somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাবলিয়াস সাইরাসের উপদেশাবলী

০৯ ই জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাবলিয়াস সাইরাস (৮৫-৪৩ বিসি) ছিলেন একজন সিরিয়ান লোক এবং রোমান দাস। তিনি তার বুদ্ধি ও প্রতিভা দিয়ে তার মালিকের সম্মান আদায়ে সক্ষম হন। মালিক তাকে শিক্ষা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।



পাবলিয়াস সাইরাস বিখ্যাত তার নীতিবাক্যগুলির জন্য। তার নীতিবাক্য নিয়ে যে বইটি আছে তার নাম দ্য মোরাল সেইংস অব পাবলিয়াস সাইরাস, এ রোমান স্লেইভ।

পাবলিয়াস সাইরাসের উপদেশাবলী:

১. অপরাধী খালাস পেয়ে গেলে বিচারকই দণ্ডিত হন।

২. এমনকি যখন আমরা যা চেয়েছি তা পেয়ে যাই, তখনো সেটি আমাদের নয়।

২. অন্যের দুঃখে নিজের সুখ খুঁজে নেবেন না।

২. বন্ধুর দোষের ব্যাপারে অন্ধ হবেন না, এবং দোষের জন্য তাকে ঘৃণাও করবেন না।

৩. আপনার পিতামাতা ন্যায়বিচারক হলে সম্মান করুন, না হলে সহ্য করুন।

৪. বিপদ বা খারাপ অবস্থা দেখিয়ে দেয় আমাদের বন্ধু আছে নাকি বন্ধুর ছায়া আছে।

৫. একজন নারী তখনই ভালো হয়, যখন সে হয় প্রকাশ্য কূটচারী।

৬. যেখানে ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, সেখানেও সতর্ক দৃষ্টি রাখুন।

৭. একজন নারী হয় ভালোবাসে নয়ত ঘৃণা করে, মাঝামাঝি কিছু সে জানে না।

৮. আমাদের উচিত নিজেদের সৌভাগ্যের প্রভু হওয়া, অন্যথায় সে আমাদের তার দাস বানিয়ে ফেলবে।

৯. আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে রাগিয়ে তুলুন, যদি চান সে আপনাকে ভালোবাসুক।

১০. যে মানুষ নিজেকে সুখী মনে করে না সে কখনো সুখী হতে পারে না।

১১. অন্যের ভুল দেখে প্রজ্ঞাবানেরা নিজেদের শুধরে নেন।

১২. একজন প্রজ্ঞাবান নিজের মাইন্ড বা চিন্তার প্রভু, এবং একজন গর্দভ তার মাইন্ড বা চিন্তার দাস।

১৩. একজন দেবতা একইসাথে প্রজ্ঞাবান হতে এবং ভালোবাসতে পারেন, এমন খুবই কম হয়।

১৪. আত্ম-অনুসন্ধানের মাধ্যমেই মানুষের যুক্তিক্ষমতা (বুদ্ধি বা রিজন) বৃদ্ধি পায়।

১৫. একজন মানুষ সত্যিকার সুখী হলে দেবতাও তাকে বিরক্ত করতে চান না।

১৬. জীবন সবচাইতে আনন্দদায়ক যখন তা মূর্খতার ভিতর দিয়ে অতিবাহিত হয়।

১৭. একজন ভালো মানুষকে পাবার আগে আপনি আরো প্রচুর জিনিসের মুখোমুখি হবেন।

১৮. একজন মহাসাধুর শিষ্য হওয়া বৃথা যদি না তোমার নিজের বুদ্ধি থাকে।

১৯. ক্ষত শুকিয়ে গেলেও দাগ থেকে যায়।

২০. যে পরিকল্পনা বদলানো যায় না সেটা বাজে পরিকল্পনা।

২১. যে কেবল নিজের জন্যই বাঁচে সে অন্যের কাছে মৃত।

২২. প্রজ্ঞাবানের মতো হওয়া এবং প্রজ্ঞাবান হওয়ার মধ্যে বিরাট পার্থক্য বিদ্যমান।

২৩. একজন প্রজ্ঞাবান নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করেন আর একজন গর্দভ তার আবেগের নিয়ন্ত্রণে চলে।

২৪. অনেকেই উপদেশ পায়, কিন্তু খুব অল্প লোকই এর থেকে সুবিধা আদায় করে নিতে পারে।

২৫. আপনাকে না ডাকা হলে কাউন্সিলে চলে যাবেন না।

২৬. সফলতা কিছু অপরাধকে সম্মানজনক করে তোলে।

২৭. প্র্যাকটিস হচ্ছে সবচাইতে বড় শিক্ষক।

২৮. যা করতে পারবেন কখনো তার চাইতে বেশি করার কথা দিবেন না।

২৯.চেষ্টা করার আগ পর্যন্ত কেউই জানে না সে কী করতে পারে।

৩০. সবচাইতে বড় সাম্রাজ্য হলো নিজের উপর নিজের শাসন।

৩১. নিরব থাকুন অথবা নিরবতার চাইতে ভালো কিছু বলুন।

৩২.আমি নিজের কথা নিয়ে অনেক অনুশোচনা করেছি, কিন্তু নিজের নিরবতা নিয়ে কখনো অনুশোচনা করতে হয় নি।

৩৩. একজন হার্পার (ফোক মিউজিশিয়ান) হতে না পারলে, একজন পাইপার (বংশীবাদক) হোন।

৩৪. ভালো কাজের মাধ্যমে আমরা দেবতাদের কাছাকাছি যেতে পারি।

৩৫. কেবল একজন চতুর বা গর্দভই বলে থাকে ভালো কাজ হারিয়ে যায়।

৩৬. যে দিতে জানে না, সে যেন গ্রহণও না করে।

৩৭. একজন ইতর লোকের সর্বোচ্চ উদারতা, একজন উদার লোকের ইতরতার মতো।

৩৮. যে আপনাকে একবার ধোঁকা দিয়েছে তার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

৩৯. ভ্রমণে একজন প্রীতিকর সঙ্গী হলো বাহনের মতোই ভালো।

৪০. যা শুনেন তার সব নিয়ে ভাবুন কিন্তু বিশ্বাস করবেন প্রমাণসহ যা পান তা।

৪১. বাড়ি নির্মাতার উচিত না বাড়িকে অর্ধনির্মিত অবস্থায় ফেলে রাখা।

৪২. সৈন্যদের সাহস নির্ভর করে সেনাপতির প্রজ্ঞার উপরে।

৪৩. গৌরবহীন জীবন মৃত্যুর কাছাকাছি।

৪৪. আপনি কখনো অসুখী না হলে মানুষেরা মনে করবে আপনি অসুখী।

৪৫. যে কেবল নিজের স্বার্থে ভালো তাকে খারাপ বলা উচিত।

৪৬. সবচাইতে সহজে অপরাধ লুকানো যায় জনতার ভীড়ে।

৪৭. সব খারাপ কাজের পেছনে একটি অজুহাত তৈরি আছে।

৪৮. যে ভূমিতে আপনি সুখে থাকতে পারেন সেটাই আপনার দেশ।

৪৯. আপনি যদি নিজেকে ভালোবাসেন তাহলে সর্বদাই কিছু লোক থাকবে যারা আপনাকে ঘৃণা করে।

৫০. শত্রুর ফাঁদের চাইতে বন্ধুদের ঈর্ষাকে বেশি ভয় করুন।

৫১. নতুন বন্ধু হলে পুরনো বন্ধুদের ভুলে যাবেন না।

৫২. যে বন্ধুদের অবিশ্বাস করে, সে আসলে শব্দটির মর্ম জানে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৪১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×