছু করতে হলে বিয়ের আগেই করতে হবে। বিয়ে করা মানেই হাড়ি-পাতিল ও বাজারের ব্যাগের মধ্যে জীবন সীমাবদ্ধ হয়ে গেলো।
আমি আমার চারপাশে অনেককে দেখেছি এই কুসংস্কারে আতঙ্কিত হয়ে নিজেকে বিয়ে বা সংসার থেকে দূরে রাখার প্রনান্ত চেষ্টায় রত হতে। অন্তত যতদিন গা বাচিয়ে চলা যায় । আবার কিছু রসিক মানুষ এই বিবাহ-আতঙ্কে আতঙ্কিতকে ভ্যবাচ্যাকা খাইয়ে দিয়েছে বিবাহ সম্পর্কিত বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্যটি শুনিয়ে -
"দিল্লী কা লাড্ডু
যো খায়, বো পাস্তায়েগা
যো না খায়, ও ভি পাস্তায়েগা ।।"
আমার ধারনা ছিল শুধু অবিবাহিত বা বিবাহ উপযুক্তরাই এই আতঙ্কে ভোগে। এখন দেখছি বিবাহিতরাও এই কুসংস্কারকে জিইয়ে রাখে। নবদম্পতির হাতের মেহেদী মুছে যেতেই হতাশার সাগরে হাবুডুবু খায় এবং রহস্যময় সেই প্রবাদ বাক্যের সত্যতার প্রমাণ দেয়।
বিয়ের আমেজ শেষ হতে না হতেই নব দম্পতির জীবনে একটা চাপ আসে সত্য। বিশেষ করে অর্থনৈতিক চাপে অনেকে বেসামাল হয়ে যায়। সদ্য বিবাহিত পুরুষটি টাকা বা ক্যারিয়ারের নেশায় পাগলপাড়া আর বিরহিনী নারী তাঁর একাকী জীবনের সেলফি তুলে তুলে স্বামীর ঘরে ফেরার অপেক্ষার প্রহর গুনে। (এর ব্যতিক্রমও যে নেই তা নয়।) সেই সেলফি সামাজিক পোফাইলে না দিলেও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিয়ের ছবিতে নতুন ক্যাপশন জুড়ে দেয় "অনেক বদলে গেছো তুমি।"
কিন্তু তারা বেমালুম ভুলে যায় যে
সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গ খেলা
আশা তাঁর একমাত্র ভেলা "
তারা ভুলে যায় জোয়ারের পর ভাটা এবং ভাটার পর আবার জোয়ার আসে।ভালোবাসাহীন সেই হৃদয়গুলো ভাটায় পড়ে হঠাৎ ডাঙ্গায় চলে আসা মাছের মতো কাতরাতে থাকে। পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা বোধ থেকে সড়ে এসে অযাচিত কলহে লেগে থাকে। কণ্ঠে গান তুলে
মাটিরও পিনজিরার ভিতর বন্দী হইয়া রে ......
তখনি ভালোবাসার বলৎকার হয়। ধৈর্য, পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা বোধ যে মানুষের সাংসারিক জীবনে প্রাণের সঞ্চার করে এবং সংসারকে মহিমান্বিত করে তুলে এবং সেই জন্যে চেষ্টা করতে হয় তা ভুলে যায়।তাঁরা ভুলে যায় চন্দ্র সূর্য সাক্ষী রেখে প্রথম জীবনের সেই আবেগময় বানী।
সাক্ষী থাইকো চন্দ্র সুরুজ
সাক্ষী থাইকো তাঁরা
মরণ যাত্রায়ও না যাই যেন
প্রানবন্ধুরে ছাড়া ।
সংসারে যত্নশীল না হয়ে, ধৈর্য হীন সে প্রেমিক প্রেমিকারা আবারো প্রমাণ করে বিয়েই মানব জীবনে চরম সীমাবদ্ধতা। তখন মরণ যাত্রার হিসাব চুকে যায়, শুরু হয় একলা চলার মনোঃ বৃত্তি, বৈরাগ্যে তখন সুখ খুজে পায়।হেরে গলায় বন্ধুরে-
নিষ্ঠুর বন্ধুরে
বলেছিলে আমার হবে
মন দিয়াছি এই ভেবে
সাক্ষী কেউ ছিলো না সে সময়
সাক্ষী শুধু চন্দ্র তাঁরা
একদিন তুমি পড়বে ধরা
ত্রিভুবনের বিচার যেদিন হয় ।
২২/২/১৭
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৭ রাত ৯:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




