somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সোশ্যাল মিডিয়ার মন্তব্য বিভ্রাট

০২ রা মে, ২০২১ ভোর ৬:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা যে সব মন্তব্য করি তার বেশিভাগই ফালতু এবং অহেতুক। আমি ভেবে পাই না, মানুষ এতো সময় পায় কই? যদিও বা সময় পায়, এদের রুচির এই অবস্থা কেন? রুচির কথাও না হয় বাদ দিলাম, এদের কি বিবেক বুদ্ধি সম্পূর্ণ লোপ পেয়েছে না'কি? জটিল জটিল সব হিসেব তারা এক তুড়িতেই কষে দিতে চায়। এদের মধ্যে মধ্যে বেশি ভাগই তথাকথিত শিক্ষিত সম্প্রদায়ের লোকজন। যে শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়, এ শিক্ষা কি সেই শিক্ষা?

আসলে এসব ট্রল, তামাশা, তাচ্ছিল্য, ব্যঙ্গ যারা করে, না পাওয়ার বেদনা কি তাদের অন্তরে নেই? তারা কি পরিপূর্ণ? নির্ভুল? সবকিছুর উর্ধ্বে? আজকাল কেন মানুষ কাউকে অপমান করার আগে একবারও এই চিন্তা করে না যে, ধীরে ধীরে সেও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে? এসব অযাচিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াগুলো তাদের মানসিক শান্তি, রাতের ঘুম কেড়ে নেবে। তার ভেতরে থাকা পুণ্য আত্মার মৃত্যু ঘটাবে। না বোঝে, না বুঝুক গে। হুজুগের এই দেশে বেশি কিছু বললেও, মানুষ ভাবে লেকচার দিচ্ছে!

আসলে সম্মিলিতভাবে কিছু করার জন্যই সোশ্যালাইজেশন। অথচ আমরা ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি।

যেমন ধরুন, যে বছর বন্যা হয়, সে বছর ফসল খারাপ হবে। এটা একটা কো রিলেশন। কিন্তু বন্যার কারণেই যে ফসল খারাপ হবে, এটা জোর দিয়ে বলা যায় না। আরো অন্যান্য অনেক বিষয় মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। অথচ, একদল লোক থাকবে, যারা এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে কোন যুক্তিই খুঁজে পাবে না। এবং বিরোধী পক্ষকে ভাববে বোকা, গর্ধব ইত্যাদি।

আবার, বাংলাদেশে গরমকালে অপরাধ বেশি হয় এবং গরমকালে মানুষ আইস্ক্রিম বেশি খায়। তাহলে অপরাধের সাথে আইস্ক্রিমের একটা রিলেশন বের করা হলো। এখন যদি বলা হয়, আইস্ক্রিম খাওয়ার কারণে অপরাধ বেড়ে যায়, তাহলে কি সেটা ঠিক হবে? না। কারণ, কো রিলেশন থাকলেই কারণ সেটা হবে না।

অন্য দিকে, বাংলাদেশে সাংবাদিক হল বিশেষ এক প্রজাতি। এদের কাজ হল সব সময় সেনসেশনাল বস্তু নিয়ে নিউজ করা এবং সাধারণ মানুষকে দিয়ে উল্টা পাল্টা কমেন্ট করতে প্রলুব্ধ করা। কিন্তু আমি যে নিউজ করছি, সেটা ঠিক কিনা, সাধারণ জনগণ বুঝতে পারছে কিনা, এটাও মাথায় রাখতে হবে। নিউজের ইম্প্যাক্ট কি এটাও বুঝতে হবে। যে কোন ধরণের সেন্সিটিভ টপিক খুব সাবধানতার সাথে হ্যান্ডেল করতে হয়। আমাদের দেশে সেটা করা হয় না।

মনে করেন, অনলাইন পেপারে নিউজ আসল "নেইমারের মুখে থুতু মারল গ্রিজম্যান।"

ভিতরে গেলে দেখা যাবে আসল নিউজ হল গ্রিজম্যান উত্তর দিকে থুতু মেরেছে। আর ঐ সময় উত্তর দিকে ১০০০ কিলোমিটার দূরে নেইমার দাঁড়িয়ে ছিল। অথচ, "টেকনিকালি" অনলাইন পেপারের ভাষায় এই থুতু নেইমারের মুখে গিয়ে পড়েছে।

আবার মনে করুন, নিউজ হয়েছে, "শিক্ষিত মেয়েরাই ডিভোর্সের শীর্ষে"। এই নিউজের কমেন্টে গেলে দেখা যাবে সবাই তাদের জ্ঞান ফলাতে এসে পড়েছে।

"মেয়েদের পড়াশোনার কি দরকার?"

"শিক্ষিত মেয়েরাই সমাজ নষ্টের মূল।"

"এই সব মেয়েরা নিজের ইনকাম শুরু করলে জামাইকে গোনায় ধরে না।"

ব্লা ব্লা ব্লা...

ঘটনা হলো, এই সব মেয়েরা যে ডিভোর্স দিচ্ছে, কেন দিচ্ছে? ডিভোর্সের কারণ কিন্তু এটা না, যে তারা শিক্ষিত এবং স্বাবলম্বী।

ডিভোর্সের কারণ হতে পারে হাসবেন্ডের নির্যাতন, হয়তো হাজবেন্ড পরিবারের খেয়াল রাখে না, হয়ত বনিবনা হচ্ছে না। হাজারটা কারণ আছে। কিন্তু কারণটা "শিক্ষিত" আর "স্বাবলম্বী" মেয়ে না।

মেয়েরা শিক্ষিত হলে, নিজের ইনকাম থাকলে সেই মেয়েকে নির্যাতন করাটা কঠিন। নির্যাতন করলেও সেই মেয়ে মুখ বুজে থাকবে - এটা ভাবা ভুল। একটা মেয়ে যদি পড়াশোনা না করে, নিজের ইনকাম সোর্স না থাকে, তাহলে সেই মেয়ে মুখ বুজে সকল নির্যাতন সহ্য করে। কারণ, তার আসলে যাওয়ার কোন জায়গা নাই। আর এটাই চায় বাংলাদেশী সোসাইটি!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০২১ সকাল ৯:৩৮
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×