আমাদের দেশে যে ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে, তাতে শ্রেণী-বৈষম্য প্রকট । স্ড়্গুল পর্যায়ে শিক্ষা ব্যবস্থার এক মেরুতে রয়েছে ইংলিশ মিডিয়াম, ও লেভেল, এ লেভেল ইত্যাদি। আমলা মুৎসুদ্দী বুর্জোয়া লুটেরা ধনিক বণিক শ্রেণী তথা বিত্তবান ঘরের সন্তানরা এখানে লেখাপড়া করে। কিন্ডারগার্টেন ছাড়াও আছে এমন সব ইংলিশ মিডিয়াম স্ড়্গুল, যার বেতনের টাকার পরিমাণ বিশাল, যা আমাদের দেশের মেহনতী-শ্রমজীবি-কর্মজীবি-গরিব বা এমন কি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার কখনো একসঙ্গে চোখেও দেখে না। তবে এসব স্ড়্গুলের মান খুব উঁচু বলে আমার কখনো মনে হয়নি। তাছাড়া এইসব স্ড়্গুলের ছেলেমেয়েরা পাশ্চাত্য জগতের কিছু খারাপ জিনিস অনুকরণ করতে শেখে, আমাদের জাতীয় সংস্ড়্গৃতি, ইতিহাসবোধ, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা-দরদ, সমাজ চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক ধরনের কৃত্রিমতা আয়ত্ত করে। সত্তরের দশকে আমি যখন স্ড়্গুলের ছাত্র ছিলাম, তখনো ইংলিশ মিডিয়াম স্ড়্গুল ছিল, যদিও সংখ্যায় আজকের মতো এত নয়।
ইংলিশ মিডিয়ামের বিপরীতে মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যেও বিভাজন আছে। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ছুন্নী বা সাধারণ মাদ্রাসা আর কওমী মাদ্রাসা। কওমী মাদ্রাসায় পড়ে একেবারে গ্রামের গরিব পরিবারের সন্তানরা। মাদ্রাসায় ছাত্ররা আরবী ভাষা কিছুটা শেখে, কিন্তু আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান, ইংরেজি এমনকি বাংলাও শেখে না। শিক্ষার ল্ক্ষ্য হওয়া উচিত এমন মানুষ তৈরি করা, যারা দেশের ও জনগণের কল্যাণে লাগবে। সে জন্য বিজ্ঞান পড়তেই হবে। সবাই হয়তো বিজ্ঞান বা গণিতে ভালো নয়। তারা মানবিক বিষয়ে পড়াশোনা করবে। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান আয়ত্ত করা দরকার। শিল্পকলার বিভিন্ন দিকের উৎকর্ষের প্রয়োজন আছে। যেসব বালক-বালিকার ওইদিকে মেধা আছে, তাদেরও বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু মাদ্রাসার ছাত্ররা সব দিক দিয়েই পশ্চাৎপদ থেকে যায়। তারা ধর্মীয় জ্ঞান কিছুটা লাভ করে; কিন্তু বাস্তব জগতে আর কিছুরই কি প্রয়োজন নেই ? যেসব রাজনীতিবিদ বা সমাজের কর্ণধার ধর্ম নিয়ে মাতামাতি করেন, ধর্মীয় শিক্ষার উপর জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দেন বা প্রবন্ধ লিখেন, তাদের সন্তানরা হয় সাধারণ স্কুলে পড়ে অথবা ইংলিশ মিডিয়ামে, ও লেভেল, এ লেভেল এই ধরনের কোর্সে পড়ে। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জন করে ধনীর সন্তানরাই সমাজের উঁচুতলায় অবস্থান করছে। শ্রেণী শোষণ ও শ্রেণী বৈষম্য টিকিয়ে রাখার একটা গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ও হাতিয়ার হচ্ছে শিাব্যবস্থা। সাধারণ স্কুল-কলেজ থেকে এসএসসি, এইচএসসি পাস করে কেউ কেউ উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ বিশেষ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। অথবা ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিকেল থেকে পাস করে প্রকৌশলী বা ডাক্তার হন। এখন ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, এগ্রিকালচার ইত্যাদির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ও আছে। উচ্চবিত্তের ইংলিশ মিডিয়াম, আর ঠিক তার বিপরীতে অপর প্রান্তে মাদ্রাসা শিক্ষা যেমন ছিল, তেমনি থাকছে। পরিবর্তন করা হচ্ছে সাধারণ স্কুলের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা কোর্স। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো। ১৯৬৩ সালের আগে ম্যাট্রিক পরীক্ষার জন্য সব ছাত্রের একই শিক্ষাকোর্স ছিল। কলেজে উঠে আর্স ও সায়েন্সে ভাগ হতো। ১৯৬৩ সালে এসএসসির কাঠামোতে নবম-দশম শ্রেণীতেই মানবিক, বিজ্ঞান আর বাণিজ্য এই তিন ভাগে ছাত্র ছাত্রীরা বিভক্ত হয়ে যায়। এই নিয়মটি এখনো পর্যন্ত চালু রয়েছে। নতুন প্রস্তাবে বলা হচ্ছে, দশম শ্রেণী পর্যন্ত সব ছাত্রছাত্রী একই কোর্সের অধীনস্থ হবে। অর্থা ১৯৬৩ সালের পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাওয়া হবে। কিছু বাধ্যতামূলক ও কিছু ঐচ্ছিক বিষয় মিলিয়ে একেবারে নতুন ধরনের এবং বেশ জটিল এক শিক্ষাকোর্স করা হয়েছে। সব বিষয়ের জন্য শতকরা তিরিশ ভাগ মার্ক স্কুলের শিক্ষকের হাতে রেখে দেয়া হয়েছে, তার জন্য কোনো পরীক্ষা হবে না।
১৯৬৩ সালের আগে দশম শ্রেণী পর্যন্ত এবং ম্যাট্রিক (বা এসএসসি) পরীক্ষার্থী সব ছাত্রের জন্য একই সিলেবাস অথবা নবম শ্রেণী থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য এই তিনটি বিভাগে বিভক্ত করাÌকোনটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কেউ কেউ বলেন, অত নিচু ক্লাসে ভাগ করাটা সঠিক নয়। ১৫/১৬ বছর বয়স পর্যন্ত সব বালক-বালিকাকে একই শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন, যার মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ছাড়াও ইতিহাস, ভূগোল, সমাজবিজ্ঞান ও প্রকৃতিবিজ্ঞানের কিছু বিষয় থাকা উচিত। এর চেয়ে কম বয়সে ছাত্র বা ছাত্রী ঠিকমত বাছাই করতে পারে না, কোনটা তার জন্য উপযুক্ত বিজ্ঞান, মানবিক না বাণিজ্য ? আবার অনেকে বলেন, নবম শ্রেণীর ছাত্র বা ছাত্রীর পক্ষেই বাছাই করা সম্ভব। এখনকার চলতি নিয়মে এগারশ’ মার্কসের পরীক্ষার মধ্যে সাতশ’ মার্কসের পরীক্ষা তিন বিভাগের জন্যই বাধ্যতামূলক। ইংরেজি, বাংলা, সাধারণ গণিত, ভূগোল ও ধর্মশিক্ষা সবার জন্য সমান। ধর্ম শিক্ষার বিষয়টি ১৯৬৩ সালের পরেও ছিল না। এটা চালু করেছেন সামরিক শাসক এরশাদ। এমনকি পাকিস্তান আমলে যখন ইসলাম ধর্মকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যবহার করা হয়েছিল বাংলার জনগণের অধিকারকে দমন করার জন্য, তখনো ধর্মকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। পরেও না। মাধ্যমিক পর্যায়ে ধর্ম শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার দাবিও কেউ উত্থাপন করেননি, এমনকি সাম্প্রদায়িক বা ধর্মের নামে যে সব রাজনৈতিক দল আছে তারাও এই দাবি উত্থাপন করেনি। সামরিক শাসক এরশাদ শ্রেফ হীন রাজনৈতিক স্বার্থে চরম ভণ্ডামির আশ্রয় নিয়েছিলেন। যেমন সংবিধানে ‘ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম’ যোগ করার বিষয়টি। এরশাদের চালু করা এই শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম করার মতো ভণ্ডামিপূর্ণ কাজের প্রতিবাদ সেদিন করেছিল ছাত্রসমাজ ও প্রায় সব গণতান্ত্রিক শক্তি। পরবর্তীতে এরশাদের পতন হয়েছে। পালাক্রমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু এই জায়গায় কেউ আর হাত দেয়নি। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা ও সংবিধানের ক্ষেত্রে এরশাদ যে ক্ষতি করে গেছেন, তা সংশোধন করলে কোনো দলের বিশেষ ক্ষতি হতো না। তাছাড়া নীতিগতভাবে অবস্থান নেয়াও তো দরকার। আমাদের দেশের আমলা মুৎসুদ্দী বুর্জোয়া লুটেরা ধনিক বণিক শ্রেণী স্বার্থের বড় বড় প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের কোনো নীতিগত অবস্থান নেই ।
এখন যে তথাকথিত একমুখী শিক্ষা চালু করার প্রস্তাব এসেছে, তাতেও একশ’ মার্কসের ধর্ম শিক্ষা আগের মতোই থাকছে। ধর্ম শিক্ষাকে ঐচ্ছিক করার বিরুদ্ধে আমি নই। কিন্তু যা পাকিস্তান আমলেও ছিল না, যা কেবল এরশাদই চালু করেছেন, তা কোনোক্রমেই যুক্তিসঙ্গত নয়। এ সম্পর্কে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড· মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, ‘স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদ আশির দশকে ক্ষমতায় এসে ধর্মের নামে ভণ্ডামির একটা অন্যতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। কোনো মহল থেকে কারো কোনো দাবি ছিল না, তারপরও তিনি ধর্ম শিক্ষাকে মাধ্যমিক পর্যায়ে আবশ্যিক করে দিলেন, সঙ্গে সঙ্গে উচ্চতর গণিত ঐচ্ছিক বিষয় হিসাবে নির্বাচিত হলো। আমাদের দেশের বিজ্ঞান শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি এভাবে করে গেছেন একজন স্বৈরাচারী জেনারেল।’ অধ্যাপক ড· মুহম্মদ জাফর ইকবাল মনে করেন যে, নবম শ্রেণী থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্যে যে বিভাগের সিষ্টেম চলে আসছে ১৯৬৩ সাল থেকে, তা যুক্তিসঙ্গত। তিনি মনে করেন, এখনকার ব্যবস্থায় দেখা যাচ্ছে নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞানের ছাত্ররা কিছুটা উঁচু পর্যায়ের বিজ্ঞান ও গণিত আয়ত্ত করতে পারে। কিন্তু একমুখী শিক্ষার নামে বিজ্ঞান শিক্ষাকে নিচে নামিয়ে আনা হলো, যা তার মতে মোটেও কাঙ্খিত নয়। তা নিয়ে শিক্ষাবিদদের আরো আলোচনা, প্রকাশ্য বিতর্ক ও লেখালেখি, সেমিনার, গবেষণা হওয়া দরকার। কিন্তু হঠাৎ করে এমন পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন প্রস্তাবের আগে গোটা বিষয় নিয়ে যথেষ্ট প্রকাশ্য আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া দরকার। অন্যথায় ছোট ছেলেমেয়েদের শিক্ষা নিয়ে এত ছেলেখেলা হবে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
তথাকথিত একমুখী শিক্ষার নামে মাধ্যমিক পর্যায়ে যে কোর্স ও সিলেবাস প্রস্তাব করা হয়েছে, তা এক বিদঘুটে কোর্স চালু করা হচ্ছে। এই বিষয়েও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল খুবই নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। গোটা কোর্সের ও সিলেবাসের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘কারো যদি ধৈর্য থাকে তাহলে হিসেব করে বের করতে পারবেন, সব মিলিয়ে ১৮টি ভিন্ন ভিন্ন বিষয় এবং ১ হাজার ২শ’ মার্কস।’
শিক্ষকের হাতে তিরিশ শতাংশ মার্কস রেখে দেয়া পরিপূর্ণরূপে অযৌক্তিক প্রস্তাব। পরীক্ষা নয়, শুধু স্কুলের শিক্ষক নিজস্ব বিবেচনার ভিতিতে ছাত্রকে মার্কস দেবেন, সর্বোচ্চ গোটা মার্কসের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। আমাদের মতো দেশে যেখানে দুর্নীতি, প্রভাবশালী ব্যক্তির চাপ, মাস্তানের ভয়ভীতি ইত্যাদি কাজ করে, সেখানে পরীক্ষা বিহীন মার্কস দেয়ার এতটা অধিকার বা সুযোগ কেন দেয়া হবে ? প্রথম কথা সব স্কুলের মান এক রকম নয়। দ্বিতীয়ত এই তিরিশ শতাংশ মার্কসের জন্য কোনো বিশেষ পদ্ধতিও নির্ণয় করা সম্ভব নয়। সবটাই নির্ভর করবে বিশেষ শিকের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর। আমলা মুৎসুদ্দী বুর্জোয়া লুটেরা ধনিক বণিক শ্রেণী তথা বিত্তবানের বা প্রভাবশালী ব্যক্তির সন্তানরা যে এই বিশেষ সুবিধা ভোগ করবে, তা চোখ বুজে বলে দেয়া যায়।
বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় শিক্ষা ক্ষেত্রে এতবড় দুর্নীতির ক্ষেত্রে তৈরি করা যে কত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, তা ভাবতেও ভয় হচ্ছে। এমনিতেই আমাদের দেশে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ শুরু হয়েছে এবং এই বাণিজ্য ক্রমাগত বেশ রমরমা হয়ে উঠেছে। আগে দেখা যেত ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বা প্রথম কুড়ির মধ্যে স্থান পাচ্ছে প্রায় অখ্যাত গ্রামের কোনো স্কুলের মেধাবী ছাত্র। এখন দেখা যায়, প্রায়ই শহরের কয়েকটি চিহিত স্কুল থেকে ছাত্রছাত্রীরা সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট করছে। এর অর্থ কি এই যে, এখন সব মেধা জমা হচ্ছে মাত্র কয়েকটি স্কুলে ? আরো দেখা যায়, সাধারণত, বিত্তবান ঘরের সন্তানরা ভালো রেজাল্ট করছে। এর দুটো কারণ চিহ্নিত করা যায়। এক, মাত্র কয়েকটি বাদে অন্যান্য স্কুলে, বিশেষ করে গ্রামের স্কুলগুলোতে লেখাপড়াই হয় না। দুই, শিক্ষা এখন ব্যয়বহুল। কোনো কোনো ধনীর সন্তানের একাধিক প্রাইভেট শিক্ষা আছে। ইংরেজি ও অংকের জন্য কোনো কোনো ছাত্রের প্রাইভেট টিউটর লাগে সাধারণত পরীক্ষার আগে । এখন ধনীর ঘরের কলেজপড়ূয়া ছেলেমেয়েদের জন্য একাধিক প্রাইভেট টিউটর থাকে। ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্যও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয় এবং সে জন্যও উচ্চ বেতনের কোচিং কাসের প্রবর্তন হয়েছে। মোট কথা শিক্ষা এখন একটি পণ্য। এ নিয়ে বাণিজ্য চলে। যার যত টাকা, তার সন্তানের জন্য তত ভালো শিক্ষা। ভালো শিক্ষা কি না সেটাও বিতর্কের বিষয়। অধিক টাকায় অধিক মানের শিক্ষা সার্টিফিকেট।
প্রকৃত শিক্ষা কার্যত বিদায় নিয়েছে। শিক্ষা এখন বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষার কিছুটা প্রসার হয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। সাধারণ শিক্ষা, ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে যে বৈষম্য এবং সামাজিক বিভাজন চলছে, তা নিয়ে কোনো কথা হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রকৃতই বিস্তৃতকরণের কোনো উদ্যোগ নেই। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বিষয়ে কোনো আপে নেই। শিক্ষা সংকটাপন্ন এবং শিক্ষকদের যথার্থ সমস্যা নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা নেই। হঠাৎ করে ‘একমুখী সমন্নিত’ শিক্ষা চালু করার ভাবনাটা এলো কেন এবং কোথা থেকে ?
শিক্ষাব্যবস্থার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আনাড়িপনা ও এক্সপেরিমেন্টের পরিণাম সত্যিই ভয়াবহ। তাই নতুন এক্সপেরিমেন্টে যাওয়ার আগে খুব ভালো ও গভীরভাবে ভাবার এবং আলোচনা ও প্রকাশ্য বিতর্কের সুযোগ দেয়ার জন্য বর্তমান তত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




