ব্যাংকার ছেলেটা অফিস থেকে এসেই না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লো। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। আচমকা রুমের দরজায় টোকা। ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলেই সারপ্রাইজ এতো রাতে বাবা মা দুই ভাই আর বোন কেক আর গিফট নিয়ে হাজির। হ্যাপি বার্থডে বলে সমস্বরে চিৎকার। সবাইকে কি সুন্দর লাগছে দেখতে। সবাই হাসি খুশী। প্যাকেটে করে ভুনা খিচুড়ি আনা হয়েছে। এই তুমুল বৃষ্টিতে খিচুড়িই তো ভালো জমবে। সবাই খাওয়াদাওয়া করে আড্ডা দিচ্ছে তুমুল। কতদিন পর চাদের হাট। আচমকা কলিং বেল এর আওয়াজ। ছেলেটা বাসার দরজা খুলতেই দেখলো কেউ নেই। রুমে যেয়ে বাবা মা বোন আর দুই ভাইকে কাউকেই দেখতে পেলোনা। হটাত ঘুম ভেংগে গেলো
ফজরের আযান হচ্ছে। বৃষ্টিও নেই। স্বপ্নে বাবা মা বোন আর দুই ভাইকে দেখেছে এতোক্ষন। ছেলেটা ওজু করে বাসার নিচে এসে দাঁড়ালো। দারোয়ান ঘুমিয়ে গিয়েছে। জেগে ওঠালো। চাবি নিয়ে গেট খুললো। রাস্তায় কেউ নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকার। ফজরের জামাত শুরু হতে পাচ মিনিট বাকী। ছেলেটা দ্রুত হাটছে আর ভাবছে মা বাবা বোন আর বড় দুই ভাইয়ের কথা, তিন বছর আগে এমন বৃষ্টিস্নাত ভোর বেলায় গাজীপুরের চন্দ্রায় মাইক্রোবাস আর বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ফ্যামিলির ৫ জনকে হারায়... বাসায় সেই ছিলো শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য। আবারো বৃষ্টি নামলো মুষলধারে। বৃষ্টি ছেলেটার ভালো লাগেনা একদম। এই বৃষ্টি আসলেই মনের যত ক্ষোভ আর রাগ জমে ওঠে। বৃষ্টিতে লাশ দাফন করতে কি যে কষ্ট, ছেলেটা ছাড়া আর কে বুঝবে?

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১৭ রাত ১০:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



