somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাগজের হেলমেট
আমি শুধু আমি নইnআমি মানে অন্য কেউnকিংবা প্রতিবিম্ব.....

তাহাকে(বাবুই পাখি) জন্মদিনের শুভাচ্ছা :`> :`>

০৩ রা জুন, ২০১৭ রাত ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোমার সাথে কথা বলিনা অনেক দিন। আমরা কত রাত জেগে জেগে কথা বলতাম আর লিখতাম মনে আছে? এক সময় ভাবতাম যে কম কথা লিখত সেই যেন হেরে যেত। এটা বোধ হয় একটা নিয়ম হয়েই দাড়িয়েছিল, তাই না? একসাথে আমরা থেকেছি অনেক দিন। না ঠিক অনেকদিন নয় কিন্তু আমার কাছে অনেক দিন ই। অদ্ভুত সব নিয়ম ছিল তোমার। তোমার সাথে সম্পর্ক হওয়ার পর অবাক হয়ে দেখলাম ঝগড়ার পর যে প্রথম আত্মসমর্পণ করে সেই নাকি জেতে! #:-S তোমার কাছেই শিখেছিলাম যে ঝগড়ার সময় মুখে যা আসে তা বলে দেওয়া যায়না। তখনো দায়িত্ব নিয়ে, ফলাফলের কথা মাথায় রেখে কথা বলতে হয়। :``>> (আবস্য আমরা তেমন একটা ঝগড়া করিনি, তবে কিছু কথা কাটাকাটি হয়েছে যা আমার মনে রাখার মত, হতবা তুমি মনে রাখনি আবার হয়তবা রেখেছ)। তবে মাঝে মাঝে তোমার করা ঠুনকু ঠুনকু রাগ গুলো দেখলে খুব ভাল লাগত। অনেক মিস করি সেই মুহুর্তগুলোকে। এখনো আমি মনে করতেই পারি নাহ তোমাকে আমি গৃনা করব।

যেদিন তোমাকে প্রথম দেখেছি সেদিন থেকে তোমাকে ভালবাসি আমি। :-B সেইদিন যদি তুমি একবার পিছন ফিরে না তাকাতে তাহলে এই সব গুলো যেন স্বপ্নই থেকে যেত। তবে তুমি এই ভালবাসার কথা বুজবে নাহ জীবনেও কারন তুমি ত ভালবাসা কি সেটাই জান নাহ। #:-S

মনে আছে তোমাকে একটা গান গেয়ে শুনিয়েছিলাম। হয়ত আমার গানের গলা ভাল ছিল নাহ। 8-| তারপরো ভেবে দেখলাম, সবই আসলে এখনো একইরকম আছে, শুধু গানটার সবগুলো ক্রিয়াপদ আজ অতীত কালে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। আমার সাথে তোমার ফোনালাপ হয়েছে ৫ই মার্চ আর যেদিন শেষ চেট হয়েছে এপ্রিল এর ২৭ । তোমাকে সেদিন যে লেখাগুলো লিখেছিলাম সেটা আবারো পড়লাম। পড়তে পড়তে মনে হলো, আচ্ছা, এটাই কেন তোমাকে লেখা শেষ লিখন হতে হবে? তুমি না হয় আর লিখতে পারবে না, কিন্তু আমি তো পারি। উত্তর না হয় নাই বা পেলাম, পার্থিব তিথিডোরে বাঁধা আর নাইবা থাকলাম। উত্তরই বা কেন পেতে হবে তোমাকে লিখতে হলে? দেখেছ, আমার কত ধৈর্য বেড়েছে? 8-|

তুমি হাসছ নিশ্চয়ই আমার সেই গানের কথা মনে করে। কিন্তু এই গানগুলো না থাকলে আমি এই সময়ের মধ্যে বারবার যেন মারা যেতাম। এটাই আমার থেরাপি, এটাই আমার নিজেকে একসাথে ধরে রাখার অস্ত্র যেটা কক্ষনো আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। এত ভাল ভাল ডাক্তার, এত সাইকিয়াট্রিস্ট এর ভিড়ে এই গানগুলোই ছিল আমার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। |-)

তোমার জন্মদিনটা কাছে আসতে থাকল আর আমি ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠতে থাকলাম। কী অদ্ভুত না? তুমি আমাকে ভালই বাস নাহ আর আমি তোমার কথা ভেবে আস্থির হয়ে যাই।। :-< :-<

বারবার কেন চমকে উঠি বলতো? এতদিন পার হয়ে গেল? এতদিন কি অনেকটা সময়? নাকি অল্প সময়? নাহ এই প্রথম ভাবিনি সময় পেরিয়ে যাওয়ার কথা। প্রায়ই ভাবি, প্রায়ই মনের ক্যালেন্ডারে বসে বসে দিন গুনি, সপ্তাহ গুনি, সেই ২৭ তারিখ থেকে শুরু করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে যতবারই ভাবি ততবারই চমকে উঠি! কিন্তু কেন উঠি চমকে? সময় তো বয়ে চলারই কথা, তাই না? কিন্তু তারপরও এই নিত্য-বহমান অনিত্যের স্রোতে বারবার যেন ধাক্কা খাই। মাথা আর মনের এই যুদ্ধটার অর্থ কি আমরা কোনদিন বুঝবো? আমরা কি কোনদিন জ্ঞানের সেই মোহনায় পৌঁছব যখন এরা দুজন সম লয়ে চলবে? নাকি এরা আসলে সম লয়েই চলে, এদের আপাত-দ্বিচারিতার গুরত্বটা আমরা ধরতে পারি না। এত জ্ঞানবিজ্ঞানের ছড়াছড়ি চারদিকে, কিন্তু আমরা এখনো কতকিছুই জানি না, কতকিছুই বুঝি না।

কী অদ্ভুত এক আসা যাওয়ার পার্থিব গল্পে ভুলে থাকি আমরা। কত গল্প, কত ছল, কত বলা কথার মালা, কত না বলা কথার কষ্ট। কিন্তু তাই বলে কি এইভাবে চলে যেতেই হবে, জানি যে একটা গল্প একবার শুরু হলে তো সেটা শেষ হবে তাই বলে এত তাড়াতাড়ি কোন কারন ছাড়া কিভাবে চলে যাওয়া যায়?? আজকাল প্রায়ই ভাবি, দুঃখ আর আনন্দ কি আসলেই দুটো বিপরীত ধারা? নাকি একই ধারার দুটো রূপ, একই স্কেলের দুই প্রান্ত। দুটি বিপরীত প্রান্ত বাঁকিয়ে গোল করে ধরলেই ওরা এক জায়গায় মিলে যাবে না?

দুঃখ পেলেই কেন কষ্ট পেতে হবে? অতীতের কোন খারাপ স্মৃতি, কষ্টের স্মৃতি আমাদের ব্যথা দেয়, আবার দেখ অতীতের ভাল স্মৃতিগুলোও বেদনা দেয়। তখন আবার ভাল গল্পগুলো এখন আর নেই কেন ভেবে আমরা শোকে মুহ্যমান হই। কেন তা হবে? যুক্তি দিয়ে চিন্তা করলে কি তাই হবার কথা? সুখের কোন স্মৃতি ছিল এতোটা সময় ধরে, সেটা কি একধরনের আনন্দের প্রবহ হয়ে উঠতে পারে না?

সে যাক, সময় নিয়ে যা বলছিলাম, তুমি যে শুধু সময়ের ধারণাটা আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে যাওনি তাইই নয়, আমাকে এ বিষয়ে আরও বিভ্রান্ত করে দিয়ে চলে গেছ। ২৭ এ এপ্রিল এর পর থেকে আরও তালগোল পাকিয়ে গেছে সবকিছু, সময় ব্যাপারটা আমার মাথায় পুরোই অবোধ্য হয়ে গেছে।

আমি জানি আমার এই কথা গুলর কোন্রুপ ভিত্তি হয়ত তোমার কাছে নেই। তুমি এখন অন্য জীবনে অধিস্ট হয়েছ। তুমি এগুলো হয়ত অনেক আগেই ভুলে গেছ। হয়তবা এই বর্ষার কাদামাটিতে তোমার চলা প্রতিটি কদম এর নিচে দাবিয়ে দিয়েছ সব সৃতিগুলোকে। হয়তবা মনের অজান্তেই ফেলে দিয়েছ। তুলে পরিস্কার করার ইচ্ছা হয় নি।।

মাথা আর মনের দ্বন্দ্বে জর্জরিত হয়ে আছি। কিন্তু তারপরও আমি কিন্তু ভাল আছি। আমি দুঃক্ষিত, আমি ভাল নেই বলিয়া তোমাকে খুসি করতে পারলাম নাহ। অন্তত পক্ষে ওই ছোটছোট অভাগা চিবক মেয়েগুলো, প্যালেস্টাইনের হররোজ নিপীড়িত মানুষ আর হাজার হাজার সিরিয়ান আফগানিস্তানী সবহারা উদ্বাস্তু মানুষগুলোর চেয়ে ভাগ্যবান তো বটেই আমি।

আমাদের সম্পর্কটা কতখানি ভাল ছিল। দুজন মিলে শিখেছিলাম শুধু প্রেম থাকলেই দুটো মানুষের একসাথে থাকা হয় না। একসাথে থাকতে হলে প্রেমের সাথে সাথে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মমতা, দায়িত্ব, আকর্ষণ ইত্যাদি থাকাও অপরিহার্য। আমাদের জন্য আরেকটা বাড়তি জিনিস অত্যন্ত জরুরি ছিল – একে ওপরকে নিত্য শিখতে, গড়ে উঠতে, সামনে এগুতে সাহায্য করছি কিনা। মাঝে মাঝেই ভাবি, আমাদের দুজনার মাঝের সংযোগটা ঠিক কোথায় ছিল? তা কি সীমাহীন সম্ভাবনার মাঝে পরিণদ্ধ ছিল? :-& :-&

অনেকদিন থেকেই ভেবে আসছি কিছু একটা লিখব তোমায় নিয়ে। সব সময় ই মনে হত এ কথা গুলো একান্তই আমার। কিন্তু সে যাই হোক, এবার ভেবেছি আমার এই জমা হয়ে থাকা কথাগুলো প্রকাশ্যেই লিখব তোমার জন্মদিনে। হয়ত তুমি খুশি হবে নাহ, তারপরও লিখতে ইচ্ছে হল।

জানো, আমি তোমাকে দিনের নানা কাজে সারাদিন কখনই মিস করি না, কিন্তু ছোট ছোট জিনিসে মনে পরে যায় কতকিছু। সন্ধ্যাবেলাগুলো কেমন যেন দুঃসহ হয়ে ওঠে, মনে হয় আমি আর এর ভার নিতে পারছি না, দিনটা ফুরোলেই তো পারে।

শেষ এর দিকে অশেষ এর একটা গানেরে লিরিক্স মনে পরছে,
"অনেক বছর আগের একটা কফির টেবিলে
মদের বতলে আমারে কী নেশা করেছিলে
অনেক বছর আগের একটা পুরনো ছবির ফ্রেমে
ধুলাবালি ধুলাবালি মুছতে মুছতে আমারেই মুছে দিলে !!!" :( :(

অনেক ইচ্ছা ছিল তোমাকে জন্ম দিনে উইস করার। কিন্তু কেনও যেন করার ইচ্ছা করেনি। কি যেন আমাকে পেছন থেকে টেনে ধরে বলছিল করিস নাহ। করে কি লাভ সে তো আর দেখবে নাহ। আমার এখন করতে ইচ্ছা হচ্ছে। এখন তোমার এক দিন বয়স। তুমি ভাল থেক। অনেক অনেক শুভ কামনা তোমার জন্য। :| :|

*****শুভ জন্মদিন******

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৭ রাত ১:০৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×