[ একটা তথ্য বলে রাখা ভালো । আমরা তিন বন্ধু(রাসেল, মুন্না ও আমি) এক বড় ভাইয়ের সহায়তায় সাইবার ক্যফে সহ একটা কম্পিউটার ফার্ম দিয়েছিলাম ধানমন্ডি 27 নম্বর রোডে । রাসেলই সারাদিন ফার্মটি দেখে রাখত । কারন আমি আর মুন্না পড়ার চাপে তেমন সময় দিতে পারতাম না । ]
তো যেই চিন্তা সেই কাজ, Decission নিয়ে ফেললাম ঐ দিন রাতেই কোন এক ট্রেনে করে রওনা দিব । এই বলে সবাই যার যার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যে ।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা কমলাপুর রেলষ্টেশনে মিলিত হলাম । আগের থেকেই জানতাম কোন টিকেট মিলবে না । তাতো মিলে নাই উলটো শুনলাম যে সিলেটের ট্রেন কিছুক্ষন আগে ঢাকা ছেড়ে গিয়েছে সিলেটের উদ্দেশ্যে । কি করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না । হঠাৎ রাসেল একটা বুদ্্বি দিল । তখনো চট্রগ্রাম গামী তূর্ণা এক্সপ্রেস ছাড়তে আরো 15-20মিনিট বাকী ছিল । এক পুলিশকে বলাতে সে তাদের কম্পার্টমেন্টে আমাদের জন্যে 3টা সিটের ব্যবশতা করে দিল জনপ্রতি 50টাকার বিনিময়ে এই শর্তে যে আমাদের আখাওড়া নেমে জেতে হবে । আখাওড়ায় নামার পর আমরা উদয়ন নামক একটা লোকাল ট্রেনে উঠলাম । মুলত এখানে যে বিব্রতকর পরিসতিথিতে পরেছি তা নিয়েই এই লিখাটি ।
উদয়ন এক্সপ্রেসে উঠার পর দেখলাম এখানকার সিটগুলি একটু অন্যরকম । একটা বগিকে কয়েকটি অংশে বিভক্ত করে প্রতিটি অংশে দুটি মুখোমুখি লম্বাটে সিট বসানো এবং প্রতিটির উপরে একটি শোয়ার জায়গা রয়েছে । আমরা যখন একটা অংশে প্রবেশ করলাম দেখলাম যে একটা সিট পুরোপুরি খালি এবং অন্যটিতে কেউ একজন মাথা পর্যন্ত চাদর ঢেকে ঘুমাচ্ছে । যাই হোক আমরা গল্প গুজব করে সময় পার করছিলাম । পরবর্তী ষ্টেশনে ট্রেন থামার পর দেখি আমাদের সামনের সিটে 2জন মহিলা ও 1টি ছোট ছেলে এসে বসল । এখন আসি আসল ঘটনায় । মহিলাদের সিটের উপরে যে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিল সে কিছুক্ষন পরপর পস্রাব করতেছিল । মহিলারা অনবরত তাকে গালি দিয়ে যাচ্ছিল । কিন্তু ঐ লোকের কোনো বিকার নাই । একসময় মহিলারা তাকে পানি ছিটালো, ধাক্কা মারলো । কিন্তু বিধিবাম, কোনো লাভই হল না । ব্যপারটা আমরা খুবই এনজয় করলাম এবং একটু অবাক হলাম ঐটুকুন পুচকে ছেলের গালির ষ্ঠক শুনে ।
ধন্যবাদ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



