![]()
হ্যালো, আমি অভি। বর্তমানে প্রচণ্ড রকমের সুখী একজন মানুষ। সুখে থাকার জন্য খুব বেশি কিছু প্রয়োজন হয় না। দামী গাড়ি, পাঁচতলা বাড়ি, অঢেল টাকা কিছুই না। (আমার স্বল্প জ্ঞানে সুখে থাকার মূল উপকরণ হিসেবে এগুলোরই নাম আসে। হয়ত এর চেয়ে বেশি কিছুও থাকতে পারে। ) তো যা বলছিলাম, আমার এসবের কিছুই নেই। তারপরেও আমি সুখী। সুখে থাকার জন্য আসলে দরকার কিছু টেকনিক। সেই টেকনিকগুলোই শিখিয়ে দি কেমন?
১. স্বার্থপর হতে হবেঃ এটা হচ্ছে সুখী হওয়ার একদম প্রথম শর্ত। শুধু নিজেকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে। অন্য কেউ বাচলো কি মরলো, খেল কি উপাস থাকলো এগুলো ভাবা যাবে না। তবে মা-বাবা,ভাই -বোনের কথা আলাদা। They are family. এদের প্রতিটা সুবিধা অসুবিধার দিকে খেয়াল রাখা উচিত।
২. প্রেম করা যাবে নাঃ অন্যতম বাইক্কা কাজ আমার মতে। অনেকদিন ধরে নিজের চারপাশে অবজার্ভ করার পর এবং নিজেও একটা প্রেম করার পর আমার এই ধারণা আরো পরিপক্ব হয়েছে। ৯৭% প্রেম ফেইলিউর। কোন ভবিষ্যৎ নাই এগুলোর। কয়েকদিন একসাথে ঘোরাফেরা আর ডার্ক রেস্টুরেন্ট পর্যন্তই এদের দৌড়। এর পর নতুন আরেকজন আসে। আর যে কয়জন ফ্যামিলির বাধা অগ্রাহ্য করে বিয়ে পর্যন্ত যায় তারাও বেশিরভাগ সময়ই সুখী হয় না। কাজেই প্রেম করে বিয়ে করে সুখী হয় মাত্র ১% মানুষ। আপনি যে সেই ১% এর মধ্যে নেই সেটা নিশ্চয় বলে দিতে হবে না?
৩. অন্যের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামানো যাবে নাঃ ফ্যামিলি বা বন্ধুদের সমস্যার কথা আলাদা। এসবে জান প্রাণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত। আমি মিন করেছি ফেসবুক, অন্যান্য সোশাল মিডিয়া আর খাজুরে বন্ধুদের কথা। নিজেকে দিয়েই উদাহরণ দিচ্ছি। কোন এক অদ্ভুত কারণে আমার বেশ কিছু ছেলে এবং মেয়ে বন্ধু প্রেম ঘটিত ব্যাপারে আমার এডভাইস চায়। আমার সাথে তাদের অনেক ব্যক্তিগত কথা শেয়ার করে। প্রথম দিকে আমার মাথায় আসতো না কেন!! কারণ আমি নিজেই প্রেম করে সফল হতে পারি নাই। আমার কাছে এডভাইস চাওয়ার কি আছে? বেশ ভালমানুষের মত তাদের কথা শুনতাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা, মনে মনে চিন্তা ভাবনা করে, নেট ঘেঁটে সমাধান বের করার চেষ্টা করতাম। এমন অনেক সময় হয়েছে, দুজনের ব্রেকআপ ফাইনাল, আর জীবনেও মিল হবে না, আমার কাছে এসে কান্নাকাটি করলো। আমি শান্তনামূলক কথা বললাম, A shoulder to cry হলাম। কিন্তু কিছুদিন পর তারা নিজেরা বেশ ভাল হয়ে গেলো, আর আমার শান্তনামূলক কথার জন্য আমিই খারাপ হয়ে গেলাম তাদের চোখে।
যদি মনে করে থাকেন খুব বেশী স্বার্থপরের মত কথা বলছি, বন্ধুদের সমস্যায় তো বন্ধুদেরই যাওয়া উচিত, তাহলে আমার লজিকটা দেখাই। মিডল ক্লাস ফ্যামিলি থেকে এসেছি, একবেলা খাওয়ার পর অন্য বেলায় খাবার কোথা থেকে আসবে সেটা নিয়ে তেমন ভাবতে হয় নি। স্বাভাবিক ভাবেই আমার বন্ধুরাও একই বা আরেকটু উঁচু লেভেলের। এর শ্রেণীর ছেলে-মেয়েদের স্কুল থেকে শুরু করে ফ্যামিলির দায়িত্ব নেয়ার আগ পর্যন্ত তেমন কোন কাজ থাকে না। টেনশন থাকে না। তাদের যাবতীয় দুঃখ- কষ্টই হয় প্রেম ভালবাসা রিলেটেড। তাই নিশ্চিন্তে এসব বাজে ঝামেলা এড়িয়ে যেতে পারেন। তবে অন্য কোন সমস্যা হলে অবশ্যই এগিয়ে আসা উচিত।
৪. নিজেকে সুখী ভাবতে হবেঃ আমি হাসি। হাসার মত কোন সুযোগ পেলেই প্রাণ খুলে হাসি। যেখানে মুচকি হাসি দিলে চলে সেখানে অট্টহাসি দি, আর যেখা অট্টহাসি দেয়া দরকার সেখানে হেসে গড়াগড়ি খাই । যত হাসবেন ততই মন ভালো থাকবে। আর নিজেকে বারবার বোলতে হবে আমি সুখী আমি সুখী। তাহলেই একটা সময় পরে আপনার আর দুঃখের অনুভূতি থাকবে না।
অনেক কথা লিখে ফেলেছি। আরো বেশি লেখার ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু ইন্টারনেটে লোকে এত কথা পড়তে চায় না। সবাই অণু কাব্য সাইজের লেখা খোঁজে। আমি নিজেই পড়ি না, লোকের কি দোষ দিব! আরো অনেক টেকনিক জানা আছে আমার সুখী হবার। কারো প্রয়োজন হলে বলবেন। জানিয়ে দিব। বি হ্যাপি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



