বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ, ফুলজ ও ভেষজ বৃক্ষের চারা উৎপাদন ও বিপননে নার্সারীর ভুমিকা অপরিসীম। এক সময় নার্সারীর সাথে তেমন পরিচিত ছিলনা সাধারন মানুষ। ৯০এর দশক থেকে নার্সারীর গুরুত্ব বেড়ে যায় সরকারী ভাবে বনায়নের উদ্যোগ নিলে।
নির্বিচারে সংরতি বনাঞ্চলের বৃক্ষ নিধনের ফলে বিশ্বময় এর প্রভাব পড়ে। প্রাকৃতিক পরিবেশ হয়ে পড়ে ঝুঁকিপুর্ন। বাংলাদেশ সরকার বনায়নের ক্ষেত্রে নড়েচড়ে ওঠে। ‘গাছ লাগান- পরিবেশ বাঁচান’ শ্লোগানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বনায়নের কাজ। বাড়ির আনাচে কানাচে, রাস্তার পাশে সরকারী, বেসরকারী ও ব্যক্তি উদ্যোগে বনজ, ভেষজ ও ফলজ বৃ রোপনের হিড়িক পড়তেই নার্সারীর প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশী দেখা দেয়। সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায় হাতে গুনা ২/৩ টি নার্সারী ছিল। বর্তমানে জেলার ৭ উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ৪৭৫ টি নার্সারী রয়েছে।
বর্তমানে নার্সারী লাভজনক হওয়ায় মানুষের উৎসাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ছোট বড় নার্সারী রয়েছে প্রায় শতাধিক। তবে পুজি ও সরকারী সহযোগিতার অভাবে অনেকেই নার্সারীর প্রসার ঘটাতে পারছেন না। তবুও নার্সারীর মৌসুম এপ্রিল থেকে চলছে চারা বিক্রয়ের ধুম। প্রতিদিনই শ্রীমঙ্গলের নার্সারীগুলো থেকে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ, ভেষজ ও ফুলের চারা ব্যক্তি, কোম্পানী ও এনজিও গুলো ট্রাক, টেম্পু ও ঠেলাগাড়িতে করে কিনে নিচ্ছে। বেশী বিক্রি হচ্ছে আকাশী, মেনজিয়াম, মেহগনী, সেগুন ,গর্জন চাপালিশ, ইউক্যালিপ্টাস প্রভৃতি। তাছাড়া ফুলের বাগান ও সবজির খামারের জন্য অনেকেই নার্সারী থেকে সংগ্রহ করছে পছন্দের দেশী বিদেশী ফুলের চারা ও ফলের চারা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন নার্সারী ঘুরে ও আলাপ করে জানা যায় এক খন্ড ধানী জমিতে ফসল করলে যে পরিমান আয় হয়, নার্সারীর মাধ্যমে সে পরিমান জমিতে ৪ গুন বেশী আয় হয়ে থাকে। তবে এজন্য দরকার মেধা, শ্রম ও বিনিয়োগ। নার্সারীর আয় থেকে যেমন হতে পারে স্বাবলম্বী তেমনি বেকার সমস্যা দুরিকনরনে তা হতে পারে মডেল। এমনি এক নার্সারীর নাম ‘শেখ মনপীর (রঃ) নার্সারী’। সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের সাড়েরগজ গ্রামে ১৯৯৯ সালে এটি প্রতিষ্টা করেন শ্রীমঙ্গল কাজী অফিসের সহকারী কাজী মৌলভী মোঃ আবু মুছা। ছিলেন অভাবগ্রস্থ ও বেকার। বর্তমানে তিনি স্বাবলম্বীই নয়, নার্সারী আয় থেকে কিনেছেন ৪৫শতক ভুমি, করেছেন পাকা ঘর ও প্রতিষ্টা করেছেন পোলট্রিখামার।
শুধু তাই নয় নার্সারীর আয় থেকে তিনি পারিবারিক খরচসহ আয় করছেন প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা। আবু মুছা বর্তমানে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নার্সারী সমিতির সাধারন সম্পাদক। তার সাথে নার্সারীর ব্যাপারে কথা হয়। তিনি তার নার্সারীতে ১৩৯ প্রজাতির চারা উৎপাদন ও বিপননের কথা বলতে বলতে দেখালেন সফলতার চিত্র। তিনি বলেন মাত্র ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ’৯৯এর জুন মাসে নার্সারীর কাজ শুরু করেন। বর্তমানে আড়াই লাখ টাকার চারা রয়েছে। আরও চারা উৎপাদন করছেন বলে জানান। এগুলোর মধ্যে সেগুন, আকাশী, মেহগনি, মেনজিয়াম, গর্জন, গামারী, সিকরাশি, অর্জুন, বহেরা, আমলকি, নিম, লুকলুকি, লটকন, জলপাই, পেপেঁ, পেয়ারা, লিচু, সুপারী, নারকেল,জামরুল, ছফেদা, শরিফা, ডালিম, পলি পেয়ারা ইত্যাদি।
নার্সারী দেখা শোনা ও পরিচর্যায় নিয়মিত রয়েছে ৪ জন মানুষ। তাদের বেতনসহ মাসিক খরচ হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা। নার্সারীর বিবিধ খরচ হয় প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা। এসব খরচ বাদ দিয়ে মাসে লাভ হচ্ছে ১৫থেকে ২০ হাজার টাকা। তার উৎসাহ এবং সহযোগিতায় আরও ৬ টি ছোট ছোট নার্সারী হয়েছে। চলতি বছরে নতুন ভাবে ৩/৪টি নার্সারী হচ্ছে। তার মতে নার্সারী হতে পারে বেকার সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার। ঐকান্তিক ইচ্ছা, সততা, মেধা ও শ্রমের বিনিময়ে নার্সারীর প্রতিষ্টার মাধ্যমে হয়ে ওঠতে পারে স্বাবলম্বী।
যা বর্তমান সময়ের জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ন বিষয়।
নার্সারী প্রতিষ্টা করতে সরকারী সহায়তার ব্যাপারে আবু মুছা বলেন, কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের পরামর্শ ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋন পেলে নার্সারী প্রতিষ্টায় মানুষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেতো। কিন্তু সরকারের প থেকে কোন সহযোগিতা করা হয়না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর বৃ মেলায় নার্সারীর ষ্টল দিয়ে ঢাকডোল পিটানো হলেও নার্সারীর সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নে কারো কোন ভুমিকা নেই। ব্রাকের টিআইপি কৃষিবিদ মোঃ লিয়াকত আলীকে নার্সারীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন সারা দেশে নার্সারীর প্রতি মানুষকে উৎসাহী করার কাজ করছে ব্রাকের টিআইপি।
ঋন সুবিধা ও প্রশিনের ব্যাপারে কেন উদ্যোগ নেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন ব্যাংক ঋনের ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা দরকার। তবে ব্রাক নার্সারী বিষয়ে কোন ঋন কার্যক্রম চালাচ্ছে না, শুধু অর্গানাইজ করছে, উৎসাহীত করছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



