somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেষের গল্প

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রেহান মোটোও সৃষ্টিশীল কেউ নয়। কিন্তু মাঝে মাঝে তার মনের বিভিন্ন অব্যক্ত কথাগুলো সে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয় গল্প কিংবা কবিতার ছলে।
যাদের কাছে এই অতি নিম্নমানে সাহিত্য ভালো লাগে তাদের কাছে রেহান অসাধারন কেউ।তাদের কাছে রেহান রীতিমত লেখকেরখ্যাতিতে ভূষিত।এই স্বপ্ল সংখ্যক তাদের মধ্য আদৃতা একজন।

রেহান গ্রুপ চেটিং এ ব্যস্ত।এসময় ইনবক্সে আদৃতার মেসেজ।বেশ কয়েকটা মেসেজর পর খানিকটা বিরক্তি নিয়ে রেহান আদৃতার
সম্ভোধনে সাড়া দেয়। আদৃতা রেহান কে একটা গল্প লিখে দিতে বলে। রেহান টগবগে লেখক কাজেইআদৃতাকে সে না করেনি। আদৃতা গল্পের একটি প্লটপাটিয়ে দেয় রেহানকে।পরপরই রেহান প্লটটি নিয়ে গবেষণা শুরু করে দেয়।

রিয়াদ দেশের স্বনামধন্য একটি মেডিকেল কলেজে পড়ে। শ্রবনের একদিনে তখন অঝোর বৃষ্টি। ঝড়ো বৃষ্টিতে ভিঁজে একটি মেয়ে একেবারে ভিঁজে কাক।রিয়াদ তার ছাতাটা বাড়িয়ে দেয় তাকে।মেয়েটি ছাতাটা হাতে নেয়, সেই সাথে রিয়াদের ফোন নাম্বারটা।অত্যন্ত সহজ সরল একটা মেয়ে পুষ্পিতা ।ধার করা ছাতা ফেরত দেয়ার অন্য কোন উপায়
না দেখে সে রিয়াদের নাম্বারটা নিয়েছে।সেই থেকে তাদের সম্পর্কের শুরু।
রিয়াদ পুষ্পিতা ভালো বন্ধু। প্রথম দিকে দুজনের মধ্যে টুকটাক কথা হলেও একসময় রাতজেগে কথা বলাটা তাদের কাছে নেশা হয়ে দাড়ায় ।পুষ্পিতার কথাগুলো স্বতঃস্ফূর্ত কিন্তু রিয়াদের কথাগুলো কখনোই স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। হাজারটা বসন্ত এলেও কি মরা বৃক্ষে পুষ্প ফোঁটে ?
রিয়াদের মনে পরে ইরিনার কথা।ইরিনা রিয়াদের ১ম গার্লফ্রেন্ড। সেই এইচ, এস,সি থেকে তাদের সম্পর্ক ।এরপর নানা প্রতিকূলতার ভিতর
দিয়ে তাদের সম্পর্কটি টিকে ছিল চার বছর।রিলেশানের প্রতি চরম উদাসীনতা,রিয়াদের খামখেয়ালী মনোভাব, হীনমন্যতা দিনকে দিন
ইরিনাকে বিষিয়ে তুলে।প্রচণ্ড দুঃখ,হতাশা ও আঘাত সইতে না পেরে ইরিনা এবার ঝিঁমিয়ে পড়ে। রিয়াদ ইরিনাকে জড়িয়ে আকাশে বাতাসে বাজে কথা ছড়ায়। ইরিনার ধৈর্যের বাঁধ এবার ভেঙেই যায়। রিয়াদ ইরিনার মধ্যবর্তী কোন 0° থেকে বেড়ে দাড়ায় ১৮০° তে।

১ বছর পর,
ইরিনার বিয়ে হয় । আর রিয়াদের সুচিন্তার উদয় হয়।ইরিনাকে হারানোর পর রিয়াদ ইরিনার প্রতি তার ভালোবাসার গভীরতা টের পায়।কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। এর পর অনেকরাত কেঁদে কেঁদে পাড় করেছে রিয়াদ।কখনো হাউমাউ করে, কখনো বা নিরবে-নিভৃতে।পুষ্পিতা নানা ভাবে তার ভালোবাসার কথা রিয়াদকে বলতে চেয়েছে।বোঝাতে চেয়েছে সে রিয়াদকে অনেক বেশী ভালোবাসে।কিন্তু প্রতিবারেই এড়িয়ে যেত রিয়াদ।
জানালার গ্লিলের মরিচা বাজারের বিভিন্ন ব্রান্ডের রং দিয়ে সাময়িক ভাবে প্রতিরোধ করা গেলেও এটি কোন স্থায়ী সমাধান নয়। পুষ্পিতার নিষ্পাপ ভালোবাসা রিয়াদকে রক্ষা করতে পারেনি বরং ইরিনার প্রতি তার ভালোবাসাকে আরও নিগড়ে দেয়। নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে রিয়াদ এবার ক্লান্ত।সে পুষ্পিতাকে ঠকাতে চায় না।মাত্র ৫মাসেইরিয়াদের সাথে পুষ্পিতার রিলেশানটা ভেঙে তছনছ হয়ে য়ায়।যেদিন রিয়াদ বিদায় নিচ্ছিলো তখন পুষ্পিতা ঠায় দাড়িয়ে ছিল রিয়াদের সামনে।একটিবারও সে রিয়াদের চোখের দিকে তাকাতে পারেনি। রিয়াদ চলে যায়। পুষ্পিতা তার পথের দিকে তাকি থাকে।ততক্ষণে বেশ কয়েকফোঁটা অশ্রু পুষ্পিতার গোলাপী গাল বেয়ে মাটি স্পর্শ করে। একপশলা বৃষ্টি এসে ভিঁজিয়ে দেয় পুষ্পিতাকে ।কিন্তু হায় তারছাতা ধরার মানুষটি যে হারিয়ে গেছে। এবার আর কান্না ধরে রাখতে পারেনি পুষ্পিতা। হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো সে।ঐ দিনের পরও অনেক কেঁদেছে পুষ্পিতা। কাঁদতে কাঁদতে হয়তো পুষ্পিতার এ্যাকুয়াস হিউমার শেষহয়ে গেছে কিন্তু এখনো সে রিয়াদকেই ভালোবাসে।রিয়াদের ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনে। সারাদিন অনলাইনে থাকে বারবার ইনবক্স চেক করে

যে কোন গল্পের একটি বিশেষ চরিত্রথাকে যা লেখকের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । এ গল্পের কোন চরিত্রই রেহানের সৃষ্ট নয় কিন্তু পুষ্পিতার প্রতি কেন জানি রেহানে মন সাড়া দেয় ।সে ভাবে যদি আমাকে কেহ এভাবে ভালোবাসতো ঠিক পুষ্পিতার মতো।"পুষ্পিতা হলেই দোষ কি? " রেহানের ব্যকুল মন চুপিচুপি জানান দেয়।রেহান অনুধাবন করে পুষ্পিতা তার রক্তে মিশে গেছে।অবশেষে সেদিন সারারাত ধরে রেহান একটি চমৎকার গল্পলিখে ফেলে। গল্পটা আদৃতার প্রচণ্ড ভালো লাগে

অনেকদিন হলো আদৃতার কোন খোঁজ নেই।কখনোই অনলাইনে আসে না। রেহান অনেক গুলো মেসেজ দিয়ছে কিন্তু কোন উত্তর আসেনি।
একদিন হঠাৎ করে ইনবক্সে আদৃতার একটা মেসেজ। রেহান শিহরিত যে ভাবেই হোক পুষ্পিতাকে তার চাইই চাই। " ধন্যবাদ রেহান তোমার অসামান্য লেখনীর জন্য।তোমার লিখার সম্মোহনী শক্তি রিয়াদকে অবিশ্বাস্য ভাবে আবার আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়ছে। পল্পটি পড়ার পর
রিয়াদ আমাকে আর দূরে ঠেলতে পারেনি "এর পর রেহানে বুঝতে বাকী রইলো না যে আদৃতাই পুষ্পিতা। রেহান ঠায় দাড়িয়ে থাকে। হাতে থাকা স্মার্টফোনটা কেঁপে কেঁপে মাটিতে পড়ে যায়।এক অজানা কলো মেঘে ছেয়ে যায় রেহানের সাহিত্যচর্চা।

এটি ছিল তার শেষের গল্প।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যামিলি কার্ড: বিশ্বব্যাংক খুশি, আইএমএফ চিন্তিত কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫৭


বাংলাদেশে বর্তমানে কার্ডের জোয়ার উঠেছে। আমজনতা মজা করে বলছে, চাইলাম প্রধানমন্ত্রী, পাইলাম রেফারি। খালি কথায় কথায় কার্ড দেখায়। হাসির কথা হলেও বিষয়টা আসলেই সত্যি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ অধিবেশনে গিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×