somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোগ নির্ণয়ের নামে বানিজ্য...!···

০২ রা জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৪:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের রোগব্যাধি নিরুপণের প্রধান ধাপ ডায়গনষ্টিক সেন্টার। কিন্তু এই ডায়গনষ্টিক সেন্টারের প্যাথলজি টেষ্ট নিয়ে জনগণের বিভ্রান্তির কোন শেষ নেই। প্যাথলজি পরীক্ষা নিয়ে রয়েছে নানান গালগল্প। তাই এর জন্য প্রশ্ন ওঠে প্যাথলজি টেষ্ট করেন কারা?

কামরুল হাসান, একটি বেসরকারি হাই স্কুলের প্রধান শিকক্ষ। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য গিয়েছিলেন ডায়গনষ্টিক সেন্টারে। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার, “শ্রীমঙ্গল ডায়গনষ্টিক সেন্টারে” গত ২৬ জুন এমপি টেষ্ট করানোর পর পজেটিভ রিপোর্ট দেওয়া হয় তাকে। রিপোর্ট দেখে সন্দেহ হয় কামরুল ইসলামের। তিনি সাথে সাথে শহরের অন্য ডায়গনষ্টিক সেন্টার পপুলারে একই টেষ্ট করতে দেন। সেখানে তার রিপোর্ট আসে ভিন্ন অর্থাৎ নেগেটিভ।

দুটি জায়গার ভিন্ন টেষ্ট রিপোর্ট পাওয়ায় কোনটি সঠিক তা নিয়ে মহা সমস্যায় পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় বারের মতো একই দিন শহরের অন্য আরেকটি জনতা পলি ডায়গনষ্টিক সেন্টারে এমপি (্লাইড মেথড) ও এমপি (র‌্যাপিড মেথড আরএফটি) টেষ্ট করান। সেখান থেকে তাকে রিপোর্ট দেওয়া হয় একটি পজেটিভ ও আরেকটি নেগেটিভ। এমতাবস্থায় শিক কামরুল ইসলাম ভীষণ বিপদে পড়েন। এখন তিনি কোন টেষ্টটি সঠিক মনে করবেন। গত শতকের পঞ্চাশ দশক পর্যন্ত ডায়গনষ্টিক সেন্টারে প্যাথলজি পরীক্ষা করতেন ডাক্তাররা।

পঞ্চাশ দশক থেকে প্যাথলজি পরীক্ষায় সাহায্যকারী হিসেবে ল্যাব এসিষ্ট্যন্টের আগমণ ঘটে এবং ষাট দশক থেকে এই ল্যাব এসিষ্ট্যন্টগণই প্যাথলজী পরীার শতকরা ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করতেন। তবে রিপোর্টে দস্তখত করেন ডাক্তাররা। কিন্তু এখন অনেক অদ টেকনিশিয়ান দ্বারা মলমূত্র সহ বিভিন্ন পরীা করানো হচ্ছে। তাই শুধু একজন কামরুল হাসান নয় সারা দেশে আজ অসংখ্য কামরুল হাসান প্রতারিত হচ্ছে ডায়গনষ্টিক সেন্টারের নামে খুলে রাখা অসৎ ব্যবসায়ীদের দ্বারা পরিচালিত এইসকল চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে।

তাদের নেই কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা, নেই জবাবদিহীতা। প্রতিনিয়তই আইনকে তারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাচ্ছে। আর এর ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ। কতিপয় প্রতিষ্ঠান ডায়গনষ্টিক সেন্টারের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ভূয়া রিপোর্ট সর্বস্ব রমরমা ব্যবসা কেন্দ্র। মানব সেবাকে পুঁজি করে সারাদেশে আজ অসংখ্য ডায়গনষ্টিক সেন্টার গজিয়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মতো। রোগ নির্ণয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ডায়গনষ্টিক সেন্টারগুলোর ভুল রিপোর্টে রোগীরা মানসিক ও আর্থিক দুভাবেই প্রতারণার শিকার হচ্ছে।

একেকটি থানা শহরে গড়ে উঠেছে বর্তমানে অনেকগুলো ডায়গনষ্টিক সেন্টার, জেলা ও বিভাগীয় শহরে আরো বেশি রাজধানীতে এর সংখ্যা কত হবে তার সঠিক হিসাব সম্ভবত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছেও নেই। বেশ কিছুদিন আগে “সমকালে” ছাপা হয়েছিলো রাজশাহী শহরে ১৩৬ টি কিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের মধ্যে ৯০টিই সরকারি অনুমোদন ছাড়া চলছে। একটি বিভাগীয় শহরের এ চিত্র দেখে স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে সারাদেশে অনুমোদনহীন অবৈধ ডায়গনষ্টিক সেন্টারগুলোর সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।

আমরা খবরের কাগজে প্রায়ই দেখতে পাই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ঘটনা। কিন্তু এই মৃত্যুর জন্য ডায়গনষ্টিক সেন্টারগুলো কি তাদের দায় এড়িয়ে যেতে পারবে। আমরা ঢালাওভাবে ডাক্তারের দোষ দিয়ে যাচ্ছি। একটি বারও কি চিন্তা করেছি ডায়গনষ্টিক সেন্টার থেকে দেওয়া রিপোর্টটির কথা। কতটুকু সঠিক ছিল সেই রিপোর্ট। তাই হয়তো বা কিছু কিছু মৃত্যুর কারণ হতে পারে ডায়গনষ্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্ট। সঠিক রোগ নির্ণয় করতে না পারলে রোগীরা বঞ্চিত হয় সুচিকিৎসা থেকে। ভুল রিপোর্টে অনেক সহজ রোগ ধারণ করে জটিল রোগে।

অভিযোগ আছে কতিপয় কমিশন ভোগী ডাক্তারদের নিকট রোগীরা শরণাপন্ন হলেই তাদেরকে বিভিন্ন টেষ্ট লিখে দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের পছন্দের ডায়গনষ্টিক সেন্টারে। ক্ষেত্রে ডায়গনষ্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টের পরও কমিশনের ভাগবাটোয়ারার কারণে কোন আইনী পদপে নেওয়া হচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে। তাই অদ টেকনিশিয়ান দিয়েও প্যাথলজি চালাতে কোন অসুবিধা নেই তাদের। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতা গ্রহণের পর স্বচ্ছতা এসেছে সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই।

কিন্তু ডায়গনষ্টিক সেন্টারগুলোর কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে এর কোন প্রভাবই যেন পড়ছেনা তাদের উপর। চিকিৎসা সেবা নাগরিক মৌলিক অধিকার হলেও এক্ষেত্রে যে কি বেহাল দশা তা বলার অপো রাখে না। ডায়গনষ্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসা সেবার নামে চলছে নৈরাজ্য। যা ব্যবসা বাণিজ্যর সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। সাধারণ মানুষগুলো তাদের নিকট প্রতিনিয়তই হচ্ছে বলির পাঠা। চিকিৎসা সেবার নামে তাদের রমরমা বাণিজ্য বন্ধের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগী হতে হবে।

শিক কামরুল হাসানের মতো এ দেশের অসংখ্য কামরুল হাসানদের তাদের হাত থেকে রা করার জন্য, ডায়গনষ্টিক সেন্টারগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ ও জবাবদিহি মুলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন।
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×