আজকের বৃষ্টিস্নাত বিকেলটা তিলোত্তমাকে উৎস্বর্গ করেছি।
কিন্তু এই মোহনীয় বৃষ্টি ও তো একদিন পৃথিবীর বুকে প্রথম নেমে এসেছিল! প্রথম বৃষ্টির সূচনা কিভাবে হয়েছিল আজ বৃষ্টি দেখতে দেখতে সে কথাই মনে হল। তার পর হঠাত মনে হল ডাঃ মনোমোহন দাসের “পৃথিবীর কথা” বইতে তিনি উল্ল্যেখ করেছেন কিভাবে প্রথম বৃষ্টির সৃষ্টি হয়েছিল।
পৃথিবী তখন আজকের মত কঠিন অবস্থায় ছিল না। প্রানের উদ্ভব হয় নি তখনো। বায়ুমন্ডল ও ছিল না। পৃথিবী ছিল তরল অবস্থায়। তরল পৃথিবীর অভ্যঃন্তর থেকে তখন হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন বের হত এবং মহাশূন্যে মিলিয়ে যেত। পৃথিবীর উত্তাপ যখন একটু একটু করে কমতে শুরু করল তখন অন্যান্য গ্যাস, জলীয় বাষ্প, কার্বনডাই অক্সাইড, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন সহ আরো যে ভারি ভারি গ্যাস ছিল সেগুলোও আস্তে আস্তে বের হয়ে আসতে শুরু করে।
কিন্তু এই গ্যাসগুলি হিলিয়াম বা হাইড্রোজেন এর তুলনায় বেশি ভারি ছিল, তাই পৃথিবীর আকর্ষন বল কাটিয়ে মহাশূন্যে মিলিয়ে যেতে না পেরে ভূপৃষ্ট থেকে কিছুটা উচ্চতায় ভাসতে থাকে এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সৃষ্টি করে। এভাবে বহু কোটি বছর পার হয়ে গেলে পৃথিবী আরো শীতল হয় এবং বায়ু মন্ডলের যে জলীয় বাস্প ছিল তা জমাট বাধতে শুরু করে। জমাট বেঁধে সৃষ্টি করে মেঘের।
এত পরিমান মেঘ হয়েছিল যে বহু হাজার বছর আবার অন্ধকার হয়েছিল মেঘের কারনে এই পৃথিবী। সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারত না। তাই পৃথিবী আরো কিছুটা ঠান্ডা হয়ে যায় এবং জলীয় বাষ্প আরো কিছুটা জমাট বেঁধে ভারি হয়ে যায়। হঠাত একদিন এই পৃথিবীর বুকে নেমে আসে বৃষ্টি! হাজার বছরের জমানো মেঘ, শত শত বছর ধরে উষ্ণ পৃথিবীর বুকে বর্ষন করতে থাকে শীতল পানির ধারা। শত শত বছরের বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় নদ নদীর।
এভাবে শত শত বছরের বর্ষনের ফলে পৃথিবী আরো স্নিগ্ধ ও শীতল হয়। বৃষ্টির বেগ ও কমে আসে এক সময়। যে নিবিড় মেঘের জালে পৃথিবী আবৃত ছিল হাজার হাজার বছর, তাও এক সময় অপসারিত হয়। আবার সহস্র বছর পর পৃথিবীর বুকে এসে পরে স্নিগ্ধ উজ্জ্বল সূর্য কিরণে উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। তৈরী হয়ে যায় প্রান সৃষ্টির এক অনন্য আবহাও।
আজকের আবহাওয়া আমাকে নিয়ে গিয়েছিল সেই প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীতে......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



