somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈশ্বরপ্রেমের টুকরো ইতিহাস

২৬ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৫:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাবশী গোলাম হিসেবে হজরত বিলাল যখন বড় হচ্ছিলেন, তখন থেকেই তাঁর আচরণ অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিল। আরবের নিয়ম ছিল, যুদ্ধে পরাজিত বাহিনীর সবাইকে দাস বানিয়ে ফেলা হত। বিলালের মা ছিলেন আবিসিনার রাজকন্যা। বিনম্র, সচ্চরিত্র ও শান্ত স্বভাবের বিলালকে দেখে উচ্চশ্রেণীর(!) আরবরা কি সেই রাজরক্তের মহিমা টের পেত?

প্রফেট ইসলামের বাণী প্রচার শুরু করলে বিলাল দূর থেকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং ঈশ্বরের আনুগত্য স্বীকার করেন। এই তথ্য তাঁর মুনিব জানার পর তাঁর উপর অকথ্য নির্যাতন নেমে আসে। তাঁকে গরম বালিতে শুইয়ে বেঁধে রাখা হয়, মক্কার পথে পথে দড়িতে বেঁধে টেনে নেয়া হয়। শত অত্যাচারেও তিনি নিজের বিশ্বাসে অটল থাকেন। এই অত্যাচারের খবর প্রফেটের কাছে পৌঁছালে তিনি আবু বকরকে তৎক্ষণাৎ পাঠিয়ে দেন, আবু বকর বিলালকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন।

ঈশ্বরপ্রেম, সদাচরণ ও নম্রতার দিক থেকে বিলাল অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিলেন। তাঁকে বায়তুল মালের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। এক সময়কার গোলাম হওয়ার কারনে তিনি গরীবের দুঃখ খুব ভালভাবে জানতেন, নিজের দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন নিবেদতপ্রাণ। প্রফেট যখন আজান দেয়ার রীতি চালু করলেন, তখন বিলাল প্রথম মুয়াজ্জিন হবার সৌভাগ্য অর্জন করেন। এ প্রসঙ্গে একটা ঘটনা প্রচলিত আছে। হজরত বিলালের কণ্ঠস্বরে কিছুটা তোতলানোর অভ্যেস ছিল। কয়েকজন সাহাবী প্রফেটকে বললেন, বিলালের পরিবর্তে ভালো উচ্চারণের অন্য কেউ আজান দিলে হয় না! প্রফেট জানতেন বিলালের ঈশ্বরপ্রেম কতো প্রবল, তাঁর আজান ঈশ্বরের কতো পছন্দের, তবু তিনি তাদের অনুমতি দিলেন। হজরত বিলালের পরিবর্তে সেদিন অন্য মুয়াজ্জিন আজান দিলেন।

আজানের পর অনেকখানি সময় কেটে গেল, কিন্তু সেদিন আর ভোর হল না।
তখন জিব্রাইল ফেরেশতা বার্তা নিয়ে এলেন (মূল আরবী পাইনি, ইংরেজি অনুবাদ এরকম)-
God loves your slave! (Bilal), and the sun shall not rise until Bilal, deliver's the Adhan

হজরত বিলাল আজান দিলেন।
অন্ধকার দূর হয়ে ভোরের আলো ফুটল। অনুষ্ঠানসর্বস্বতার বিপরীতে প্রেমের জয় হল।

প্রফেটের মৃত্যুর পর বিলাল আর কখনো আজান দেননি। সন্ন্যাসীর বেশে মদিনা ত্যাগ করে চলে যান দূর সিরিয়ায়।

কাগজে কলমে ইসলামের ইতিহাসের সিংহভাগই উমাইয়া রাজবংশের তলোয়ারের ইতিহাস। প্রেমের সত্য ইতিহাস সে তুলনায় অপ্রতুল।
হয়তো হৃদয়হীন এ পৃথিবীতে সেটা প্রয়োজনহীন বলেই তার চর্চা নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৫:১৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×